• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

কূটনীতিকদের অতি দৌড়ে, সরকারে মারাত্মক অস্বস্তি।

Reporter Name / ৪৬ Time View
Update : সোমবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩

-রিন্টু আনোয়ার
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে দেশে ফিরে এসেছে রাজনৈতিক সংঘাত, সহিংসতা, যা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি’র অধিকাংশ নেতা জেলে-পলাতক থাকার পরও তাদের সমমনা দলগুলো ধারাবাহিকভাবে হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি নিয়ে তাদের অধীনেই নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর।
দেশের রাজনীতির এই বিরোধ-সহিংসতা নিয়ে বসে নেই ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকরাও। চলে যাচ্ছেন বিভিন্ন দলের নেতাদের কাছে। আবার নেতারাও যাচ্ছেন এক্সেলেন্সিদের কাছে।
অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোই খুব বেশি নেতিবাচক ভাবে দেখাছেন। বিভিন্ন প্রকার নিষেধাজ্ঞা প্রদানসহ তাদের উৎকণ্ঠা এবং আপত্তির কথা জানিয়ে চলছে। পাশাপাশি ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেছেন, ‘স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চেয়ে জরুরি অবাধ নির্বাচন’। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস উইটলি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে তাদের নিয়মিত সংলাপ চলবে’।
যার ফলে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের এ দেশের দলগুলোর সঙ্গে ‘নিয়মিত সংলাপ’রাজনীতি-কূটনীতিতে এখন স্বাভাবিক বিষয়। সব রাজনৈতিক দল তাদের সঙ্গে কথা বলেও একপ্রকার স্বস্তি পাচ্ছে। কিন্তু সরকারের জন্য এখন এটি মারাত্মক অস্বস্তির।
ফলে বিদেশি কূটনীতিকদের দৌড়ঝাপে বিরক্তির কথা জানাতে একটু্ও বাকি রাখেনি সরকার। সীমা লঙ্ঘন না করার আহ্বানটাও জানিয়েছে ওয়ার্নিংয়ের মতো করে। এরপরও দমছেন না যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কূটনীতিকরা। বরং তাদের তৎপরতা দিন দিন আরো বেড়েছে। সরকারের কাছে এটি এক ধরনের স্পর্ধার মতো। এরইমধ্যে কেবল রাজনীতি-নির্বাচন নয়, আইন-বিচার-প্রশাসন-গার্মেন্টস কোনো সেক্টরই বাদ দিচ্ছেন না কূটনীতিকরা।
বার বার বারণ করার পর বিদেশি কূটনীতিকদের তা না মেনে উপরন্তু আরো তৎপরতা দেখানো সরকারের জন্য আরো বেশি বিরক্তিকর,বিব্রতকর। সরকারের হিতাকাঙ্খী কেউ কেউ এর টোটকা চিকিৎিসা হিসেবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসসহ কয়েকজন কূটনীতিককে বহিস্কার বা কোনো অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেয়ার বুদ্ধি বাতলাচ্ছে। পিটার হাসকে প্রকাশ্যে পেটানোর অভিপ্রায়ও এসেছে ক্ষমতাসীন মহল থেকে। এর আগে, কোনো কোনো দূতকে তলবের মতো ঘটনায়ও এ মহলটির প্রভাব বা ইন্ধন ছিল। কিন্তু, পরে সামলানো যায়নি। তলবে পরে চায়ের আমন্ত্রণ বলে চালানো হয়েছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল।
জাতি সংঙ্গের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের টুইটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বন্দি হিসেবে দেখা সরকারের জন্য অন্যতম বিরক্তিকর ঘটনা। ভলকার টুর্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো এক চিঠিতে  জরুরি চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে  মুক্তি দিয়ে বিদেশ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।  চিঠিতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি দু’পক্ষের রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই যাতনা তথা ডিস্টার্বের মাঝেই শ্রমিকদের ওপর চালানো সহিংসতায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈধ ট্রেড ইউনিয়নকে অপরাধীকরণের বিরুদ্ধে এবং নূন্যতম মজুরির জন্য বাংলাদেশের পোশাক খাতের বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের ওপর চালানো সহিংসতায় নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য ও কারখানা শ্রমিক রাসেল হাওলাদারের গত সপ্তাহে পুলিশের হাতে নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র দুঃখ প্রকাশের সঙ্গে শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নের ওপর চলমান দমন-পীড়ন নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানানো হয়েছে। শ্রমিকরা যাতে সহিংসতা, প্রতিশোধ বা ভয়ভীতির হুমকি ছাড়াই সংগঠনের স্বাধীনতা এবং যৌথভাবে দর কষাকষির অধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই বল সরকারের কোটে ঠেলে দেয়ার কাজটিও করেছে। এক পর্যায়ে বলেছে, শ্রমিকদের সেই অধিকার সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগ থেকে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের। জবাবে আ্ওয়ামী লীগ থেকে এসেছে কঠিন কথা। বলা হয়েছে, বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচন করতেই হবে, এ কথা সংবিধানে লেখা নেই। পৃথিবীর কোনো আইনেও লেখা নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নির্বাচনেও অনেক রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে না। ক্ষমতাসীনদের এ ধরনের কথা নির্বাচন কমিশনের জন্যও বিব্রতকর। তা পাশ কাটাতে এবং নিজেকে সহি-শুদ্ধ রাখতে বিএনপিকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আপনারা নির্বাচনে অংশ নিন, আসুন আমাদের সঙ্গে কথা বলুন। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ   বৈঠকটিতে বিএনপি যায়নি। নির্বাচন কমিশন বিএনপি তাদেরকে চিঠি দেয়ার মতো লোকও খুঁজে পায়নি। নয়াপল্টনে বিএনপির বন্ধ অফিসে ইসির লোক গিয়ে তালার সাথে চিঠি লাগিয়ে দিয়ে ফেরত গেছেন। এর কদিন  আগে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে ঝড়ের গতিতে ছুটে গেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। বেশ সময় নিয়ে কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে। পিটার হাস বিএনপিকে নির্বাচনে আনার ব্যবস্থা করতে বলেছেন-এমন ধরনের কথাও চাউর আছে বাজারে। নির্বাচনী ঢামাঢোলের এই পথপরিক্রমায় গজবের মতো কাণ্ড ঘটে বসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষীপুরে।
উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী দেখানো হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাহান আলম সাজুকে। আর শাহজাহান কামালের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া লক্ষীপুরে গোলাম ফারুক পিংকুকে। এমনিতেই এই আসন দুটির নির্বাচন বা ফলাফল নিয়ে দেশের মানুষের এমন কি ওই এলাকার ভোটারদেরও  গরজ ছিল না। ফাঁকা মাঠে বিশাল ভোটে বিজয়ী দেখানো হয় তাদের। তাও আবার সমানে ভোট জালিয়াতিতে। সেটাও সমস্যা ছিল না। সমস্যা দেখা দেয়, লক্ষ্মীপুরে ব্যালট বইয়ে নৌকা মার্কায় এক যুবকের ম্যাজিক গতিতে সিল মারার ঘটনা ভাইরালে। ভাইরাল হওয়া ৫৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, গলায় নৌকার কার্ড ঝুলিয়ে ওই ব্যক্তি চরম এক স্মার্টনেসে সমানে সিল মারছে। তাকে নৌকায় সিল মারতে সহযোগিতা করছেন রুমে থাকা আরেকজন। দুয়ে মিলে ৫৭ সেকেন্ডে এক নাগাড়ে ৪৩টি ব্যালটে নৌকায় সিল মারার রেকর্ড গড়ে তারা।
সিল মারায় পারঙ্গম ব্যক্তি আজাদ ছিলেন ওই নির্বাচনী এলাকার সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ খাগুড়িয়া সরকারি প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট। চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। প্রথমে স্যোশাল মিডিয়া, পরে মূল ধারার গণমাধ্যমেও ব্যাপক তোলপাড় তৈরি করে  ভোট কাটার ঘটনাটি। এর জেরে এক পর্যায়ে আসন দুটির গেজেট স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ঘটনার পিঠে ঘটনা।
নির্বাচন কমিশন ভালো করলো না খারাপ করলো? এ নিয়ে আলোচনার ধুম। ভালো করলেও সেটা লোক দেখানো বলে মন্তব্য করতেও ছাড় দেয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন কী পারে, কী পারে না-সেই আলোচনাও বাদ যাচ্ছে না। সর্বশেষ আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন পুরো আসনের ভোটের ফলাফল স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। তাহলে কী পারে নির্বাচন কমিশন? পারে, শুধু মাত্র যে যে কেন্দ্রে সমস্যা হয়েছে, সেই সেই কেন্দ্র স্থগিত বা বাতিল করতে।  তাহলে এটা কেন করলো? সরকারি পরামর্শে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলের চোখে ধূলো দিতে? এমনতর কতো যে কথা ঘুরছে গত কদিন ধরে।  নিয়ম রক্ষার জন্য রাস্ট্রের কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে সংসদের দুটি আসনে উপ নির্বাচন করতে হয়েছে। তা না করার বিধান নেই। আইন বলে কথা।  নির্বাচনের পর এখন আরেক বাগড়া। ধামাকা। বিনোদন। তাদের বিজয়ী করে শপথ পাঠ করানো হলেই বা কী হতো? তারা  নামের সাথে এমপি যোগ করতে পারতেন। কিছু সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারতেন। কিন্তু সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে পারতেন না। কারন চলতি সংসদের আর কোন অধিবেশন বসবে না। নির্বাচন কমিশনের জন্যও হয়েছে একটা জ্বালা। এমন অ্যাকশনে প্রশংসার বদলে উঠছে উল্টা বাড়তি প্রশ্ন। – যে ইসি দুটি আসনের উপনির্বাচনই ঠিকভাবে  করতে পারে না, তারা ৩০০ আসনে কী করবে-এ প্রশ্নের তীর কাজী হাবিবুল আওয়াল কমিশনের দিকে।
এ রকম সময়ে এসে দৌঢ়ছুট আরো বেগবান মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের। এ স্রোতে হঠাৎ শামিল যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার সারাহ ক্যাথরিন কুকও। নিজ বাসভবনে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে। তা আবার ইউকে ইন বাংলাদেশের এক্স হ্যান্ডেলে (টুইটার) একটি পোস্টে জানানোও হয়েছে। আওয়ামী লীগের পর কুক বৈঠক করেছেন বিএনপির প্রতিনিধির সঙ্গেও। এর মাঝে আবার বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবেনিজের উদ্বেগের খবর। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, আসন্ন নির্বাচন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করায় দায়ীরা যাতে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে অ্যান্টনি আলবেনিজকে চিঠি লিখেছেন দেশটির ১৫ জন এমপি। এ ধরনের খবরগুলো সরকারের জন্য এ সময়ের জন্য বিব্রতকর।
এর মধ্যে বিশ্বের প্রভাবশালী পত্রিকা টাইম ম্যাগাজিন, যেটি পিটার ডি হাসের দেশের পত্রিকা সারাহ কুকের লন্ডনের সাংবাদিক চার্লি ক্যাম্বেল সরেজমিনে সাক্ষৎকার ভিত্তিক একটি কভার স্টোরিটি করেছেন আস্থা রাজবংশীর সহযোগিতায়। প্রচ্ছদে গণভবনের রিসিপশন রুমে বিলাসবহুল সিল্কের শাড়ি পরনে কঠিন ব্যক্তিত্বের শেখ হাসিনা সাক্ষাতকারটির এক জায়গায় বলেই ফেলেছেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাকে উৎখাত করা এত সহজ নয়,’ তিনি বলেন। ‘একমাত্র বিকল্প হল আমাকে নির্মূল করা এবং আমি আমার জনগণের জন্য মরতে প্রস্তুত।’
‘প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা অ্যান্ড দ্য ফেট অব ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক টাইম ম্যাগাজিনে চার্লি ক্যাম্পবেলের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটি ক্ষমতাসীনদের দিক থেকে শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রচ্ছদ করায় পুলক ধরে রাখা যায়নি। কারণ এই পুলকিত গ্রুপটি পুরো স্টোরিটি পড়েননি।
তবে, ‘শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে প্রশংসা এবং সমালোচনা দুটোই আছে।যেমন,বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন বিস্ময়কর রাজনৈতিক নেতা, যিনি গত এক দশকে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ব্যাপক উত্থান ঘটিয়েছেন বললেও, পাশাপাশি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের অধীনে বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদী রূপ নিয়েছে। ব্যালট বাক্স দখল এবং হাজার হাজার ভুয়া ভোটার সহ নানা উল্লেখযোগ্য অনিয়মের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্যরা গত দুটি নির্বাচনের নিন্দা জানিয়েছ। স্বৈরতন্ত্রের দিকে বাংলাদেশের ঝুঁকে পড়া নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে সর্বশেষ দুটি গণতন্ত্র সম্মেলনে হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র জানায়- নির্বাচনকে ব্যাহত করলে যে কোনো বাংলাদেশির ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। এর জবাবে, হাসিনা সংসদে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে “গণতন্ত্র বাদ দেয়ার চেষ্টা করছে”। তার এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাস জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন “কোনো পক্ষকে বেছে না নেয়ার ব্যাপারে সতর্ক”।
হাসিনার জন্য বড় সমস্যা হলো তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হলে তিনি সম্ভবত একই ধরণের দমনমূলক প্রতিশোধের সম্মুখীন হবেন যেমনটি তার সরকার এখন করছে। ঢাকা-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক-সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর নির্বাহী পরিচালক এবং টকশো হোস্ট জিল্লুর রহমান বলছিলেন, “আওয়ামী লীগ খুব ভয়ে আছে। তাদের কোনো ‘সেইফ এক্সিট’ নেই।”
লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category