দেশে চলমান জ্বালানি তেলের অস্থিরতা ও কৃচ্ছ্রসাধন নীতির মধ্যেই এবার বড় ধাক্কা খেল আকাশপথের যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলো। মার্চ মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটে ব্যবহৃত বিমান জ্বালানি বা ‘জেট ফুয়েল’-এর দাম এক লাফে অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৮ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মার্চ মাসের জন্য জেট ফুয়েলের নতুন এই দাম ঘোষণা করে। বিইআরসি’র তথ্য অনুযায়ী:
অভ্যন্তরীণ রুট: ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। মার্চ মাসের জন্য তা বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারপ্রতি খরচ বেড়েছে ১৭ টাকা ২৯ পয়সা।
আন্তর্জাতিক রুট: আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ০.৬২৫৭ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ০.৭৩৮৪ মার্কিন ডলার করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসেও জেট ফুয়েলের দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছিল (৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে ৯৫ টাকা ১২ পয়সা)। তবে এবারের বড় অংকের এই মূল্যবৃদ্ধি এভিয়েশন খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এয়ারলাইন্স মালিকদের মতে, একটি ফ্লাইটের মোট ব্যয়ের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশই যায় জ্বালানি খাতে। ফলে জেট ফুয়েলের দাম এভাবে বাড়লে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ সরকারি কৃচ্ছ্রসাধন ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ২৬ মার্চে আলোকসজ্জা না করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই বহুমুখী সংকটের মাঝে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক পরিবহন ও পর্যটন খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।