ফিলিস্তিনের গাজায় ছড়িয়ে পড়া তীব্র খাদ্যসংকট নিয়ে কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এর মধ্যেই এবার গাজার কিছু অংশে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অভিযান বন্ধ ও নতুন ত্রাণ করিডর চালুর ঘোষণা দিয়েছে তারা। আজ রোববার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গাজার আল-মাওয়াসি, দেইর আল-বালাহ ও গাজা সিটিতে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। মার্চে গাজায় ফের সামরিক অভিযানে নামার পর এসব এলাকার বেশিরভাগ অংশেই তেল আবিব নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করেনি।
এই বিরতির পাশাপাশি খাবার ও ওষুধবাহী ত্রাণবহরের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ রুট সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত স্থায়ীভাবে চালু থাকবে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। রোববার মিশরের রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট টিভি আল কাহেরা নিউজ জানায়, মিশর থেকে গাজার পথে ত্রাণবাহী ট্রাক যাত্রা শুরু করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েল আকাশ থেকে গাজার বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণ ফেলা শুরু করে।
এই ঘোষণার মধ্যেই আজ ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, আর রোববার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪৩ জন মারা গেছে। এর মধ্যে ২৯ জন মারা গেছে ত্রাণ নিতে গিয়ে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় প্রতি তিনজনে একজন দিনের পর দিন না খেয়ে থাকছেন বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ডব্লিউএফপি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
এক বিবৃতিতে ডব্লিউএফপি জানায়, ‘গাজায় পুষ্টিহীনতা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। ৯০ হাজার নারী ও শিশুর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।’
অনাহার পরিস্থিতি চলতি সপ্তাহে আরও তীব্র হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার অপুষ্টিতে গাজায় আরও ৯ জন মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর ভূখণ্ডটিতে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১২২।
গাজায় সব ধরনের পণ্য সরবরাহের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, সহায়তা যেন হামাসের হাতে না পড়ে, সে জন্যই কড়া নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের জন্য এবং গাজায় অপুষ্টিজনিত সমস্যার জন্য হামাস দায়ী।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান নতুন করে বিমান থেকে ত্রাণ ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে জর্ডানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের কাছ থেকে এখনো তাদের সেনাবাহিনী এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি পায়নি।