কুখ্যাত মার্কিন অর্থদাতা জেফরি এপস্টিনের যৌন পাচার মামলার তদন্তে এক নাটকীয় মোড় এসেছে। দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে থাকার পর অবশেষে এই মামলায় নিজের জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। জবানবন্দিতে তিনি এপস্টিনের সাথে তাঁর বা তাঁর স্বামী বিল ক্লিনটনের কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তবে হিলারির এই জবানবন্দির পরপরই মামলার বাদী পক্ষ এবং আইন বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, হিলারি ক্লিনটনকে এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার এবং তাঁর মালিকানাধীন দ্বীপে যাতায়াত সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জবানবন্দিতে হিলারি দাবি করেন, এপস্টিনের সাথে তাঁদের যোগাযোগ ছিল মূলত জনহিতকর কাজের সূত্রে এবং বিল ক্লিনটন কয়েকবার তাঁর বিমানে ভ্রমণ করলেও ব্যক্তিগত দ্বীপে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এপস্টিনের অন্ধকার জগত সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা ছিল না।
হিলারির জবানবন্দির পর এখন সব আলো গিয়ে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর। তদন্তকারীদের মতে, নব্বইয়ের দশকে ট্রাম্প এবং এপস্টিন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ফ্লোরিডার বিভিন্ন পার্টিতে তাঁদের একসাথে দেখা যাওয়ার ছবি ও ভিডিও রেকর্ড রয়েছে। এ ছাড়া এপস্টিনের কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক বুক’-এ ট্রাম্পের নাম এবং তাঁর একাধিক ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। আইনকর্মীরা দাবি করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে হিলারির মতো ট্রাম্পকেও শপথ নিয়ে জবানবন্দি দিতে হবে যাতে তাঁর সাথে এপস্টিনের প্রকৃত সম্পর্কের গভীরতা স্পষ্ট হয়।
মার্কিন রাজনীতির দুই মেরুর দুই প্রভাবশালী নেতার নাম এপস্টিন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় ওয়াশিংটনে তোলপাড় চলছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় পক্ষই একে অপরের দিকে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করছে। তবে ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সত্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের জবানবন্দি নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
| ব্যক্তিত্ব | বর্তমান অবস্থা | অভিযোগ/সংশ্লিষ্টতা |
|---|---|---|
| হিলারি ক্লিনটন | জবানবন্দি সম্পন্ন | এপস্টিনের বিমানে স্বামীর ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ। |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প | জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন | নব্বইয়ের দশকের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও ফ্লোরিডার যৌথ পার্টি। |