বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং রপ্তানি আয়ের ধারা সুসংহত করতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিদ্যমান শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সর্বশেষ বাণিজ্য চুক্তির বিষয়গুলো নতুন করে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর ইউএসটিআরের (USTR) সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) আগামী সম্মেলনেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিদ্যমান বাধাগুলো কাটানোর বিষয়ে কার্যকর সমাধান চাওয়া হবে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হলো বৈশ্বিক বাণিজ্যের বাধা কাটানো ও রপ্তানির নতুন বাজার অনুসন্ধান করা।
তৈরি পোশাক, চামড়া ও আইটি খাতের বাজার বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিযোগী দেশ হিসেবে ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রায় ৪০টি দেশের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) রয়েছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারও দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ (FTA) এবং পিটিএ (PTA) করার কৌশল নিয়েছে।
সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে অন্তত চারটি দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে:
দক্ষিণ কোরিয়া * সিঙ্গাপুর * মালয়েশিয়া * সংযুক্ত আরব আমিরাত পরবর্তী ধাপে কানাডা, চীন, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও এফটিএ করার তালিকা প্রস্তুত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের সময়সীমা অন্তত তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য জাতিসংঘে আবেদন করেছে সরকার। রপ্তানি বাজার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের স্বার্থে গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ট্রেড ব্লকের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সমন্বিত নীতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
| লক্ষ্যমাত্রা/উদ্যোগ | বিবরণ |
|---|---|
| প্রধান অগ্রাধিকার | শুল্ক-অশুল্ক বাধা দূর করা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধান। |
| আসন্ন এফটিএ (নভেম্বর ২০২৬) | সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। |
| বিশেষ পর্যালোচনা | যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সর্বশেষ বাণিজ্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন। |
| এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন | সময়সীমা ৩ বছর পেছানোর জন্য জাতিসংঘে আবেদন। |
| বহুমুখীকরণ খাতসমূহ | তৈরি পোশাক, চামড়া ও আইটি সেক্টর। |