• রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
আট উপদেষ্টা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ভজঘট অথবা, আট উপদেষ্টা দুর্নীতির বিষয়টি থেকে গেল নিস্পত্তিহীন। ডাকসুতে সংসদ নির্বাচনের রিহার্সাল না অন্য কিছু অথবা দাবি আদায়ের নামে জনদুর্ভোগ। ‘মব ভায়োলেন্স’ থামাতে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয় সেনাবাহিনী: আইএসপিআর এবার আটা-ময়দা-ডালের দামও বাড়লো নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা হয়েছে: রাশেদ খাঁন ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক নুরের ওপর হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ: অ্যাটর্নি জেনারেল স্যোশালমিডিয়ার গুজব-মিথ্যা রোখা কি অসাধ্য? এক নজরে এশিয়া কাপের ছয় দলের স্কোয়াড ফরেনসিক পরীক্ষার অপেক্ষায় তৌহিদ আফ্রিদির তিন ডিভাইস

ডাকসুতে সংসদ নির্বাচনের রিহার্সাল না অন্য কিছু অথবা দাবি আদায়ের নামে জনদুর্ভোগ।

Reporter Name / ২ Time View
Update : শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

-রিন্টু আনোয়ার
জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পেরোতে না পেরোতেই জন-আকাঙ্ক্ষা যখন মিইয়ে যাচ্ছে,  তখনই গণতন্ত্রের প্রথম পরীক্ষা হিসেবে হাজির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচন। কারো কারো কাছে এটি বাংলাদেশের ‘দ্বিতীয় সংসদ’। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ওপরেই নির্ভর করছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ।
বর্তমানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভয়হীন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আবাসিক হলগুলো থেকে ‘গেস্টরুম সংস্কৃতি’ (নির্যাতন করা) বিদায় নিয়েছে। হলে হলে গণরুমে গাদাগাদি করে আর থাকতে হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। এখন আর কাউকে জোর করে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে নেওয়া হয় না। গণ-অভ্যুত্থানের পর এবার অনেকটাই ভয়হীন পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে। ভোট শেষে ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র সেনাসদস্যরা ঘিরে রাখবেন। ভোট গণনার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেন শিক্ষা ও গবেষণার সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসে। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির অবসান হয়। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটে।
সাত দশকের ইতিহাসে মাত্র ৩৭ বার নির্বাচন হলেও ডাকসু সারাদেশের ছাত্র-জনতার আবেগ, অনুভূতি ও অভিব্যক্তির এক মূর্ত প্রতীক। তাই অনেকের চোখ ডাকসু নির্বাচনের দিকে। এরপর জাহাঙ্গীরনগরের জাকসু, রাজশাহীর রাকসু বা চট্টগ্রামের চাকসুসহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন। আবহ এগোচ্ছিল সেভাবেই। এর মাঝেই বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো হঠাৎ ইস্যু বুয়েট।
ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসুসহ বিভিন্ন  বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার যেন একটু বাঁক ঘুরছিল। যা ছিল টানা কিছুদিন ধরে চলা একমুখী ক্যাচাল-প্যাচাল থেকে নিস্তার বা মুক্তির মতো। দিন কয়েকের মধ্যেই সেখানে ছন্দপতন। আবারও পুরনো দৃশ্যপটে ফিরে চলা।
বলা নেই, কওয়া নেই গোছ লেংটি দিয়ে নামার মতো মাঠে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। কী তাদের দাবি, কী উদ্দেশ্য, কী বিধেয়-তা বুঝতে বুঝতেই দৃশ্যপটে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। তাদের নামের আগে প্রকৌশলী লিখতে না দেওয়া, পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা এবং দশম গ্রেডের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ দেওয়া। কী চমৎকার সব দাবি! আজ শাহবাগে, কাল কাকরাইল-যমুনার দিকে ছুটে চলা। যে ছুটে চলার লক্ষ হতে পারতো মানিক মিয়া এভিনিউর দিকে, জাতীয় সংসদ ভবনমুখে।
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড় অবরোধ নেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। আবারও শাহবাগে জমায়েত। প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি মো. ওয়ালী উল্লাহ শাহবাগে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, তিন দফা দাবির কোনোটাই এখন পর্যন্ত পূরণ হয়নি। তাঁদের আন্দোলন চলমান থাকবে। আপাতত জনদুর্ভোগ হয়—এমন কর্মসূচিতে না যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। এর তেজ ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার বাইরেও। ঢাকায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে এবং প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রাম শহরের ২ নম্বর গেট এলাকায় ও রাজশাহী শহরের তালাইমারী মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে সারা দেশে সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন অব ইঞ্জিনিয়ার্স’ কর্মসূচি পালন। ক্লাস-পরীক্ষা বয়কট। অন্যদিকে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিপেটা করে পুলিশ। রাজধানীর কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
কার সাথে কার সংযোগ বা বিরোধ, সব অস্পষ্ট। আগা-মাথাহীন একটা পরিস্থিতি। এর মাঝে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। দিয়েছে কড়া বিবৃতি। এসবের মধ্য দিয়ে একটায় আরেকটা হারিয়ে যাচ্ছে। ডাকসু, জাকসুর আলোচনা-আগ্রহ  তিতা হয়ে যাচ্ছে। আর জনভোগান্তি তো ফ্রি, বিশেষ পাওনার মতো। কাকরাইল-শাহবাগের মতো এলাকা ১০-১৫ মিনিট বন্ধ থাকলেও গোটা ঢাকার ওপর কী প্রভাব পড়ে ভুক্তভোগীরা তা হাড়ে হাড়ে টের পান। পারিপার্শ্বিকতা এতো বিপজ্জনক যে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করাও বিপদ। সরকারও আছে একটা কঠিন অবস্থায়। শক্ত পদক্ষেপ নিতে গিয়েও নিতে পারছে না। আনসারদের পুলিশ বা সৈনিক হওয়ার আন্দোলন, ফেল করা এসএসসি/এইচএসসি ছাত্রদের অটো প্রমোশনের আবদার, আর এর সঙ্গে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ডিপ্লোমাদের গ্র্যাজুয়েট ‘প্রকৌশলী’ হওয়ার বাসনা। বুয়েট শিক্ষার্থীরা সারা দেশের ডিগ্রি প্রকৌশলীদের একাত্ম করতে পেরেছে।  তাদের আগে বহুদিন ধরেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে ‘ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্ট’রা আন্দোলন করে আসছিলেন। যুক্তিতে সবাই পাকা। ডিপ্লোমারা বলছেন, বুয়েট রিকশা বানায় আর তারা রোবট বানান।  আইআইটি আর এমআইটি থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটরা তাঁদের মতোই ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী। সাধারণ মানুষ বুঝে না বুঝে মজা পাচ্ছে। বিনোদিত হচ্ছে।
নাসা রোবট প্রতিযোগিতায় প্রতিবছর বুয়েট, ঢাবি আর এনএসইউর মতো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দলগুলো প্রাথমিকভাবে বাছাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মূল পর্বে অংশগ্রহণ করছে এবং ভালো করছে। গ্রামের যে ছেলে নিজের উদ্যোগে একটি হালকা বিমান আকাশে উড়িয়ে বাকিদের কাত করে দিচ্ছে। এসব নিয়ে বুয়েট-চুয়েট-কুয়েট-ডিপ্লোমা আর রিকশার গ্যারেজ ক্যাচাল। আসল বিষয়টা আর সামনেই আসছে না। কাকরাইল-শাহবাগ হইহুল্লোড়ে সব একাকার। মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীরা যে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে, সেই তথ্য হারিয়েই যায়। এর সমান্তরালে  নাসা থেকে শুরু করে বোয়িং, রোলস রয়েস কিংবা সিলিকন ভ্যালি—সব জায়গাতেই বুয়েট গ্র্যাজুয়েট কিংবা বাংলাদেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েট প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততার অনেক তথ্যই আমাদের অজানা। চুয়েট, রুয়েট, কুয়েটসহ আর সব পাবলিক কিংবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও পাস করা অনেক মেধাবী প্রকৌশী দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ  করছেন। বিশ্বের সর্বোচ্চ ইমারতের নির্মাতা বাংলাদেশি। যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে পাওয়া যায় তাদের।
রাস্তার রাজনীতি আর অস্বচ্ছ হাউকাউতে এসব তথ্য আর তথ্যমূল্য পায় না। সারা বিশ্ব, কারিগরি পেশার সর্বোচ্চ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যালায়েন্স (আইইএ) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে কারিগরি পেশায় তিনটি স্তরের কথা উল্লেখ করে এ পেশায় পড়াশোনা ও কর্মপরিধির জন্য তিন ধরনের নীতি প্রণয়ন করে রেখেছে। এই তিন স্তরের সর্বোচ্চটি হচ্ছে পেশাদার ‘প্রকৌশলী’দের জন্য, যা ‘ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড’–এর আওতাধীন নিয়ন্ত্রিত। দ্বিতীয় স্তরটির ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তাঁদের বলা হবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজিস্ট’ এবং তাঁরা পরিচালিত হবেন ‘সিডনি অ্যাকর্ড’–এর আওতায়। তৃতীয় স্তরটিকে বলা হয়েছে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনিশিয়ান’ এবং তাঁরা পরিচালিত হবেন ‘ডাবলিন অ্যাকর্ড’–এর আওতাধীন। এখানে তিনটি স্তরের কারিগরি পেশাজীবীদের কে, কী নামে পরিচিত হবেন, তা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে।
অথচ বাংলাদেশে গোলমাল। ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্টরা প্রায়ই নিজেদের ‘প্রকৌশলী’ দাবি করেন। কেবল  ইঞ্জিনিয়ারিং নয়, কৃষি ও মেডিকেল শিক্ষায় একই ধরনের কয়েকটি পর্যায় বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে বিদ্যমান ও সরকারি চাকরিতে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের সুবিধাদি দেওয়া হয়ে থাকে।
বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্টরা পরবর্তী সময়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করে ডিগ্রি প্রকৌশলী হতে পারেন। এরপর  একজন প্রকৌশলীর জন্য প্রযোজ্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন। কিন্তু দেশে এ নিয়ে চরম রাজনীতি। ভোট-ভোটার বিবেচনায় আসে সরকারি সিদ্ধান্ত। এখন নির্বাচন সামরে রেখে যা হচ্ছে, সেটি সত্যি সত্যি দাবি আদায়ের জন্য না নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতার জন্য-এ প্রশ্ন অনেকের। দেশের সব চেয়ে বড় দল বিএনপি থেকেও এ শঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনকে বানচাল করতে নিত্যনতুন দাবি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনীতির এই বেহাল অবস্থা দেখতে হতো না বলে শক্ত অভিমত তার। তিনি প্রকোশলী, কৃষিবিদ বা চিকিসকসহ পেশাজীবীদের প্রতি ইঙ্গিত করেননি। তার ছোঁড়া অভিযোগের তীর কিছু রাজনৈতিক দলের দিকে। কিন্তু, সাধারণ মানুষের জিজ্ঞাসা ছাত্র, চাকরিজীবীসহ কিছু পেশাজীবীর দিকে। কিছুদিন পর পরই তাদের কে –কারা নামিয়ে দেয়? কী তাদের উদ্দেশ্য?
গাড়িচালক, রিকশাচালক, ফেরিওয়ালা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তা প্রহরী, এবং বিভিন্ন ধরনের হকার ও বিক্রেতারাও বাদ যাচ্ছেন না। পেশাজীবী বলতে যে মানুষ কাকে বুঝবে, তাও বিদঘুটে। সাদামাটেভাবে আমরা জানি, পশোজীবী কোন চ্যারিটি বা বদান্যতা নয়।  ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, চার্টার্ড একাউটেন্ট, ইত্যাদি পেশায় চাইলেই কেউ অভিষেক ঘটাতে পারে না। এজন্য অনেক পড়াশোনা-অধ্যবশায়ের বিষয় রয়েছে। প্রকৃত পেশাজীবী হতে বহুবিধ গুণাবলী জরুরি। নিজ নিজ পড়াশোনার পর পেশাভুক্ত হওয়া। এরপর নিয়ামানুবর্তিতা,  সময়ানুবর্তিতা, কাজের সামঞ্জস্যতাসহ আরো অনেক চর্চা থাকতে হয় নিয়মিত। এই তারাই যখন রাজনীতির সস্তা আইটেম হয়ে যান,তখন শিক্ষার্থীদের বিকৃত-বিক্রিত করা বা হওয়া তো ব্যাপারই না। আমাদের সম্ভাবনা ও আশাবাদে যোগ হওয়া বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের দিকে তাকালেও সেই নমুনা স্পষ্ট। তারা এরইমধ্যে তিন-চারভাগে  বিভক্ত। ডাকসু নির্বাচনেও তারা রয়েছে তিনটি প্যানেলে। অভিন্ন থাকলে এবারের ডাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে চমক দেখানো সম্ভব ছিল তাদের। এরইমধ্যে সেই সম্ভাবনা আরো নানা কারণে বরবাদ হয়ে গেছে। তারা নিজেরাই নিজেদের এ অবস্থা ডেকে এনেছে, না এর পেছনে ঘটক-অনুঘটক রয়েছেন- তা অজানা থাকবে না।
অথচ হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের বিনিময়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের দুর্নীতি-দুঃশাসনের হাত থেকে জাতি মুক্তি পেয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের শুরুতে যেমন পতিত স্বৈরাচারের দোসররা নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে সরকার ও দেশের মানুষ যখন আন্তর্জাতিক মানের একটি অবাধ, সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তখন নতুন নতুন দাবি-দাওয়া হাজির করে আবারো রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।
জাতির এ গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে নানা দাবি-দাওয়ার জুজু দেখিয়ে কেউ যেন নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। যৌক্তিক দাবি দাওয়া যথাযথ প্রক্রিয়া উপস্থাপন করে তা সমাধানে সরকারকে সময় দিতে হবে। রাজপথ অবরোধ ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা সমর্থনযোগ্য নয়।
…..
লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category