আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। সীমান্ত সংঘাতের জেরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ শুক্রবার এক ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষের প্রতি ইসলামাবাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে এবং দুই দেশ এখন কার্যত একটি “খোলামেলা যুদ্ধের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা শুরু করে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, কাবুল, দক্ষিণ-পূর্ব পাকতিয়া প্রদেশ এবং কান্দাহারে তালেবানের প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় আফগানিস্তানের দুটি বড় ব্রিগেড ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে এবং অন্তত ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে তালেবান সরকার এই সংখ্যা অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, হামলায় মাত্র ৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং পাল্টা হামলায় তারা ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যাসহ ১৯টি সামরিক পোস্ট দখল করেছে।
বিশ্লেষকরা এই সংঘাতের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন: ১. ডুরান্ড লাইন বিতর্ক: ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তকে আফগানিস্তান কখনোই স্বীকৃতি দেয়নি। তাদের মতে, এটি পশতুন জনগোষ্ঠীর এলাকাকে অন্যায্যভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। ২. টিটিপি (TTP) ইস্যু: পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান তালেবানরা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর যোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। টিটিপি সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে আসছে। ৩. আদর্শিক দ্বন্দ্ব: আফগান তালেবান টিটিপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনিচ্ছুক, কারণ তাদের মধ্যে গভীর ধর্মীয় ও ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে।
দুই দেশের সামরিক সক্ষমতায় ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে। পাকিস্তানের একটি শক্তিশালী বিমান বাহিনী রয়েছে, যা আফগানিস্তানের নেই। ফলে পাকিস্তান আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তান অপ্রচলিত গেরিলা কৌশলে হামলা চালাচ্ছে, যেখানে তারা আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এবং কামিকাজে ড্রোন ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের এই বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ, ইরান এবং রাশিয়া উভয় পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম এই দুই প্রতিবেশী দেশকে ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছে ইরান ও রাশিয়া।
| পক্ষ | সাফল্যের দাবি (নিজেদের) | হতাহতের দাবি (প্রতিপক্ষের) |
|---|---|---|
| পাকিস্তান | ২৭টি তালেবান পোস্ট ধ্বংস ও ৯টি দখল। ৮০টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস। | ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত। |
| আফগানিস্তান | পাকিস্তানের ২টি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল। | ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত। |