মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সংসদ ও মন্ত্রণালয় ছেড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে রাজধানীর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গতকাল এনসিপির পক্ষ থেকে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের নির্বাচনের খবর আসার পরদিনই ইশরাক এই ঘোষণা দিলেন।
ইশরাক হোসেনের এই লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট বেশ দীর্ঘ:
২০২০ সালের নির্বাচন: ২০২০ সালের ডিএসসিসি নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন, তবে সেই ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
আদালতের রায় ও গেজেট: ২০২৫ সালে আদালত ইশরাককে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ইসি সেই অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করে।
সমন্বয়হীনতা ও সংঘাত: আদালতের রায় সত্ত্বেও তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সাথে বিরোধের জেরে তিনি চেয়ারে বসতে পারেননি। এ নিয়ে নগর ভবন ঘেরাও ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে তাঁর সমর্থকদের অবস্থানের ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
ইশরাকের নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও কিছু সমীকরণ এখনো অমীমাংসিত: ১. বিএনপির অবস্থান: দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের পরিবর্তে যারা নির্বাচন করেননি—এমন কাউকেই বিএনপি সমর্থন দিতে পারে। ফলে ইশরাক শেষ পর্যন্ত দলের সমর্থন পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২. এনসিপি ও আসিফ মাহমুদ: সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও এনসিপির প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচনে লড়বেন বলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৩. জামায়াতের অনড় অবস্থান: ১১ দলীয় জোটের শরিকদের ছাড় দিতে রাজি নয় জামায়াত। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে তারা ঢাকা-৭ আসনের সাবেক প্রার্থী হাজি মো. এনায়েত উল্লাহর নাম বিবেচনা করছে।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদে অধ্যাদেশ অনুমোদিত হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো আবারও নির্দলীয় পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালটে দলীয় প্রতীক না থাকলেও দলগুলো তাদের পছন্দের প্রার্থীকে পরোক্ষ সমর্থন দেবে।
| প্রার্থীর নাম | রাজনৈতিক দল/জোট | বর্তমান অবস্থান |
|---|---|---|
| ইশরাক হোসেন | বিএনপি | প্রতিমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| আসিফ মাহমুদ | এনসিপি | মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা |
| হাজি মো. এনায়েত উল্লাহ | জামায়াতে ইসলামী | সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী |