রাজধানীর মিন্টো রোডে এখন উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ আড়াই দশক পর দেশের রাজনীতির প্রধান দুই মেরুর শীর্ষ দুই নেতাকে দেখা যেতে পারে একে অপরের প্রতিবেশী হিসেবে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উঠছেন তারেক রহমান, আর তার ঠিক পাশেই ২৯ নম্বর বাড়িটি প্রস্তুত করা হচ্ছে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য।
দুই নেতার প্রতিবেশী হওয়ার সম্ভাবনা
মিন্টো রোডের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বাসভবন ঘিরে এখন গোয়েন্দা নজরদারি ও সাজসজ্জার ধুম পড়েছে। যদিও জামায়াত আমির সরকারি বাসভবনে উঠবেন কি না, তা নিয়ে এখনও দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সরকারিভাবে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা এই সম্ভাব্য প্রতিবেশিত্ব নিয়ে বেশ কৌতুক ও আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
বাসভবনে দুই ‘চিকিৎসক’ গিন্নি
যদি জামায়াত আমির এই বাসায় ওঠেন, তবে মিন্টো রোডে ঘটবে এক অনন্য কাকতালীয় ঘটনা। দেশের সরকার প্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতা—উভয় পরিবারের গৃহকর্ত্রীই পেশায় চিকিৎসক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী আমেনা বেগম—উভয়েই স্বনামধন্য চিকিৎসক। ফলে মিন্টো রোডের এই অংশটি ‘ডাক্তার পাড়া’ হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে বলে রসিকতা করছেন অনেকে।
রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল
দীর্ঘ ২৫ বছর পর এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা কাছাকাছি অবস্থান করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হতে পারে। মিন্টো রোডের চিরচেনা নিরিবিলি পরিবেশে এখন দুই নেতার বসত গড়া নিয়ে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।