আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। ঠিক এক বছর আগে এই দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আত্মপ্রকাশ করেছিল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ বা এনসিপি। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ডান, বাম ও মধ্যপন্থি বিভিন্ন ছাত্রনেতা, শিক্ষক ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি আজ তাদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে।
গেল এক বছরে এনসিপি দেশের রাজনীতিতে বেশ কিছু আলোচিত বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে পদত্যাগ করে দলটির হাল ধরেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন। দলটির প্রধান লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, সংবিধান পুনর্লিখন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা।
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬টি আসনে জয়লাভ করে তারা। এছাড়া আরও দুটি আসনে তারা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী অবস্থান জানান দিয়েছে।
এক বছরের এই পথ চলা একেবারে মসৃণ ছিল না। শক্তিশালী তৃণমূল সংগঠন গড়ে তুলতে না পারা এবং জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে খোদ দলের ভেতরেই ভাঙন ধরেছিল। অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা পদত্যাগ করেছেন এবং অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। তবে দলটির নেতারা মনে করেন, এটি তাদের ‘বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে বেড়ে ওঠার একটি প্রক্রিয়া মাত্র।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এনসিপি ১০ দিন ব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলটির এবারের স্লোগান—‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’ এবং মোটো নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বিপ্লব; বিকল্প; বিনির্মাণ’।
আজকের প্রধান কর্মসূচি হিসেবে ধানমন্ডি আবাহনী মাঠে এক বিশাল ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন:
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
গণমাধ্যমকর্মী, অ্যাক্টিভিস্ট এবং সারা দেশ থেকে আসা জেলা কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে গত এক বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি বিশেষ ডকুমেন্টারি ও চিত্র প্রদর্শনী করা হবে। আজ থেকে শুরু হওয়া এই ইফতার মাহফিল ও গণসংযোগ কর্মসূচি আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণে এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, তাদের এখনকার মূল মনোযোগ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ওপর। এই নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের ভিত মজবুত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠা লাভ | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ |
| শীর্ষ নেতৃত্ব | আহ্বায়ক: নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব: আখতার হোসেন |
| নির্বাচনী ফলাফল | ৬টি সংসদীয় আসন (জামায়াতের সঙ্গে জোটে) |
| আজকের কর্মসূচি | ধানমন্ডি আবাহনী মাঠে ইফতার ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন |
| মোটো (Motto) | বিপ্লব; বিকল্প; বিনির্মাণ |