-রিন্টু আনোয়ার
জোর আলাপ চলছিল বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কার নিয়ে। বহু বছরের জমে থাকা খেলাপি ঋণ, স্বজনপ্রীতি ঋণ, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকিসহ ব্যাংকিং ব্যবস্থার শক্ত ভিত গড়ার আলাপ-আলোচনার মাঝে কোনো বলা নেই, কওয়া নেই- হঠাৎ সেখানে এক নয়া গভর্নর। প্রথা, নিয়ম-নীতির বালাইও নেই। ঋণ খেলাপি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। হেরা সোয়েটার্স টু বাংলাদেশ ব্যাংক। মাঝখানে কোনো স্টেশন নেই, একদম গেইট লক। আগের গর্ভর্নরকে কিছু জানানো হলো না । প্রকারান্তরে এক ধরনের মব করে খেদানো। কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ এবং সরকারের পক্ষ থেকে নতুন নিয়োগের গুঞ্জনের মধ্যে অফিস ছাড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। যাওয়ার আগে তিনি এক সংবাদ সম্মেলন শেষে অফিস ছাড়েন। বলে যান, অল্পসংখ্যক কর্মকর্তা শৃঙ্খলা ও সাম্প্রতিক আর্থিক খাতের সাফল্যকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের বিক্ষোভকে ‘স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে বলেন, উত্থাপিত বিষয়গুলো—বিশেষ করে কয়েকটি ব্যাংকের একীভূতকরণ, রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক অর্থনীতির বিষয়। মনসুর বলেন, ‘এই ব্যাংকগুলো অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো গত ২ বছর ধরে যে ৭৬ লাখ আমানতকারী তাদের অর্থ তুলতে পারেননি, তাদের স্বার্থ রক্ষা করা।কোনো কর্মকর্তার এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নেই। এটি তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না,’ বলেন তিনি। এই উদ্দেশ্যে ৩২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন। যার মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স ফান্ড থেকে দেওয়া হচ্ছে ১২ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক এক্সিম ব্যাংককে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ইকুইটি সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদ তা যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। স্থিতিশীলতা নিশ্চিত ও আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধে সহায়তার জন্য সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও ১ হাজার কোটি ও ৩ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরে তাদের ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে, জানান মনসুর। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানা হলে বৃহস্পতিবার থেকে তারা কলম বিরতিতে যাবেন। ঘটনা এখানেই থামলো না। গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকেও ‘জোরপূর্বক’ কার্যালয় থেকে বের করে দেন কয়েকজন কর্মকর্তারা। তা ঘটে গভর্নরের সামনেই । আহসান উল্লাহকে ঘিরে একদল কর্মকর্তা উত্তেজিত পরিস্থিতি তৈরি করেন। একপর্যায়ে তাকে ঘাড় ধরে গাড়িতে তোলার ঘটনা। গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়ার দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৫ বিলিয়ন ডলার। গভর্নর মনসুর যেদিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেসময় রিজার্ভ ছিল ২৫ বিলিয়ন। সেই হিসেবে তার ১৮ মাস মেয়াদে রিজার্ভ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ কমে হয় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী, তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়।
এ ছাড়া ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের নীতি নেয়। সঙ্গে হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধে তদারকি কার্যক্রম কঠোর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ডলার কিনতে থাকে। এতে রিজার্ভ বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা ডলার সংকট কমাতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয়ের ব্যাপক প্রবাহ রয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৩ দিনে ২৫৭ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫৪৭ কোটি মার্কিন ডলার (৫.৪৭ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো। ঘটনার তোড়ে এসব হিসাব এখন আর আলেঅচনার বিষয় নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকি ভিত্তিক তদারকি, ব্যাংক রেজুলিউশন, ডিপোজিট সুরক্ষা, ডিজিটাল পেমেন্ট, বন্ড বাজারসহ যে কঠোর সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সেগুলোও হয় তো আর বিষয়ে থাকবে না। ব্যাংক খাতের বড় ক্ষত ছিল অর্থপাচার ও ঋণ কেলেঙ্কারি। এই প্রেক্ষাপটে চুরিকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারের উপর আন্তঃ-এজেন্সি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সমন্বয় করছে। এর আওতায় নেয়া পদক্ষেপগুলোরই বা এখন কী হবে? শুধু অর্থ ফেরত আনা নয়- ভবিষ্যৎ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক বার্তাও দেয়া হয়েছিল।
আকস্মিক গভর্নর আরোপের ঘটনা দেশের ব্যাংকগুলোসহ গোটা অর্থনীতি সেক্টরকে ভাবিয়ে তুলেছে। গভর্নর পদটি কোনো আনুষ্ঠানিক বা অলংকারমূলক দায়িত্ব নয়। এটি একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর একটি, যার ওপর নির্ভর করে মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সর্বোপরি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আস্থা গড়ে তোলা। জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর যখন মানুষ কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল, তখন যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। কোটা আন্দোলন কেবলই কোটার প্রশ্ন ছিল না; এটি ছিল মূলত মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের দাবিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। কিন্তু নতুন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের নিয়োগ সেই প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে বসানো হলো, যার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকা (সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছিল নিয়োগের অল্প সময় আগে। তিনি আবার বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যও ছিলেন। যখন দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা, পেশাদারিত্ব এবং মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব, এমন এক সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ঘটনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও তার উপদেষ্টার মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের এভাবে অপমান করামব-কালচারের আরেক সূচনা। এমনিতেই ফ্যাসিবাদের নাগপাশে পড়ে দেশের অর্থনীতিতে চরম দুরবস্থা, সর্বস্তরে দুর্নীতির মহামারি, সঙ্গে রয়েছে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট; তার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সামনে আরো কী ঘটে শঙ্কা অনেকের।
শেখ হাসিনা এবং তার ঋণখেলাপি কুশীলবরা এদেশের ব্যাংক খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রেখে গিয়েছিল। ঋণখেলাপিদের দুষ্টচক্রের জন্য বাংলাদেশকে আইএমএফসহ বিভিন্ন দেশের দ্বারে দ্বারে হাজির হতে হয়েছে আর্থিক খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে। সেখান থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই খাতকে কিছুটা টেনে তুলেছে। রিজার্ভ দ্বিগুণ করে রেখে যাওয়াসহ খাদের কিনারায় থাকা ব্যাংকগুলোকে পূনর্বাসন করা হয়েছে। একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে আর্থিক খাতের অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাঝে কঠিন বার্তা দেখছেন অনেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে অর্থনীতিবিদরাই নিয়োগ পেয়ে আসছিলেন, গত রেজিমের সময় আমলাদের গভর্নর বানানো শুরু হয়। ইউনুস সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবং বিএনপি সরকারের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন এসে আবার একজন অর্থনীতিবিদকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ কোনো সাধারণ পদায়ন নয়; এটি দেশের মুদ্রানীতি, রিজার্ভ, ব্যাংকিং শৃঙ্খলা ও আর্থিক আস্থার কেন্দ্রবিন্দু নির্ধারণের প্রশ্ন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি অতীতে রাজনৈতিক কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং কিছুদিন আগেও ঋণখেলাপি হিসেবে আলোচনায় ছিলেন—এমন অভিযোগ জনপরিসরে ঘুরতে থাকে।
নতুন গভর্নর হিসেবে পোশাক ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানের নাম আসার পর স্যোশালমিডিয়ায় ঋণ খেলাপি হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসে। বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) মাস দুয়েক আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের তৈরি পোশাক কারখানার ৮৬ কোটি টাকার খেলাপি হওয়া ঋণ পুনঃতফশিল করেছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিলের নীতি সুবিধার আওতায় ২ শতাংশ এককালীন অর্থ পরিশোধের পর হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের ওই ঋণ নবায়ন করা হয়। এসব তথ্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি রাখে। মনে রাখতে হবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে বসা মানে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা নয়; প্রয়োজন গভীর অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা, মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা এবং নিঃসন্দেহে নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা। প্রজ্ঞাপন বলছে, মো. মোস্তাকুর রহমানকে তার যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গভর্নরের মূল কাজ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা, এবং প্রয়োজনে সরকারকেও “না” বলা। সরকার অতিরিক্ত ব্যয়ের পথে গেলে, মুদ্রা ছাপানোর তাগিদ এলে গভর্নরকে দাঁড়াতে হতে পারে সরকারের বিপরীতে। আর এই কারণেই বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গভর্নর বদলানো তাই সচিবালয়ে রদবদলের চেয়ে ভিন্ন মাত্রার সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ কোনো সাধারণ পদায়ন নয়; এটি দেশের মুদ্রানীতি, রিজার্ভ, ব্যাংকিং শৃঙ্খলা ও আর্থিক আস্থার কেন্দ্রবিন্দু নির্ধারণের প্রশ্ন। ফলে এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা অস্বাভাবিক নয়—বরং স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে বসা মানে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা নয়; প্রয়োজন গভীর অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা, মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা এবং নিঃসন্দেহে নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা। এই মুহূর্তে দেশের আর্থিক খাত আস্থার সংকটে। তাই “পরিকল্পনা আছে” বলা যথেষ্ট নয়—প্রমাণিত যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।