দুর্নীতি রোধ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, “দুর্নীতির সঙ্গে আমরা কোনো আপস করতে চাই না। দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে নিয়মের মধ্যে আনাই সরকারের লক্ষ্য। আমরা সুশাসনকে রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি করতে চাচ্ছি।”
রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে মাঠ প্রশাসনে জনরায়ের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এখন থেকে জনপ্রশাসনে পদায়ন ও বদলির একমাত্র নীতি হবে সততা, মেধা ও দক্ষতা।
ডিসিদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানে, যেকোনো পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের সবসময় প্রস্তুত রাখুন।”
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের এক বিশাল বোঝা মাথায় নিয়ে এই সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে।”
তবে এই সংকট উত্তরণে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলে এই ঋণের বোঝার ভার কমানো সম্ভব। জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে কীভাবে এসব সমস্যার যৌক্তিক সমাধান করা যায়, সরকার নিবিড়ভাবে সেই পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি বিষয় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের বিশেষ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, সেদিকে জেলা প্রশাসকদের তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।
এছাড়া, বর্তমান বৈশ্বিক ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’ নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।