জাতীয় রাজনীতির মাঠ গরম থাকতেই এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভালো ফল করার পর এখন তাদের তুরুপের তাস ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন’। দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মূলত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে তাদের প্রধান রণকৌশল।
অন্যান্য দল যখন ঘরোয়া রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত, জামায়াত তখন উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিশেষ করে রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চায় দলটি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পেলেও ঢাকার চিত্র ছিল ভিন্ন। রাজধানীর ১৫টি আসনের মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭টি আসনে জয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছে। বিএনপি জোটের চেয়ে একটি আসন কম পেলেও ভোট প্রাপ্তির হিসেবে জামায়াত জোট এগিয়ে ছিল। এই পরিসংখ্যানই জামায়াতকে স্থানীয় নির্বাচনে সিটির মেয়র পদে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও জোটগতভাবেই মাঠে থাকবে ১১ দল। আসন বণ্টনের সময়ই এই সমঝোতা চূড়ান্ত করা হয়েছিল, যা এখনো অটুট রয়েছে বলে জামায়াতের নেতারা নিশ্চিত করেছেন।
প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেওয়ার পর থেকে বর্তমানে প্রশাসকদের দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। তবে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে দ্রুত নির্বাচনের ইঙ্গিত পাওয়ায় জামায়াত তাদের প্রস্তুতিতে আরও গতি বাড়িয়েছে।