ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ভয়াবহ বিস্তৃতির আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশ থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক নজিরবিহীন জরুরি সতর্কবার্তায় নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দ্রুত অঞ্চলটি ত্যাগের প্রস্তুতি নিতে বলেছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির শীর্ষে থাকা ১৪টি দেশের মধ্যে রয়েছে— সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, জর্ডান, মিশর, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড। এসব দেশে ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভ্রমণ সতর্কতা (লেভেল-৪) জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার বিষয়ক সহকারী সচিব মোরে নামদার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় জানান, গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে বাণিজ্যিক পরিবহণ ব্যবহার করে এখনই দেশ ত্যাগ করতে হবে। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কর্মীরা ইতোমধ্যেই তাদের কূটনৈতিক স্থাপনা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।
আল জাজিরা-র প্রতিবেদক প্যাটি কালহেন জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন সরাসরি দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া নজিরবিহীন। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সতর্ক করে, তবে এবারের পরিস্থিতি এতটাই সংকটাপন্ন যে সরাসরি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক বক্তব্যে জানান, এই সংঘাত অন্তত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এটি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। মূলত গত শনিবার ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পর তেহরানের পাল্টা জবাব শুরু হতেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
অঞ্চলটির আকাশপথ বর্তমানে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল অনেক দেশেই সীমিত বা বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক লক্ষ মার্কিন নাগরিককে কীভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
| নির্দেশনা | অবিলম্বে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশ ত্যাগ করুন। |
| আক্রান্ত অঞ্চল | জর্ডান, সৌদি আরব, ইউএই ও কাতারসহ ১৪ দেশ। |
| বর্তমান অবস্থা | আম্মান দূতাবাস খালি করা হয়েছে। |
| সম্ভাব্য যুদ্ধের মেয়াদ | ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ (ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথ্যমতে)। |