• রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনী পাগলা ঘোড়ার হাকডাক! পাল্টাপাল্টি ‘হুঁশিয়ারি’

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৩

-রিন্টু আনোয়ার

যেভাবেই হোক নির্বাচন হবেই-সাফকথা প্রধানমন্ত্রীর। তার দলের সাধারণ সম্পাদকের প্রশ্ন- দুয়েকটা দল না এলে ইলেকশনের কী ক্ষতি? এ প্রশ্নের জবাব আছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মুখে। তিনি বলে রেখেছেন- এক শতাংশ ভোট পড়লেও ওই নির্বাচনআইনগতভাবে বৈধ হবে।
মোটামুটি কথা পরিস্কার সরকারের। মতলবও বোধগম্য। যেনতেন হলেও নির্বাচন একটা করে ফেলবে সরকার। নির্বাচন কমিশন, ডিসি-ওসিসহ নির্বাচন তুলে আনার কারিগররা প্রস্তুত। নির্বাচনী পাগলা ঘোড়া ছুটিয়ে দেয়া হয়েছে মিলেমিশে। এ পাগলা ঘোড়াকে গন্তব্য পর্যন্ত নেয়া যাবে কিনা-এ প্রশ্ন ঘুরছে নানা মহলে। গন্তব্যে পৌঁছতে না পারলে ঘোড়ার কী দশা হবে, ঘোড়ার আরোহী, আশপাশের সারথীদের কী হবে, ঘোড়ার আস্তবলটিরই তখন কী চিত্র দাঁড়াবে- এসব ভাবনাও আছে। ক্ষমতাসীনদের ভাবনা ভিন্ন। তা অবশ্যই অভিজ্ঞতার আলোকে। দেশ স্বাধীনের দুবছরের মাথায় ৭৩ সালে জাসদসহ কিছু দলের ঝাঁঝালো অ্যাকশনের মধ্যেও তারা নির্বাচন কেবল তুলেই আনেনি, প্রায় সব সিট নিয়েও গেছে। এরপরও নিজেদের ভোটের অধিকারের আন্দোলনের ইমাম প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলোকে রাজপথে ফেলে জেনারেল এরশাদের অধীনে ৮৬ সালে নির্বাচনে গিয়ে বোঝাপড়ার বিরোধীদল হয়েছে।
জেনারেল এরশাদের অধীনে কেউ নির্বাচনে গেলে জাতীয় বেঈমান হবে ঘোষণা দেয়ার কথা মনে করিয়ে দিলে কথা ঘুরিয়ে অন্য কথায় চলে গেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনের আরেক অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে ২০১৪ সালে। ভোটের আগেই সরকার গঠনের জন্য দরকার ১৫৪ সিটে এমপি নির্বাচিত কেরে ফেলা হয়েছে বিনাভোটে। ২০১৮ সালের মাত্রা ভিন্ন। আগামীকালের ভোট আগের রাতে সেরে ফেলার দৃষ্টান্ত-আলোচনা সর্বত্র। এরপরও বাংলার মাটিতে নিজেদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিদার তারাই। প্রচার-প্রচারনায় এ দাবি প্রতিষ্ঠা করে ছাড়ার অবিরাম চেষ্টা আছে তাদের। বহুমাত্রিক এসব অভিজ্ঞতার আলোকে মাস দুয়েক পর জানুয়ারিতে আরেকটি নির্বাচন করে ফেলার  যাবতীয় সাহসী আয়োজনে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। পারবে বলেও আশাবাদী। জনগণকে তা জানান দেয়া হচ্ছে আরো জোরেসোরে। বিশ্বাস বদ্ধমূল করতে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে রোখা যাবে না। যে যত কথা বলুক না কেন, ছলেবলে নির্বাচন তারা করেই ছাড়বে। সেই নির্বাচন আইনত বৈধও হবে। কয়েকদিন আপত্তি করে পরে বিদেশিরাও ২০১৪-১৮’এর মতো তা মেনেও নেবে। এই সমীকরণে দেশের সর্বত্রদদ দাবড়ে দেয়া হয়েছে নির্বাচনী পাগলা ঘোড়া।
এদিকে মাঠে বিএনপিসহ বিরোধীপক্ষ এই নির্বাচনী পাগলা ঘোড়া রোখার সক্ষমতা দৃশ্যত দেখা যাচ্ছে না। যদিও বলছে, ২০১৪/১৮ আর হতে দেয়া হবে না। কিন্তু, কিভাবে, কোন হিম্মতে? সেইক্ষেত্রে কি ভরসা পশ্চিমা শক্তি! ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের কলঙ্কের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে পরপর অনুষ্ঠিত দুটো গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানায়নি। র‌্যাবের কিছু কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকার সংশ্লিষ্ট অনেক রথি- মহারথি উপর দিয়েছে  ভিসা নিষেধাজ্ঞা।পাশাপাশি অবিরাম তাগিদ দিচ্ছে অংশগ্রহণ মূলক-সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের। গত দেড় বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা কদিন পরপরই ঢাকায় ছুটে আসছেন। তারা প্রত্যেকেই দিচ্ছেন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ, ইনক্লুসিভ নির্বাচনের চাপ। সঙ্গে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার পরামর্শ। ঢাকায় নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এ নিয়ে অন্তহীন ব্যস্ত তাদের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। বর্তমানে তার অ্যাসাইনমেন্টই মনে হয় এটাই। সেইসঙ্গে বিরোধীদলের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে যোগ হয়েছে বিশ্ব পরিস্থিতি। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় বিশ্বে কোন স্নায়ুযুদ্ধ ছিল না।এখন সর্বত্রই স্নায়ুযুদ্ধের ঘনঘটা। যা প্রতিদিনই তীব্র হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে ‘যেভাবেই হোক নির্বাচন হবেই’ ধরনের হুঙ্কার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত- আলোড়িত। এরইমধ্যে সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ঘুরে যাওয়া মার্কিন পর্যক্ষেক দল সংলাপসহ অফিসিয়াল ৫ সুপারিশ পাঠিয়েছে।
অক্টোবরের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত ঢাকা সফর করে মার্কিন পর্যক্ষেক দল যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সুপারিশগুলো বাংলা-ইংরেজি উভয় ভাষায় পাঠিয়েছে যেন কেউ বিকৃত করতে না পারে। মতামতের প্রথমেই সংলাপের আহবান করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করতেও অনুরোধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সম্মান জানাতে বলা হয়েছে সকল নাগরিকের ভিন্নমতকেও। দেশের নাগরিক যেন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতার দুই দিনের সফর শেষে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্টের অবস্থান জানিয়ে বলে গিয়েছেন,আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখবে যুক্তরাষ্ট্রে। একই সঙ্গে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের শান্তিপূর্ণ উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্র জোর দিচ্ছে। তিনি,ঢাকা সফরে বেশ স্পষ্ট করেই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যাপারে তার সরকারের আশাবাদের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন প্রাক্‌-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের পাঁচ দফা সুপারিশকে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সমর্থন করে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশসহ নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফর করে গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউর প্রাক্-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। এর মাঝে আবার জাতিসংঘের বার্তাও যোগ হয়েছে। নির্বাচন ইস্যুতে অবস্থান পরিবর্তন করেনি বলে মনে করিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ। বলেছে ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক সংবাদ সম্মেলন করে আগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।  একই সঙ্গে এমন একটি পরিবেশ দেখতে চায়, যেখানে মানুষ প্রতিশোধের ভয় ছাড়া যে কোনো পক্ষে কথা বলতে পারবে । এছাড়া ম্যান্ডেট না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে না জাতিসংঘ।
বুঝতে কারোই অপেক্ষা থাকছে না, জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্ববাংলাদেশের নির্বাচনের ব্যাপারে একাট্টা। গ্রেট ব্রিটেন, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, জাপানসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এই কাতারে।  তাদের মোটিভ অনেকটাই পরিস্কার। আবার ‘তরে তলের’ কথা বাদ দিলে সরকারের মতিগতিও স্পষ্ট।  ‘যেভাবেই হোক নির্বাচন হবেই’-গোতে অটল সরকার। তারওপর পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি’। আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিকে করুণ পরিণতির বার্তা। সেইসঙ্গে কোমর–মাজা ভেঙে দেয়া, ঢাকায় ঢুকতে না দেয়া, বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়ার মতো ফৌজদারি দণ্ডনীয় ধমকি। বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে, একটাকেও পালাতে দেয়া হবে না। জাতীয়-আন্তর্জাতিক অস্থির সময়ে তাদের এ ধরনের হুঙ্কার সাধারণ মানুষকে ভয় না জাগিয়ে পারে না।
প্রসঙ্গক্রমে স্মরণ করতে হয়, স্নায়ু-যুদ্ধের সময় ১৯৭০ সালের নির্বাচন পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীকার, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালিরা এক হয়েছিল। এই আকাঙ্ক্ষাগুলো বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলগুলো ১৯৬৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহকে বেছে নিয়েছেলো। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে ন্যাপ এবং কমিউনিস্টরা শেখ মুজিবুর রহমানকে বেছে নিয়ে নির্বাচনে ওয়াক ওভার দিয়েছিল। এতদসত্ত্বেও, স্নায়ু-যুদ্ধের সময় অনুষ্ঠিত সে নির্বাচনের ফলাফল আওয়ামী লীগ ঘরে তুলতে পারেনি। সমগ্র জাতি মিলে মুক্তিযুদ্ধ করতে হয়েছিল। এখন নতুন স্নায়ু-যুদ্ধের সময় ২০২৪ সালের নির্বাচন। যখন বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্ধিতের মোড়কে গৃহবন্ধী হয়ে হাসপাতালে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাসনে, মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সকল সদস্যের বিরুদ্ধে ডজন ডজন ফৌজদারি মামলা। কারো বিরুদ্ধে শতের ওপরে মামলা। ১৫ বছর একটানা ক্ষমতায় থেকে স্নায়ু-যুদ্ধের সময় পশ্চিমা বিশ্বকে বৈরী করে বর্তমান সরকার চতুর্থবারের মতো একতরফাভাবে ক্ষমতায় আসার আশা আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে। তৃতীয় কোনো শক্তি গজবে সেই ভয়ও করছে না সরকার।
সেই আলোকে নির্ভয়ে আরেকটি নির্বাচন তুলে নেয়ার সরকারের যাবতীয় চেষ্টা চলছে। অভাব-অনটনের কারণে কৃচ্ছতাসাধনের আহ্বানের মাঝেও প্রশাসনকে প্রনোদিত রাখা হচ্ছে। অনুমোদিত পদ না থাকলেও পদোন্নতিসহ সুযোগ-সুবিধার অংশ হিসেবে এবার সচিবদের প্লট দেয়া হচ্ছে রাজধানীর অভিজাত আবাসিক প্রকল্প পূর্বাচলে। তা রিজার্ভে যতো টানই থাক,  দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যতো খারাপই হোক, বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষের যতো নাভিশ্বাসই উঠুক। ভোটের আগে তোহফা দেয়ার মতো  দেয়া হচ্ছে আরো নানা সুযোগ-সুবিধা। গত মার্চে মাসে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে নতুন গাড়ি কেনা যাবে না বলে সরকার পরিপত্র জারি করলেও মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে ডিসি-ইউএনওদের জন্য বিলাসবহুল ২৬১টি গাড়ি কেনার তোড়জোর। এতে মোট ব্যয় হবে মাত্র ৩৮০ কোটি টাকা।  নির্বাচন ‘সুষ্ঠু করতে হলে ডিসি-ইউএনওদের ভালো গাড়ি দিতে হবে। এ নিয়ে কোনো রাখঢাক নেই। আইনমন্ত্রী ডেমকেয়ারে সাংবাদিকদের বলে দিয়েছেন, যাদের জন্য নতুন গাড়ি কেনা হচ্ছে, তাঁরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। কথা একদম পরিস্কার। নির্বাচনের সময় সাধারণত ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ইউএনওরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। কেবল পাস–ফেল করানো নয়, বিনাভোট-রাতের ভোটসহ যাবতীয় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজগুলো তারাই করেন।  ডিসি-ওসিসহ প্রশাসনের অনেকে এবার নির্বাচনের ঢের আগ থেকেই সরকারি দলের জন্য বেদম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।  আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানানোর প্রকাশ্য কাজও করছেন। এর জের কোথায় গিয়ে ঠেকবে, ফলাফল কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে- এ নিয়ে অনেক কানাঘুষা রয়েছে। গুঞ্জন-গুজবও কম নয়।

লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট
rintu108@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category