ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের রফা বা সমঝোতার সম্ভাবনাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের একমাত্র সমাধান হতে পারে ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’। ট্রাম্পের দাবি, গত এক সপ্তাহের সামরিক অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অনেকাংশে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক অভিযানের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তার দাবি অনুযায়ী:
নৌ ও বিমান শক্তি: ইরানের ৪৪টি যুদ্ধজাহাজ এবং অধিকাংশ যুদ্ধবিমান মার্কিন হামলায় নিশ্চিহ্ন বা অকেজো হয়ে পড়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন: হামলার আগে ও পরের সক্ষমতার তুলনা করে ট্রাম্প জানান, বর্তমানে ইরান যুদ্ধের শুরুর তুলনায় মাত্র ৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারছে। এছাড়া দেশটির ৭০ শতাংশ রকেট লঞ্চার অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।
নেতৃত্বের ওপর আঘাত: ইরানের সম্ভাব্য সব স্তরের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখন আলোচনার জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও আমরা কোনো রফাদফায় রাজি নই।” তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে অবশ্যই নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে, যাতে দেশটি ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের সংঘাতের পথে না হাঁটে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, মার্কিন বাহিনী এখন ওই এলাকাটিকে বিপদমুক্ত রেখেছে এবং ইরানি নৌবাহিনী আর সেখানে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক মন্তব্যের পর ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তেহরানের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিধি বাড়িয়ে সরাসরি হত্যার হুমকি দিচ্ছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না এবং আমেরিকান বাহিনী ও স্থাপনাগুলোকে এখন তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামরিক সাফল্যের দাবি এবং পাল্টা হুমকির এই দ্বন্দ্বে মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক চরম অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।