• সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ০১:২৩ অপরাহ্ন

মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ বাংলাদেশে কাঠগড়ায়

Reporter Name / ৩৭ Time View
Update : রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৫০ লাখ সদস্যের প্রায় অর্ধেক (২৫ লাখ) নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। নির্বাচনের আগে এসব নেতাকর্মীকে আন্দোলনের চেয়ে কোর্টে হাজিরা ও মামলা চালানো নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

ক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যুরো প্রধান মুজিব মাশালের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জনাকীর্ণ আদালত কক্ষগুলোতে দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পদ্ধতিগতভাবে শ্বাসরোধ করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা, সদস্য ও সমর্থক বিচারকের সামনে দাঁড়ান। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সাধারণত অস্পষ্ট এবং এর পক্ষে সামান্যই প্রমাণ পাওয়া যায়। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে বিরোধী দলকে নিশ্চল করে দেয়ার চেষ্টা এখন বেশ স্পষ্ট।

সম্প্রতি এক সকালে বিএনপির নেতা সাইফুল আলম নিরবকে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাতকড়া পরিয়ে তোলা হয়।নিরবের নামে ৩১৭ থেকে ৩৯৪টি মামলা রয়েছে। তার উকিলরাও মামলার সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত নন। আদালতের বাইরে আরও ডজনখানেক সমর্থক ছিলেন যাদের বিরুদ্ধে ৪০০টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। তারা একটি গলিতে অপেক্ষা করছিল যেটি বৃষ্টিতে স্যাঁতসেঁতে হয়েছিল। নতুন রাজনৈতিক বন্দিদের জায়গা দিতে সেখান থেকে পুলিশ বারবার বাঁশি বাজিয়ে তাদের সরিয়ে দিচ্ছিল।

আব্দুল সাত্তার নামে একজন সমর্থক বলেন, আমি আর কোনো চাকরি করতে পারছি না।তার বিরুদ্ধে ৬০টি মামলা রয়েছে। সপ্তাহে তিন বা চার দিন তার আদালতেই কেটে যায়। এক মামলা থেকে আরেক মামলার জন্য দৌড়ানোই এখন তার জীবন।

মুজিব মাশাল লেখেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ মানেই একটি অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্প ছিল। গার্মেন্টস রপ্তানি শিল্পের উপর দৃঢ় ফোকাস বাংলাদেশকে ডলারের স্থির প্রবাহ নিশ্চিত করেছে। এই শিল্পের কারণে অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে এসেছে।

কিন্তু এই সফলতার নিচে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক একত্রীকরণের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিরোধী নেতা, বিশ্লেষক ও অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, এর লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করা। ক্ষমতায় থাকা গত ১৪ বছরে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন। এসব জায়গা তার অনুগতদের দিয়ে ভরে ফেলেছেন। তার টার্গেটে রয়েছেন শিল্পী, সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং এমনকি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসও।

ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিরোধীরা ভোটটিকে দেখছে তাদের শেষ লড়াই হিসেবে।

অপরদিকে শেখ হাসিনার সহযোগীরা বলছেন, কোনোভাবেই বিএনপিকে জিততে দেওয়া যাবে না। কারণ তারা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে তারা আমাদেরকে ‘হত্যা করবে’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারি ও ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের অর্থনীতিতে এটা বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্যমূল্য ও বিদ্যুতের ঘাটতি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। যখন শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই নির্বাচন করার কথা বলছেন তখন বিরোধীদল জনমনে সৃষ্ট সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার ভয়, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ঘাটতির মতো সমস্যাকে কাজে লাগাতে চাইছে।

কিছুদিন আগে বড় একটি র‍্যালির আয়োজন করে বিএনপি। সেখানে তারা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন এবং আটক দলীয় রাজনৈতিকদের মুক্তি দাবি করে। তবে তারা ঢাকার দিকে যতই এগিয়ে আসতে থাকে স্লোগানগুলো ততই উত্তেজনাকর হয়ে পড়ছিল।

একই সময়ে পুলিশের বাধাহীন অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয় যেখানে নেতারা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করেন। তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কথা স্বীকার করেন। সম্প্রতি আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জন্য আলাদা ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে তারা।

তার কয়েক সপ্তাহ পর বিএনপি আরেকটি মিছিলের আয়োজন করতে গেলে সরকার শক্তি প্রদর্শন করে। এ সময় ৫০০টি নতুন মামলা করা হয়। এতে এটাই প্রমাণ হয় যে পশ্চিমারা যতই নিষেধাজ্ঞা দিক না কেন সরকার তাতে খুব বেশি প্রভাবিত হবে না।

জনগণের ওপর সরকার খড়গহস্ত বলে মন্তব্য করেন নির্বাসিত আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আশরাফ জামান। তিনি বর্তমানে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ একই মামলায় অনেক মানুষকে অভিযুক্ত করছে। এসবের ভেতর রয়েছে- রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড অথবা পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মতো মামলা। এসব মামলায় নাম পরিচয়হীন অনেকের কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে যাতে নতুনদেরও যেকানো সময় এসব মামলায় অন্তর্ভুক্ত ও গ্রেফতার করা যায়।

মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, অভিযুক্তরা মাসের পর মাস জেলে থাকেন, সেখানে নানা হয়রানির শিকার হন। আইনজীবীরা বলেন, রাজনৈতিক মামলায় জামিন পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category