• মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন

ভালোবেসে বিয়ের ছয় মাসের মাথায় খুন স্ত্রী

Reporter Name / ৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকায় সোমবার সকালে সামিনা আক্তার শাম্মী (২০) নামের এক গৃহবধূকে তাঁর নিজের স্বামী সুজন কর্তৃক ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। মাদক সেবনের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হওয়া তীব্র পারিবারিক বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঘটনার পর খুনি স্বামী সুজন নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে গুরুতর জখম হন এবং বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত সামিনা আক্তার শাম্মী যশোরের নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে অভিযুক্ত সুজন টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাম্মী ও সুজন সম্পর্কে একে অপরের মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন ছিলেন। আত্মীয়তার সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় ছয় মাস আগে তারা পরিবারকে না জানিয়ে ভালোবেসে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তারা যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধ ও নিজের শরীরে আঘাত

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার সকালে বাসায় অবস্থানকালে সুজন তাঁর স্ত্রীর কাছে মাদক সেবনের জন্য টাকা দাবি করেন। শাম্মী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে ধারালো ছুরি এনে স্ত্রী শাম্মীকে পৈশাচিক কায়দায় জখম করেন এবং তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শাম্মী ঘটনাস্থলেই গুরুতর লুটিয়ে পড়েন।

স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সুজন নিজেও চরম আতঙ্কিত হয়ে ওই একই ছুরি দিয়ে নিজের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরে ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার ও হট্টগোল শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শাম্মীকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিরুল ইসলাম জানান, শাম্মীকে হাসপাতালে আনার অনেক আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। ঘাতক সুজনের শরীরেও ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বজনদের হামলার চেষ্টা ও হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা

নিহত শাম্মীর মামা পিয়াস গণমাধ্যমকে জানান, সুজন আগে প্রবাসে (বিদেশে) কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফেরার পর প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে এর মধ্যেই মাদকের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল।

এদিকে শাম্মীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ঘাতক সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা চালান শাম্মীর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা। এ সময় যশোর জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজনের বাবা ও মাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে। মাদকের পাশাপাশি পারিবারিক বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের সত্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category