দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ৫৯ জন ‘কুখ্যাত’ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি—এমন অভিযোগ তুলে দলটির কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, “যাদের বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে এমপি বানাচ্ছেন, তাদের দিয়ে কীভাবে দুর্নীতি দমন করবেন? এসব শুনলে তো পেঁচাও হাসবে।”
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
‘বগলের নিচে ব্যাংক ডাকাত’
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একটি দল বলছে তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। অথচ যে ৫৯ জন ভয়ংকর ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাত, তাদের আপনারা মনোনয়ন দিলেন কেন? এদের পাশে বসিয়ে কীভাবে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব? জনগণ সব বোঝে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইনসাফের সরকার কায়েম হলে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না।
৫ আগস্টের মুক্তি, ৬ আগস্টের ‘নতুন জালেম’
জুলাই বিপ্লব ও পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনা করে জামায়াত আমির বলেন, “৫ আগস্ট দেশ ‘আওয়ামী জাহেলিয়াত’ থেকে মুক্ত হলেও ৬ আগস্ট সকাল থেকেই একটি মহল আবারও চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজিতে মেতে উঠেছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মজলুম ছিলেন, এখন জালিম হবেন না। ব্যবসায়ীরা আজ জিম্মি, এমনকি ফুটপাতের ভিক্ষুকের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। আমরা কি পুরাতন চাঁদাবাজের বোতলে নতুন চাঁদাবাজ দেখার জন্য লড়াই করেছিলাম?”
‘নাহিদরাই হবে আগামীর পাইলট’
তরুণ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে দায়িত্ব দিতে চাই। বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমান নয়, বরং কর্মসংস্থান করতে চাই। নাহিদ ইসলামরা হবে আগামীর বাংলাদেশের পাইলট, আর আমরা পেছনের সিটে প্যাসেঞ্জার হয়ে বসব।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইনসাফের সরকার গঠিত হলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যাবে।
পাচারকৃত অর্থ ও ‘কার্ড প্রথা’
বিদেশে লুণ্ঠিত অর্থ ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহর তৌফিক দিলে জনগণের হক হিসেবে প্রতিটি টাকা ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে।” এছাড়া ১০ টাকা কেজি চাল বা বিভিন্ন ‘কার্ড প্রথা’র মতো প্রতিশ্রুতিকে ‘ভুয়া’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উপস্থিতি
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়াও সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।