পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েনকে কেন্দ্র করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সাম্প্রতিক কড়া হুঁশিয়ারি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে। খামেনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলো ইরানের জলসীমার কাছাকাছি এলে সেগুলোকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো বিধ্বংসী ক্ষমতা এখন তেহরানের হাতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই হুমকির নেপথ্যে রয়েছে ইরানের অসামান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি। বিশেষ করে তাদের ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিমাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতি ও দক্ষতা: এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ দ্রুতগতিতে চলতে পারে এবং যেকোনো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
সহজ লক্ষ্যবস্তু: ইরানের দাবি অনুযায়ী, সাগরের বুকে বিশালকার মার্কিন রণতরীগুলো এখন তাদের এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তু মাত্র।
শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, ইরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ড্রোন ও সাবমেরিন প্রযুক্তিতেও বিপ্লব ঘটিয়েছে।
আধুনিক ড্রোন: নজরদারি ও আত্মঘাতী হামলার জন্য ইরানের কাছে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী ড্রোন ভাণ্ডার।
গেরিলা আক্রমণ: হরমুজ প্রণালীর মতো সংকীর্ণ পথে গেরিলা কায়দায় আক্রমণ চালাতে সক্ষম একঝাঁক আক্রমণাত্মক বোট ও সাবমেরিন প্রস্তুত রেখেছে তেহরান।
কৌশল: সরাসরি সম্মুখ সমরে না গিয়ে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সম্মিলিত শক্তিতে মার্কিন নৌবহরকে অচল করে দেওয়াই ইরানের মূল রণকৌশল।
যুক্তরাষ্ট্র এই হুমকিকে হালকাভাবে না নিয়ে ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, তাদের রণতরীগুলোর সুরক্ষা বলয় ভেদ করা প্রায় অসম্ভব। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বর্তমান যুগে কোনো কিছুই আর শতভাগ দুর্ভেদ্য নয়।
| পক্ষ | প্রধান অস্ত্র/শক্তি | কৌশলগত অবস্থান |
|---|---|---|
| ইরান | ফাত্তাহ হাইপারসনিক মিসাইল, ড্রোন, সাবমেরিন। | গেরিলা হামলা ও দূরপাল্লার নিখুঁত নিশান। |
| যুক্তরাষ্ট্র | বিমানবাহী রণতরী, শক্তিশালী সুরক্ষা বলয়। | সামরিক শক্তি প্রদর্শন ও উপস্থিতি বৃদ্ধি। |