মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিনিময়ে আসামির পরিবারের কাছে কোটি টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগে উত্তাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই ঘটনায় সদ্য পদত্যাগী প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের হাতে থাকা সকল মামলার নথি ইতোমধ্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে প্রসিকিউশন বিভাগ। একই সাথে ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অতীতের সকল কার্যক্রম পুনরায় যাচাইবাছাই করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর নাম বাদ দিতে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার আসামির পরিবারের সঙ্গে এই দরকষাকষি করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিচারিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্ত প্রসিকিউটর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এই কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকল প্রসিকিউটরদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি পুরো বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, কেবল এই একটি ঘটনাই নয়, ট্রাইব্যুনালের এ পর্যন্ত যত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, তার সবগুলোই এখন পুনঃনিরীক্ষা বা যাচাইবাছাই করা হবে। প্রসিকিউশন টিমে কোনো ‘কালী হাত’ রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা। সাইমুম রেজার দায়িত্বে থাকা মামলার নথিগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখা হবে সেখানে কোনো প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না।
উপসংহার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিচার প্রক্রিয়ায় এমন দুর্নীতির অভিযোগ জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বিচারের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে।