• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
Headline
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবি প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে ইরানের সম্মতি, চুক্তির সম্ভাবনা আতাউর রহমান সম্পর্কে আবুল হায়াতের আবেগঘন স্মৃতিচারণ সুস্থ ও প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা গরু চেনার উপায় চুক্তি না হলে ইরানের সঙ্গে ‘বড় সংঘাতের’ হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টাঙ্গাইলে রডবাহী ট্রাক খাদে উল্টে নিহত পনেরো যাত্রী টানা তৃতীয় বছরের মতো গাজায় নেই কোরবানির ঈদ চাঁদপুরে আকস্মিক ঝড়ের কবলে যাত্রীবাহী লঞ্চ আহত অর্ধশতাধিক গরু কোরবানির দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু খামারিদের বিক্ষোভ শিশু রামিসা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল শুনানি জুনে

সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরলেন উপদেষ্টা

Reporter Name / ২ Time View
Update : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, গৃহীত নীতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, গত একশ দিনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার দেশের গভীর সংকট কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি জনগণের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের নীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করেন। সম্পূর্ণ বক্তব্যে তিনি সরকারের অর্জনগুলোকে মূলত জনগণের ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে গণমাধ্যমের সামনে ব্যাখ্যা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি উল্লেখ করেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও জনবান্ধব নেতৃত্বে দেশ আজ একটি গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।” তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক ও বিশৃঙ্খল ছিল। তাঁর দাবি, সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার প্রথম দিন থেকেই সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি পুনরায় আস্থা ফিরে এসেছে এবং তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পেরেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, এই ১০০ দিনের কার্যক্রমে সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রকে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো, যা পূর্ববর্তী সময়ে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

জনগণের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “সরকার তার প্রথম ১০০ দিনেই জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করেছে।” তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কারণে এই সরকারের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে সরকার ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারের গৃহীত নীতিমালার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের অংশীদার ভাবতে শুরু করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জনগণের সরকার হিসেবে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে।” তিনি জানান, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি করেছে।

লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “প্রথম ১০০ দিনেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা জনগণের কাছে আবার ফিরিয়ে দিয়েছে।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ বেহাত হয়েছিল। সেই সম্পদ উদ্ধার করে পুনরায় জনগণের মালিকানায় ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার প্রথম থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ব্যাংক খাত, শেয়ারবাজার এবং বিভিন্ন বড় প্রকল্পে যে অনিয়ম হয়েছিল, তা দূর করে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, সরকার বিশ্বাস করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রকৃত মালিক জনগণ, আর তাই সেই সম্পদ সুরক্ষায় বর্তমান প্রশাসন কোনো ধরনের আপস করবে না। তিনি বলেন, “জনগণের লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধারে সরকার আইনি কাঠামোর ভেতর থেকেই সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।”

গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মজবুত করার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “আমরা মজবুত করে চলেছি গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।” তিনি উল্লেখ করেন, শুধু একটি অবাধ নির্বাচন হলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না; এর জন্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর করতে হয়। মাহদী আমিনের দাবি, বর্তমান সরকার বিচারবিভাগ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বাধীনভাবে কাজ করার আইনি ও কাঠামোগত সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলছি যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা দলীয়করণের শিকার হবে না।” তাঁর মতে, গত একশ দিনে এই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিগুলোও গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে।” লুণ্ঠিত অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দুর্নীতি রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। উপদেষ্টা বলেন, “আমরা জনগণকে কথা দিয়েছিলাম যে তাদের সম্পদের হিসাব আমরা বুঝিয়ে দেব, এবং এই ১০০ দিনে আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন বৈষম্যহীনভাবে সরকারি সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। তাঁর মতে, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সরকারের ১০০ দিনের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল। তিনি জানান, সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবার মান বাড়াতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিনের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে যে, সরকার তার ১০০ দিনের কার্যক্রমকে কেবল একটি শুরু হিসেবে দেখছে। তিনি বলেন, “এই ১০০ দিন আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। তবে এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি যে, সঠিক নেতৃত্ব থাকলে যেকোনো সংকট উত্তরণ সম্ভব।” তিনি দাবি করেন, সরকার কোনো ধরনের চটকদার বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর মতে, দেশের সাধারণ মানুষ সরকারের এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছে এবং তারা সরকারের ওপর আস্থা রাখছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনই এই ১০০ দিনের কার্যক্রমে সরকারের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। তিনি বলেন, “আমরা আজ এখানে উপস্থিত হয়েছি কারণ আমরা জনগণের কাছে আমাদের কাজের হিসাব দিতে চাই।” তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার তথ্য গোপন করার নীতিতে বিশ্বাস করে না। রাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন। মাহদী আমিন বলেন, “গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা, আর সেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ১০০ দিনের এই বিস্তারিত খতিয়ান আজ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।” তিনি গণমাধ্যমকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করারও আহ্বান জানান, যাতে সরকার নিজেদের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত শুধরে নিতে পারে।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে আগামী দিনের রূপরেখা সম্পর্কেও সাংবাদিকদের ধারণা দেন। তিনি বলেন, “আমরা যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করছি, তা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একটি স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে সাহায্য করবে।” তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। মাহদী আমিনের এই সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য ছিল সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কাজের একটি আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা, যেখানে তিনি সরকারের পদক্ষেপগুলোকে জনগণের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক ভিত্তি মজবুত করার প্রয়াস হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের এই সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা গেলে দেশ খুব শিগগিরই একটি টেকসই উন্নয়নের ধারায় প্রবেশ করবে এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পূর্ণতা পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category