অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই দাবি জানান। ঢাকা সফরে আসা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সৈয়দ তাহের বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, তাতে পুরো সরকার নাকি সরকারের কোনো শক্তিশালী অংশ জড়িত ছিল, তা দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিজওয়ানা হাসান মন্তব্য করেছিলেন যে, যারা নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারেনি, তাদের মূল ধারায় আসতে না দিয়ে বিরোধী আসনে রাখা হয়েছে। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে জামায়াত নেতা অভিযোগ করেন, রিজওয়ানা হাসানের এমন কথা থেকেই প্রমাণিত হয় যে নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে আর কারা জড়িত ছিলেন, তা উদ্ঘাটন করতে সাবেক এই উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের অভিযোগ, একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় আনতে মাঠ প্রশাসনের ডিসি, এসপি, ইউএনও এবং প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে বিশেষ পরিকল্পনা কাজ করেছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও বর্তমান সরকার সেই ম্যান্ডেট থেকে সরে এসে জনস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এদিকে, একই দিনে রাজধানীর পল্টনে একটি হোটেলে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যেগে আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সংবিধানই যদি মানেন, তাহলে এখনও শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী, এই ইলেকশানও সংবিধানে ছিল না, ইন্টেরিম সরকারও ছিল না।’ সেইসঙ্গে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দায়ে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ ও এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনোত্তর যেসব তথ্য বেরিয়ে আসছে, তা ভয়ংকর। রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অপরাধে জড়িত।
এর আগে, সোমবার (২ মার্চ) চ্যানেল ওয়ানের একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান বলেন, ‘একটা শক্তি আগেও নারী নীতি বদলে দিয়েছে… সেই শক্তির একটা পার্ট যদি বিরোধীদল হয়েও থাকে আমার এবং আপনার কাজ হবে তাদের রাজনীতির যেটুকু অংশ নারীবাদের নারীর ক্ষমতায়নের, নারীর সমান অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে সেটুকু নিয়ে কাজ করা। কখনো যেন এ জাতীয় শক্তি Mainstream না হতে পারে আমরা সেই কাজটা করতে পেরেছি। আমরা তাদেরকে Mainstream হতে দিইনি।’