যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গেল ৭ জুলাই সোমবার এক ঘোষণায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চ হারে আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেলন। তবে এ ঘোষণার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাণিজ্য ঘাটতি শুরু হয় দেশটিতে। হুমকির মুখে পড়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতি। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) শুল্ক আরোপ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত জানায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নতুন আদেশ অনুযায়ী কিছুটা স্বস্থির খবর আসে বাংলাদেশের জন্য। শুল্ক ১৫ শতাংশ কমিয়ে নতুন হার ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ থেকে বাংলাদেশকে বর্তমানের গড় ১৫ শতাংশ ও নতুন পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করতে হবে।
তাছাড়া যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতে সম্মত হয়েছে, তাদের জন্য কিছু ছাড় থাকছে, তবে তারা চুক্তি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত পূর্ববর্তী শুল্কই কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক এখনো অসম, সেসব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত (মূল্যভিত্তিক) শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক হারের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
জানা গেছে, শুল্কের হার কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশকে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হয় আজ শুক্রবার (১ আগস্ট)।
ফলে আজ থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। সে হিসাবে আজ থেকে বাংলাদেশকে বর্তমানের গড় ১৫ শতাংশ ও নতুন পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করতে হবে।
পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছে। তারা শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে গত তিন দিন ধরে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ ছাড়াও দলে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী।
এদিকে সকল আলোচনার ইতি টেনে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ। আদেশে বাংলাদেশ ছাড়াও কয়েক ডজন দেশের ওপর মার্কিন শুল্কের হার তুলে ধরা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে নতুন এ নির্বাহী আদেশ অনুসারে দেখে নেওয়া যাক কোন দেশে কত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ২০%, আফগানিস্তান ১৫%, আলজেরিয়া ৩০%, অ্যাঙ্গোলা ১৫%, বলিভিয়া ১৫%, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৩০%, বতসোয়ানা ১৫%, ব্রাজিল ১০%, ব্রুনেই ২০%, কম্বোডিয়া ১৯%, ক্যামেরুন ১৫%, চাদ ১৫%, কোস্টারিকা ১৫%, কোট দিভোয়ার (আইভরি কোস্ট) ১৫%, কঙ্গো গণপ্রজাতন্ত্রী ১৫%, ইকুয়েডর ১৫%, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ১৫%, ভারত ২৫%, ইন্দোনেশিয়া ১৯%, ইরাক ৩৫%, ইসরায়েল ১৫%, জাপান ১৫%, জর্ডান ১৫%, কাজাখস্তান ২৫%, লাওস ৪০%, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ১০%, ফিজি ১৫%, ঘানা ১৫%, গায়ানা ১৫%, আইসল্যান্ড ১৫%, লেসোথো ১৫%, লিবিয়া ৩০%, লিচটেনস্টেইন ১৫%, মাদাগাস্কার ১৫%, মালাউই ১৫%, মালয়েশিয়া ১৯%, মরিশাস ১৫%, লদোভা ২৫%, মোজাম্বিক ১৫%, মিয়ানমার (বার্মা) ৪০%, নামিবিয়া ১৫%, নাউরু ১৫%, নিউজিল্যান্ড ১৫%, নিকারাগুয়া ১৮%
নাইজেরিয়া ১৫%, নর্থ মেসেডোনিয়া ১৫%, নরওয়ে ১৫%, পাকিস্তান ১৯%, পাপুয়া নিউগিনি ১৫%, ফিলিপাইন ১৯%, সার্বিয়া ৩৫%, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০%, দক্ষিণ কোরিয়া ১৫%, শ্রীলঙ্কা ২০%, সুইজারল্যান্ড ৩৯%, সিরিয়া ৪১%, তাইওয়ান ২০%, থাইল্যান্ড ১৯%, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ১৫%, তিউনিসিয়া ২৫%, তুরস্ক ১৫%, উগান্ডা ১৫%, যুক্তরাজ্য ১০%, ভানুয়াতু ১৫%, ভেনেজুয়েলা ১৫%, ভিয়েতনাম ২০%, জাম্বিয়া ১৫% ও জিম্বাবুয়ে ১৫%।