• রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
এক দিকে প্রত্যাবর্তন, অন্য দিকে পতন… ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ, ছাড় পাবেন যারা ৫৯ ঋণখেলাপি ও ‘ব্যাংক ডাকাত’কে মনোনয়ন দিয়ে কীভাবে দুর্নীতি ঠেকাবে বিএনপি: জামায়াত আমির পাবনায় জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম আজ রাত ১২টা থেকে বিকাশ-নগদে ১ হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না আইন ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ: এনবিআর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিকের ট্রেলার এক ক্লিকেই জেনে নিন ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র, ইসির ৪ সহজ পদ্ধতি ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো’ আলোচনা হয়েছে, চুক্তি করতে তারা মরিয়া: ট্রাম্প কারাবন্দি অবস্থায় সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু

এক দিকে প্রত্যাবর্তন, অন্য দিকে পতন…

Reporter Name / ২৮ Time View
Update : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

-রিন্টু আনোয়ার
আঠারো মাস কারাগারে এবং সতেরো বছর বিদেশে কাটানোর পর সশরীরে আবার বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচনের মাঠে তারেক রহমান। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে গত দেড় বছর ধরেই তার দেশে ফেরা নিয়ে অনেক ধরনের আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সংকটাপন্ন অবস্থায় তার দেশে না ফেরার সমালোচনা কম হয়নি। অবশেষে দেশে এলেন তিনি এবং এমন একটা সময়ে ফিরলেন যখন নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে ব্যস্ততা চলছে। তাই এবার অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জও রয়েছে তারেক রহমানের সামনে। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জনগণের আস্থা কতটা ফেরাতে পারবেন, সেদিকে নজর থাকবে অনেকের।
এদিকে, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ মুসলিম লীগের মতো হবে? না, কবে কখনো আজকের বিএনপির মতো বা আশির দশকে আওয়ামী লীগের মতোই ফিরে আসবে? প্রাসঙ্গিক এসব প্রশ্নের মাঝে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরায় বিস্ফোরক তথ্য জানালেন শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তাও আগের মতো উস্কোখুস্কো হয়ে নয়, একেবারে স্যুটেড-ব্যুটেড হয়ে, ঠাস-ঠাস কথায়। আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেলেও শেখ হাসিনাকে আর নেতৃত্বে নাও দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিতও দিলেন জয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমার মা আসলে দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।
চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন শেখ হাসিনা। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ নেতাদের আরো অনেকে। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারবে না। শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ পলাতক বা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে কারাগারে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। পতনের পর থেকে গণমাধ্যমে, বিশেষ করে স্যোশালমিডিয়ায় মাঝেমধ্যে জয়ের কিছু এলোমেলো-বিক্ষিপ্ত বক্তব্য এসেছে। ফ্যাকাসে শশ্রুমন্ডিত হয়ে কখনো কখনো বলেছেন, এ দেশ নিয়ে তার , তার মা বা তার পরিবারের কোনো ভাবনা নেই। কখনো বলেছেন, এ কথা তিনি বলেননি। এর মধ্য দিয়ে তার ওইসব কথার নিরর্থক-আকথা বলে মূল্যায়ণ করেছেন অনেকে। এখন আলজাজিরার মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্য একটি গুরুত্ব অবশ্যই বহন করে। তাও নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি এবং এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে যখন ভিন্ন এক হাইট ও হাইপ ভাসছে, ঠিক সেই সময়টাতেই জয়ের এমন সাক্ষাৎকার। ততক্ষণে জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারওপর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চলছে। এতে আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও অযোগ্য। শেখ হাসিনা নিজে, ছেলে-মেয়ে, বোন, ভাগ্নে-ভাগ্নি ছড়িয়ে আছেন দেশে দেশে। জয়  যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাড়িতে গিয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল জাজিরার সাংবাদিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত শ্রীনিবাসন জৈন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জয়ের কাছে তার প্রশ্ন ছিল:  বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যত আছে কি না। জয়ের জবাব: ভবিষ্যৎ অবশ্যই আছে। সেখানে এও যোগ করেন: তার মায়ের বয়স হয়েছে (৭৮ বছর)। এমনিতেই এটা তার শেষ মেয়াদ হত। তিনি অবসর নিতে চাচ্ছেন। এ কথার প্রেক্ষিতে শ্রীনিবাসন জৈনের প্রশ্ন: তাহলে এটাকে কি ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়? জয়ের জবাব: “সম্ভবত তাই। সাথে সাথেই আবারও প্রশ্ন: “তাহলে আপনি বলছেন যে আওয়ামী লীগ যদি আবার বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, তাকে (শেখ হাসিনা) ছাড়াই সেটা হবে?”জবাবে জয় বলেন, “হ্যাঁ। আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। এটা সবচেয়ে পুরনো দল। ৭০ বছর ধরে আছে। তাকে (শেখ হাসিনা) সঙ্গে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই এ দল চলবে। তিনি… কেউ তো চিরদিন বাঁচে না।” শেখ হাসিনার মাঝেমধ্যেই এখনো গরম অডিও আসছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আওয়ামী লীগ নেতারাও শব্দ বোমা ফাটাচ্ছেন। জয়ও অনেকটা উড়াধুড়া কথা বলেছেন। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো নির্বাচন ‘হতে দেওয়া হবে না’। আলজাজিরা সেই প্রসঙ্গ এনে প্রশ্ন রেখেছে: “আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার একটি কারণ হিসেবে সরকার বলছে, আপনারা এসব নির্বাচনে সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছেন। আর সেটি কি সত্য নয়?  জবাবে জয় বলেন, “দেখুন, যখন কাউকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলা হয়, তখন আর কী… কী হবে? আমরা সহিংসতা চাই না। আমাদের তো প্রতিবাদ করতেও দেওয়া হচ্ছে না।
দেশের চলমান রাজনীতি, নির্বাচনের উতল হাওয়া, তারেক রহমানের দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার মাঝে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং। ব্যাপক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মতোও। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের হুমকি-ধমকির মধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এবারের বক্তব্য রাজনৈতিক সচেতনদের মধ্যে কিছুটা কৌতুহল জাগিয়েছে। সেইসঙ্গে অপেক্ষা বাড়ছে, তিনি এ কথায় অটল থাকেন, না-কি ক’দিন পর আরেকটা বলবেন? নির্জলা সত্য হচ্ছে, চরম দুঃশাসন, অগুণতি মানুষ হত‍্যা করে পালিয়ে বেঁচেছেন শেখ হাসিনা। আজতক তিনি বা তার দলের কেউ  ভুল শিকার করেননি, ক্ষমাও চাননি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যেভাবে মাফ চেয়েছিলেন সেরকম কিছু করলেও বিবেচনা বা নতুন আলোচনার বিষয় ছিল। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ দুঃশাসনের জেরে ২১ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে ছিল। একাশিতে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা দলের হাল না ধরলে আওয়ামী লীগের অবস্থা মুসলিম লীগের মতো হতেও পারতো। তারপরও পঁচাত্তর পরবর্তীতে শেখ হাসিনার একটা সুবিধা ছিল তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের মর্মান্তিক হত্যা জাতির কাছে বারবার নিবেদন করা। তা জনগণের মধ্যে আবেগ জাগাতে পেরেছে। আওয়ামী লীগ সফলভাবে তা ব্যবহার করেছে। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। শেখ হাসিনার টানা ১৫-১৬ বছরে যে নির্যাতন, দুর্নীতি, হত্যা, গুম, লুটপাট চলেছে- যার জন্য ক্ষমা চাইলেই ক্ষমা মেলা অসম্ভব। এর চেয়েও বড় কথা, চৌকস নেতৃত্ব ছাড়া যে কোন দল ধীরে ধীরে দুর্বল হতে বাধ্য। যোগ্য উত্তরসুরী বা সেকেন্ড–থার্ড লেয়ারে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটতে দিলেও দল খাদের কিনার থেকে উঠে দাঁড়াতে পারে। দেশীয় রাজনীতিতে তার টাটকা উদাহরণ বিএনপি-জামায়াত। প্রতিবেশি ভারতে উপমহাদেশের সর্ব প্রাচীন দল কংগ্রেস এবং পাকিস্তানে মুসলিম লীগের করুণ অবস্থাও এর বিপরীত উদাহরণ।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরিতে নেতৃত্ব দেয়া মুসলিম লীগ আজ অস্তিত্বহীন পাকিস্তানেও, বাংলাদেশেও। দল দুটিতেই মূল সমস্যা যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। বাংলাদেশে  আওয়ামী লীগের হাল ধরার মতো উপযুক্ত কেউ নেই। শেখ হাসিনা প্রকাশ্য রাজনীতিতে আর আসতে পারছেন না, তা অনেকটা পরিস্কার। ছেলে জয় তা আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেছেন। শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, গুম মামলা ছাড়াও দুর্নীতি-লুটপাটের অন্তহীন অভিযোগ। হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং নির্যাতনকারী হিসেবে আওয়ামী লীগের নৈতিক অবস্থান ধুলায় মিশে গেছে। বিএনপি-জামায়াত বা নতুন কোন দল একই কাজ করলেই কেবল আওয়ামী লীগ তুলনাগতভাবে কিছুটা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। সেই মাঠ কবে আসবে, এ অপেক্ষায় থাকতে হবে আওয়ামী লীগকে। সেখানেও উপযুক্ত ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের আবশ্যকতা রয়েছে। মাঠে নানা বয়ান ও দুঃখজনক ঘটনা থাকলেও ফ্যাসিস্ট জমানায় ফেরার দুঃসাহস কোনো দল করবে না। মাঠে যে যা-ই করুক, চব্বিশের আগের জমানায় ফিরতে একবার ভাবলে দশবার পেছাতে হবে। যুগের পরিবর্তন এবং নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে রাজনীতি করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে যাবে। ফলে সনাতনী ধারায় চলা রাজনৈতিক দলগুলি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এ তালিকার প্রথমেই আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা দলটিতে এমন কোনো সজ্জনকে নেতৃত্বে রাখেননি, যার নেতৃত্ব বা মধ্যস্ততায় দলটির একটি ভবিষ্যৎ রচনা হবে। তিনি রেখেছেন লতাপাতা জড়ানো-ছড়ানো পারিবারিক সদস্য ও বাছাই করা দুষ্টদের। সেখানে পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় উজবুকি নানা কাণ্ড-কীর্তি ও কথায় আরো মাত্রা যোগ করেছেন।  একদিকে তিনি জানালেন, ২০২৪–এর আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন সরকার ও শাসকদলের ভূমিকা যথাযথ ছিল না। অন্যদিকে দাবি করলেন, বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম পার্টি আওয়ামিকে এখনও সেখানকার ৪০–৫০ শতাংশ ভোটার সমর্থন করেন। কোনটা তার কথা, কোনটা আকথা- এ নিয়ে মানুষের প্যাঁচাল-ক্যাচালের খোরাক হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত থাকার কথা শুরু থেকে বলে আসছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু সম্প্রতি ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার পতনে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো বিদেশি শক্তি ‘সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত’ ছিল না।
এটা শেখ হাসিনার ভুল স্বীকার, পরিশুদ্ধি বা নতুন কোনো চাতুরি, সেদিকেও সতর্ক নজর অনেকের।  এতো কিছুর মধ্যেও আওয়ামী লীগের ভেতরে ‘রিফাইন্ড’ বা ‘পরিশুদ্ধ’ আওয়ামী লীগের আকাঙ্ক্ষা আছে। বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকেও অতীতের ভুল স্বীকার করা এবং দল পরিশুদ্ধির বিষয়ে পরামর্শ রয়েছে। এরপরও কারো কারো মতে, আওয়ামী লীগের ফিরে আসার দুটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, যেভাবে তারা বিদায় হয়েছে, সেভাবে যদি আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে; যা প্রায় অসম্ভব। দলটির ফিরে আসার দ্বিতীয় পথটি হচ্ছে, ভুল স্বীকার করে ও ক্ষমা চেয়ে জনগণের কাছে আরেকবার সুযোগ প্রার্থনা করা। এখন পর্যন্ত সেই চিন্তা বা ইচ্ছা আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়েই নেই। আওয়ামী লীগ যেন ভুল স্বীকারের ধারেকাছেও না যায়-সেই চাপ রয়েছে। তারা মনে করেন ভুল স্বীকার বা ক্ষমা চেয়ে জনগণের কাছে আরেকবার সুযোগ প্রার্থনার পরামর্শটি যারা দিচ্ছেন তারা কার্যত আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে আত্মহত্যা করতে বলছেন।  চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন এবং শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে শত্রুতাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় স্বল্প সময়ের জন্য ঝটিকা মিছিল করে চরম মার খেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে ঘিরে অনলাইনে ডাক দেওয়া ‘লকডাউন’, ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির আড়ালে চোরাগোপ্তা ককটেল নিক্ষেপ ও গাড়ি পুড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ। তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এসব কর্মসূচিতে দলটির নেতা-কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত অনলাইনে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছেন শেখ হাসিনা, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কেন্দ্রীয় নেতারা। নতুন করে জয় সেখানে একটি মাত্রা দিলেন মাত্র।
……
লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category