• বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

হাইওয়ে পুলিশ ৬ হাজার কিমি. মহাসড়কে নেই

Reporter Name / ১৬৪ Time View
Update : রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩

মহাসড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিতে কাজ করে হাইওয়ে পুলিশ। অথচ প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ অতিবাহিত হলেও প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার (দুই-তৃতীয়াংশ) মহাসড়কে তাদের কোনো কার্যক্রমই নেই। ২২টি জেলায় নেই কোনো কার্যালয় ও কার্যক্রম।

বিশেষ বা জরুরি প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এসব জেলায় গিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। অপর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের কারণে মহাসড়কের নিরাপত্তায় হিমশিম খাচ্ছে পুলিশের বিশেষায়িত এ ইউনিট।

এতে বিঘ্নিত হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা। এ অবস্থায় সংকটগুলো দূর করার তাগিদ দিয়েছেন সড়ক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সড়কে নিরাপদ যাত্রা ও পণ্য পরিবহণ নিশ্চিতে সরকারকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মহাসড়ক রয়েছে ২৫৭টি। যা ৮ হাজার ৮৮৮ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১১০টি (৩ হাজার ৯৯০ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার) এবং আঞ্চলিক মহাসড়ক ১৪৭টি (৪ হাজার ৮৯৭ দশমিক ৭১ কিলোমিটার)। ২০০৫ সালের ১১ জুন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এসব মহাসড়কের মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৯৯১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম রয়েছে। যা মোট মহাসড়কের ৩৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। কুমিল্লা, গাজীপুর, বগুড়া, মাদারীপুর, সিলেট ও যশোর-এই ছয়টি রিজিওনে ভাগ হয়ে চলে তাদের কার্যক্রম।

এতে জনবল মাত্র ২ হাজার ৯২৭ জন। পুলিশের এ বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রম চলছে উত্তরার ভাড়া বাসায়। অধিকাংশ এলাকায় এখনো স্থায়ী কার্যালয় হয়নি তাদের। এমন বাস্তবতায় সড়কে ডাকাতি-ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা কোনো ভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ১৮ কোটি মানুষকে কোনো না কোনোভাবে মহাসড়ক ব্যবহার করতেই হয়। এই গুরুত্ব অনুধাবন করেই ১৮ বছর আগে হাইওয়ে পুলিশের প্রতিষ্ঠা। ভারসাম্যপূর্ণ ও মোটামুটি স্বস্তিদায়ক যে সড়ক নিরাপত্তা এখন আছে, সেখানে বিশেষায়িত এ ইউনিটের সদস্যরা উজ্জ্বল ভূমিকা রেখে চলেছেন। প্রত্যাশা পূরণে আমাদের হয়তো আরও অনেক করণীয় আছে। জনবল, প্যাট্রোল গাড়ি, অন্যান্য লজিস্টিকস, ইউনিট বৃদ্ধির মাধ্যমে সেগুলো পর্যায়ক্রমে করা হবে। এজন্য সরকারের কাছে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিছু বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা করছি। আইন এবং বিধি অনুযায়ী, সব মহাসড়কই হাইওয়ে পুলিশের এখাতিয়ারাধীন এলাকা। জনবল ও ইউনিট বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে আমরা এগুলো ‘টেক ওভার’ করব।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ৭৩টি থানা ও ফাঁড়িসহ মোট ৮০টি ইউনিটের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার এলাকায় নিরাপত্তা দেন তারা। জনবল সংকট ও ইউনিট স্বল্পতার কারণে ২২টি জেলায় তারা স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না।

তবে জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশ স্থানীয়ভাবে তাদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেখানকার নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে সামনের দিনগুলোতে মহাসড়কগুলোর জন্য জনবল ও সরঞ্জামাদির প্রয়োজনীয়তা বাড়তেই থাকবে। সড়কের নিরাপত্তা, যানজটমুক্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিত, সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে এনে স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিতের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই কাজ করছেন তারা। এজন্য জনবলকে প্রশিক্ষিত করতে মাদারীপুরের শিবচরে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হচ্ছে।
সড়ক নিরাপত্তায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এরমধ্যে রয়েছে-মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল নজদারির আওতায় নিয়ে আসা। পাইলট প্রকল্প হিসাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মাহসড়কের ২৫০ কিলোমিটারজুড়ে এটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে ১১৪টি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার থাকবে। এর মাধ্যমে কোনো গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে চলে গেলে, সন্দেহজনক হলে বা গতিসীমা

অতিক্রম করলে তা শনাক্ত করা যাবে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অবস্থিত বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডাটা সেন্টার তৈরি করে চলবে সামগ্রিক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে মহাসড়কে সার্বক্ষণিক ‘রিয়েলটাইম’ নজরদারি করা যাবে। সিসিটিভি স্থাপনের লক্ষ্যে আরও কিছু মহাসড়কে সমীক্ষার কাজ চলছে।

এছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেশকিছু অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করছে হাইওয়ে পুলিশ। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. শামসুল আলম জানান, গতি নজরদারিতে বর্তমানে তাদের রয়েছে ‘স্পিডগান’। ব্যবহার হচ্ছে আরএফআইডি মেশিন। এর মাধ্যমে একটি গাড়ি ও তার কাগজ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরার মাধ্যমে ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্র ধারণ করতে পারছেন পুলিশ সদস্যরা। রয়েছে অ্যালকোহল ডিটেক্টর, ডিজিটাল পজ মেশিন ও রোড জ্যামার। এভাবে আধুনিকীকরণের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো মোকাবিলায় বিশেষ টিম কাজ করে। রাতে যে গাড়িগুলো যায় সেগুলো থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। গাড়ির চালক ও যাত্রীদের ছবি-ভিডিও রাখা হয়। পরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যেন ওই গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

সড়ক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, যে ধরনের নিবিড় নজরদারি থাকলে হাইওয়ে পুলিশ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারত, তারা সেই পর্যায়ে এখনো যেতে পারেনি। মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটলেই বের হয়ে আসে যে, গাড়ির ফিটনেস নেই, চালকের যোগ্যতা নেই, কাগজপত্র ঠিক নেই। এর থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে, যারা এখন গাড়ি চালাচ্ছে তাদের অনেকের নানা ধরনের ঘাটতি আছে। এজন্য আমার কাছে মনে হয়, তারা চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রত্যাশার জায়গায় এখনো যেতে পারেনি। ঘাটতিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে এই ইউনিটের আরও যথেষ্ট পরিমাণে উন্নয়নের সুযোগ আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category