মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সংঘাতের সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, যা গত চার বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—উভয় ব্র্যান্ডের তেলের দামই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
বিবিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে ১০৮ দশমিক ৬৮ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই (WTI) বিক্রি হয়েছে ১০৮ ডলারে। একদিনের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৮ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময় তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান অস্থিরতা।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব: পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা এই পথটি ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে সম্পন্ন হয়।
ইরানের পদক্ষেপ: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি (IRGC) হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
জাহাজে হামলা: ব্রিটিশ সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম অপারেশনস’-এর তথ্যমতে, গত ১০ দিনে অন্তত ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জাহাজ মালিক ও বীমা কোম্পানিগুলো এই রুট ব্যবহারে দ্বিধাবোধ করছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানি কার্যক্রম এই প্রণালীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এখন এই রুট ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের চেইন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে পণ্য পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।