ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নারী নেতৃত্ব নির্বাচনে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি আদর্শিক ও কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে। যেখানে বিএনপি ‘নতুন নেতৃত্ব’ বিকাশে জোর দিচ্ছে, সেখানে জামায়াতে ইসলামী ‘যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার’ সমন্বয়ে তাদের তালিকা সাজাচ্ছে।
বিএনপি: দলটি কঠোরভাবে ‘এক পরিবার এক প্রার্থী’ নীতি অনুসরণ করছে। এর ফলে প্রভাবশালী ও পরিচিত অনেক মুখ বাদ পড়ছেন, যা তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
জামায়াত: জামায়াতের ক্ষেত্রে মূল মানদণ্ড হলো ‘ধার্মিকতা, সৃজনশীলতা ও পেশাগত যোগ্যতা’। তারা বিশেষ করে চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাধান্য দিচ্ছে।
বিএনপি: কেন্দ্রীয় নেতাদের স্ত্রীদের (যেমন: আফরোজা আব্বাস, হাসিনা আহমেদ) বাদ পড়ার সম্ভাবনা বেশি, যদি না তাদের বিগত দিনের ত্যাগকে বিশেষ বিবেচনা করা হয়।
জামায়াত: এখানে শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীদের (যেমন: আমিনা বেগম, হাবিবা রহমান) অগ্রাধিকার পাওয়ার প্রবল গুঞ্জন রয়েছে, বিশেষ করে যাদের পূর্ববর্তী সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বিএনপি: আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা নেত্রীদের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকাদের (বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা) উচ্চকক্ষে বা সংরক্ষিত আসনে মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জামায়াত: তারা পুরোপুরি পেশাজীবী নির্ভর একটি তালিকা তৈরি করেছে, যেখানে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক বা আইনজীবীদের মতো প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
| বৈশিষ্ট্য | বিএনপি (BNP) | জামায়াতে ইসলামী |
|---|---|---|
| সম্ভাব্য আসন সংখ্যা | ৩৫ থেকে ৩৭টি | ১০ থেকে ১১টি |
| প্রধান কৌশল | এক পরিবার এক প্রার্থী। | যোগ্যতা ও সৃজনশীলতা। |
| আলোচিত প্রার্থী | বিলকিস জাহান শিরিন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। | আমিনা বেগম, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। |
| জোটের সমঝোতা | স্বতন্ত্রদের সমন্বয় হতে পারে। | এনসিপিকে আসন দেওয়া হতে পারে। |
দুই দলের এই ভিন্ন কৌশল প্রমাণ করে যে, বিএনপি নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে ঝুঁকি নিতে চায়, আর জামায়াত তাদের পরিচিত ও বিশ্বস্ত কাঠামোর ওপরই আস্থা রাখতে পছন্দ করছে।