যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন হিল্টন হোটেলে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস ডিনারে (নৈশভোজ) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে আকস্মিক গুলির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ট্রাম্প দম্পতিকে নিরাপদে সরিয়ে নেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীকে আটক করা হয়।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতের এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে যাকে আটক করা হয়েছে তার নাম কোল টমাস অ্যালেন (Cole Thomas Allen)।
অ্যালেন সম্পর্কে যা জানা গেছে:
পরিচয়: কোল টমাস অ্যালেনের বয়স ৩১ বছর।
বাসস্থান: তিনি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের টরেন্স (Torrance) শহরের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অস্ত্রশস্ত্র: প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই সন্দেহভাজনের কাছে ‘একাধিক অস্ত্র’ ছিল। এর মধ্যে একটি শটগান, একটি হ্যান্ডগান এবং একাধিক ছুরি উদ্ধারের কথা জানা গেছে।
হামলার ধরন: প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, প্রায় ২,৬০০ অতিথির উপস্থিতিতে ডিনার চলাকালীন অ্যালেন একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের একটি সিকিউরিটি চেকপয়েন্টে অতর্কিত হামলা চালান। নজরদারি (সিসিটিভি) ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি দ্রুত নিরাপত্তা স্ক্রিনিং এলাকা অতিক্রম করার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার দিকে অস্ত্র তাক করে তাকে আটক করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি প্রকাশ
ঘটনার পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন যে, সন্দেহভাজন এই হামলাকারী মূলত একজন ‘সম্ভাব্য হত্যাকারী’। তিনি জানান, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের কিছু ‘অত্যন্ত সাহসী’ সদস্য এই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ধরে ফেলেন এবং তাকে নিষ্ক্রিয় করেন।
ট্রাম্প আরও নিশ্চিত করেন যে, এই গোলাগুলির ঘটনায় একজন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি একটি খুব ভালো মানের বুলেটপ্রুফ ভেস্ট (বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট) পরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হামলাকারীর ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেই ভিডিও বা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় মাটিতে ফেলে বেঁধে রেখেছে পুলিশ।
আইনি ব্যবস্থা ও অভিযোগ
ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার ইউএস অ্যাটর্নি জিনাইন পিরো জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কোল টমাস অ্যালেনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মূলত দুটি অভিযোগ আনা হবে:
১. সহিংস অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার।
২. বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ফেডারেল (কেন্দ্রীয়) কর্মকর্তার ওপর হামলা।
অ্যাটর্নি জিনাইন পিরো বলেন, “এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্য নিয়েই সেখানে এসেছিল। তবে প্রবেশমুখের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টটি অত্যন্ত কার্যকর থাকায় একটি বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”