দুর্নীতি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুস সালাম ব্যাপারী। আজ রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা হয়।
গত ৩ মার্চ কানাডার আলোচিত ‘বেগমপাড়া’ এলাকায় আব্দুস সালামের স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল বাড়ি থাকার বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দাপ্তরিক সব অনুষ্ঠান ও জনসমক্ষে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। এমনকি সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে ওয়াসার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়নি।
আব্দুস সালামের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
ওয়াসার অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে:
চাকরির শুরু: ১৯৯১ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে তিনি ঢাকা ওয়াসায় যোগ দেন।
আয় বনাম সম্পদ: দীর্ঘ ৩৫ বছরের চাকরি জীবনে তিনি বেতন-ভাতা বাবদ আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা পেয়েছেন। কিন্তু কানাডায় তার স্ত্রীর নামে থাকা বাড়ির মূল্য এবং তার অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এই আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে অনেকটা বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ ছিল। শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে স্ত্রীর নামে কানাডায় বাড়ির তথ্য বেরিয়ে আসায় পদ হারিয়ে তাকে এখন আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ঢাকা ওয়াসার জনতথ্য কর্মকর্তা ইমরুল হাসান বিকেল সোয়া চারটার দিকে এমডির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।