যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের অষ্টম দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত ট্রাম্পের ‘আন্তর্জাতিক ভুল হিসাব-নিকাশের’ ফল। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “আমরা ট্রাম্পকে ছাড়ব না; তার এই ভুলের মাশুল তাকে গুণতেই হবে।”
আলী লারিজানি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেবেছিলেন ভেনেজুয়েলার মডেল অনুসরণ করে সহজেই ইরানকে বাগে আনা সম্ভব, কিন্তু তিনি এখন নিজেই নিজের তৈরি ‘কাদাজলে’ আটকা পড়েছেন।” তার মতে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি করেছে, যেখান থেকে বের হওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সহজ হবে না। ইরান তার অবস্থানে অটল এবং যেকোনো মূল্যে এই আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিনের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। গত আট দিনে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। বিপরীতে, ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার পুনরায় ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো দাবি করছে, তারা ইরানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কুয়েত ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও হামলা-পাল্টা হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটন বলছে এই অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে, অন্যদিকে তেহরান বলছে, তারা এই সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।