পবিত্র রমজান মাসে কোটি কোটি মুসলমান সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারে বিরত থাকেন। দীর্ঘ সময় উপোস থাকা কেবল ধর্মীয় ইবাদতই নয়, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি মানবদেহের জন্য এক বিশাল ‘ডিটক্স’ বা শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া। এক মাস রোজা রাখার ফলে আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেভাবে সাড়া দেয়, তার একটি পর্যায়ক্রমিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
খাবার খাওয়ার অন্তত ৮ ঘণ্টা পর শরীর উপোসের প্রভাবে পড়ে। যখন পাকস্থলীতে আর খাবার থাকে না, তখন শরীর যকৃৎ ও মাংসপেশীতে জমানো গ্লুকোজ থেকে শক্তি নেওয়া শুরু করে।
উপকারিতা: চর্বি গলতে শুরু করায় ওজন ও কোলেস্টেরল কমে।
লক্ষণ: রক্তে শর্করা কমে যাওয়ায় মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা নিশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে। এটি শরীরের মানিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক সংকেত।
এই পর্যায়ে শরীর চর্বি গলিয়ে শক্তিতে রূপান্তর করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তবে দীর্ঘ সময় পানি পান না করায় পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকে।
সতর্কতা: ইফতার ও সেহরিতে প্রচুর পানি পান করা জরুরি।
খাদ্যাভ্যাস: কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ ভারসাম্যপূর্ণ খাবার শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
এই স্তরে শরীর ও মন রোজার সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নেয়। ক্যামব্রিজের এডেনব্রুকস হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ড. রাজিন মাহরুফের মতে, সাধারণ সময়ে আমরা অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার খাই বলে শরীর নিজেকে সারিয়ে তোলার সময় পায় না।
উপকারিতা: রোজা রাখলে শরীর তখন ক্ষত সারিয়ে তোলা বা সংক্রমণ রোধের মতো অভ্যন্তরীণ কাজের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে।
রমজানের দ্বিতীয় ভাগে শরীরের পাচকতন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি এবং ত্বক এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়।
শুদ্ধিকরণ: শরীর থেকে সব দূষিত বস্তু বেরিয়ে যায়। ফলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের পূর্ণ কর্মক্ষমতা ফিরে পায়।
মানসিক প্রভাব: স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের উন্নতি ঘটে এবং শরীরে অফুরন্ত শক্তির সঞ্চার হয়।