• রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
Headline
পরাজয়ের আনন্দ তৈরি পোশাকের পর বিশ্ববাজার কাঁপাবে বাংলাদেশের গরুর মাংস নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে ভাসানীর স্বপ্নপূরণ নেহেরুর বহুমাত্রিক ভারত বদলে যাচ্ছে মোদির হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে সুতোয় ঝুলছে বাংলাদেশের কোটি দর্শক যে কারণে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসা অসম্ভব পরিত্যক্ত সম্পত্তির আড়ালে গায়েব হওয়া ত্রিশ বিলিয়ন ডলার অন্তর্বর্তী সরকারে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’: নেপথ্যের ছায়া ক্ষমতা নাকি শুধুই রাজনৈতিক মিথ? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম একশো দিনের সফল শাসনকাল ঈদুল আজহা এলেই সিজনাল সুশীলদের প্রাণিপ্রেমের অদ্ভুত মায়াকান্না

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে ভাসানীর স্বপ্নপূরণ

Reporter Name / ৬ Time View
Update : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

১৯৭৬ সালের ১৬ মে। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ থেকে শুরু হয়েছিল এক অবিস্মরণীয় গণমিছিল। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন নব্বই বছর পেরোনো এক অকুতোভয় প্রবীণ জননেতা, যিনি সদ্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে ছাড়া পেয়েছিলেন। বার্ধক্যের ভারে শরীর ন্যুব্জ হলেও তাঁর চোখের দৃষ্টি ছিল তীক্ষ্ণ এবং পদক্ষেপে ছিল তারুণ্যের অদম্য গতি। তিনি বাংলার মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তাঁর এই ঐতিহাসিক পদযাত্রার গন্তব্য ছিল সীমান্ত অভিমুখী, কারণ সীমান্তের ওপারে গড়ে তোলা একটি বাঁধ বাংলাদেশের কোটি মানুষের পানির ন্যায্য অধিকার নির্মমভাবে কেড়ে নিচ্ছিল। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও সেই দিন ৬৪ মাইল দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছিল লাখো প্রতিবাদী জনতা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ মিছিলকারীদের হাতে ভালোবেসে তুলে দিয়েছিল খাবার ও পানি। সেটি কেবল একটি মিছিল ছিল না, বরং সেটি ছিল একটি সদ্য স্বাধীন দেশের কোটি মানুষের বোবা কান্নার পদযাত্রা। আজ সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ঠিক অর্ধশতাব্দী পর, ২০২৬ সালের ১৩ মে ঢাকার সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় একটি যুগান্তকারী ফাইলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার নাম ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর বাংলাদেশ এখন নিজের সমস্যার সমাধান সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী হয়ে নিজেই করতে শিখেছে।

এই বিশাল ও মর্যাদাপূর্ণ অর্জনের পেছনের গল্পটি গভীরভাবে বুঝতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে ফারাক্কা বাঁধের বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাসে। ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতা বন্দর ছিল এই উপমহাদেশের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ভাগীরথী-হুগলি নদীতে বিপুল পরিমাণ পলি জমে যাওয়ার কারণে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে থাকে। ভারী মালবাহী সামুদ্রিক জাহাজগুলো আর সহজে সেই বন্দরে প্রবেশ করতে পারছিল না। এই সংকটের সমাধান হিসেবে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, উজানে গঙ্গা নদীর ওপর একটি সুবিশাল ব্যারেজ নির্মাণ করে নদীর পানির প্রবাহ হুগলি নদীর দিকে কৃত্রিমভাবে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, পানি ঘুরিয়ে দেওয়ার এই বিশাল কর্মযজ্ঞটি স্থাপন করা হয় বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার উজানে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে যখন নদীতে এমনিতেই পানির স্বাভাবিক প্রবাহ অনেক কম থাকে, তখন গঙ্গার পানির এক বিশাল অংশ ভাগীরথীর দিকে চলে যায় এবং বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে এসে পৌঁছায় একটি ক্ষীণ ও কঙ্কালসার জলধারা। এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উর্বর ফসলের মাঠ শুকিয়ে চৌচির হতে থাকে, স্রোতস্বিনী নদীগুলো ধীরে ধীরে মরতে শুরু করে, মিঠাপানির মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় এবং মিঠা পানির নিদারুণ অভাবে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বিশাল এলাকায় লবণাক্ততার পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে।

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে একটি গঠনমূলক সমঝোতা হয়েছিল যে, পানির সুষম বণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে কোনোভাবেই ফারাক্কা বাঁধ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে না। কিন্তু ভারত সেই যৌক্তিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। ১৯৭৫ সালে মাত্র দশ দিনের একটি পরীক্ষামূলক চালুর কথা বলে তারা অত্যন্ত একতরফাভাবে নদীর পানির স্বাভাবিক গতিপথ সম্পূর্ণ পাল্টে দেয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সেই দশ দিনের সাময়িক পরীক্ষা গত পাঁচ দশকেও আর কখনো শেষ হয়নি। মওলানা ভাসানী তাঁর সুগভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে ঠিক সেই মুহূর্তেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, এটি কেবল একটি সাধারণ প্রকৌশলগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির একটি অত্যন্ত সুকৌশলী আধিপত্যবাদের নিকৃষ্ট উদাহরণ। আন্তর্জাতিক নদী আইন বা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্কের তোয়াক্কা না করে উজানের দেশ হিসেবে ভারত তাদের ভৌগোলিক সুবিধাকে সর্বোচ্চ উপায়ে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল। প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও প্রথাবিরোধী লেখক আহমদ ছফা একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের যে কী পরিমাণ সর্বনাশ হতে যাচ্ছে, তা মওলানা ভাসানীর চেয়ে এত আগে এবং এত স্পষ্ট করে আর কেউই বুঝতে পারেননি।

১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানী যখন হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন দেশে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন সরকার সবেমাত্র রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সেই সময় ভারত বিষয়ক যেকোনো ধরনের কূটনীতি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল, ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল। কিন্তু মওলানা ভাসানী কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের জন্য এক মুহূর্তও অপেক্ষা করেননি। তিনি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে অত্যন্ত কড়া ও যৌক্তিক ভাষায় একটি প্রতিবাদী চিঠি লিখেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি এই সংকট মোকাবিলায় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী জাতীয় কমিটি গঠন করেছিলেন এবং সম্পূর্ণ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে থেকে সেই ঐতিহাসিক গণমিছিল অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করেছিলেন। তিনি শুধু প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং প্রকাশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন যে, ফারাক্কা সমস্যার একটি সুষ্ঠু সমাধান না হলে সারাদেশে ভারতীয় পণ্য বর্জনের এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। নব্বই বছর বয়স্ক একজন অসুস্থ মানুষ যখন মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে ৬৪ মাইল দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে মিছিলে নেতৃত্ব দেন, তখন সেটি আর নিছক কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে না, সেটি হয়ে ওঠে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতির নৈতিক অবস্থান এবং অধিকার আদায়ের এক বজ্রকঠিন ঘোষণা। সেই ঐতিহাসিক লংমার্চের পর মওলানা ভাসানীর শরীর আর কখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি এবং একই বছরের নভেম্বর মাসে এই মহান নেতা মৃত্যুবরণ করেন।

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মঞ্চে, বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে এই ন্যায্য অধিকারের বিষয়টি বারবার তুলে ধরেছিল, কিন্তু তাতে বাংলাদেশের পক্ষে তেমন কোনো আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘ ২১ বছরের নির্মম বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ভারতের সাথে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়। এই চুক্তির মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩০ বছর, যার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু এই দীর্ঘ তিন দশকে একটি বড় প্রশ্ন বারবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে যে, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ কি সত্যিই তার চুক্তির ন্যায্য ও প্রাপ্য পানি সঠিকভাবে পেয়েছে? এর উত্তর অত্যন্ত হতাশাজনক ও অস্বস্তিকর। নদী গবেষক ও পরিবেশবিদরা বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বারবার প্রমাণ করেছেন যে, পদ্মায় পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশের গড়াই, মধুমতী, হিসনা, মাথাভাঙ্গা, চন্দনা, বারাসিয়া, ইছামতী ও বড়ালের মতো ঐতিহ্যবাহী নদীগুলো একে একে শুকিয়ে চিরতরে মরতে বসেছে। পানির অভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ আজ হাহাকার করছে এবং কৃষিখাত বছরের পর বছর ধরে অভাবনীয় মাত্রায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

এই দীর্ঘ বঞ্চনা, সীমাহীন দুর্ভোগ ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপট থেকেই জন্ম নিয়েছে সম্পূর্ণ নিজেদের স্বাধীন অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের এই যুগান্তকারী ও সাহসী সিদ্ধান্ত। গত ১৩ মে একনেকের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পুরো মেগা প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে একনেক প্রথম ধাপে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার বিশাল অনুমোদন দিয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি ও দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই মেগা প্রকল্পটি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর সগৌরবে নির্মিত হবে। ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই আধুনিক ব্যারেজটির নির্মাণকাজ ২০২৬ সালে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের মধ্যে অত্যন্ত সফলভাবে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক অনুমোদনের পর বর্তমান সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সাথে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পদ্মা ব্যারেজ একান্তই আমাদের নিজস্ব স্বার্থ, অধিকার ও অস্তিত্বের ব্যাপার, এখানে উজানের দেশ ভারতের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার কোনো সুযোগ বা আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

এই বিশাল ও সুদূরপ্রসারী মেগা প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ৪টি বিভাগের (খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী এবং ঢাকা বিভাগের একটি অংশ) অন্তত ১৯টি জেলা সরাসরি ও অভাবনীয় মাত্রায় উপকৃত হবে। দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকার প্রায় সাত কোটি মানুষ সারা বছর সেচ ও গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য মিঠা পানির শতভাগ নিশ্চয়তা পাবে। মৃতপ্রায় অসংখ্য গ্রামীণ নদী ও খাল পুনরায় তাদের হারিয়ে যাওয়া স্রোত ও প্রাণ ফিরে পাবে। এর ফলে দেশের কৃষি, মৎস্য উৎপাদন এবং সার্বিক প্রাকৃতিক পরিবেশে এক অভাবনীয় ও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যে কলকাতা বন্দরকে বাঁচানোর খোঁড়া যুক্তিতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই বন্দর আজ তার অতীত বাণিজ্যিক জৌলুস হারিয়ে ভারতেরই মুম্বাই বা চেন্নাই বন্দরের চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। একটি মৃতপ্রায় বন্দর বাঁচাতে গিয়ে পাশের একটি স্বাধীন দেশের কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে দশকের পর দশক ধরে নির্মমভাবে ধ্বংস করার এই একতরফা সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক আইনে বা প্রতিবেশ নীতির কোনো মাপকাঠিতেই বৈধ বলে বিবেচিত হতে পারে না।

ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হতে যাচ্ছে এবং নতুন চুক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে তা এখনো সম্পূর্ণ অস্পষ্ট ও কুয়াশাচ্ছন্ন। কিন্তু আজকের আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ আর কেবল কূটনীতির টেবিলে বসে অন্যের দয়ার আশায় তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছে না। নিজেদের অভ্যন্তরীণ অমূল্য সম্পদ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানোর যে স্বপ্ন মওলানা ভাসানী আজ থেকে ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে দেখেছিলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ২০২৬ সালে এসে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সেই মহৎ স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন শুরু করেছে। নিজস্ব অর্থায়নে ৩৪ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ কেবল একটি বিশাল প্রকৌশলগত অবকাঠামো নয়, এটি বাংলাদেশের কোটি মানুষের বেঁচে থাকার এক নির্ভরযোগ্য ও কংক্রিটের গ্যারান্টি। মওলানা ভাসানী তাঁর ঐতিহাসিক লংমার্চের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে একটি অমোঘ বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন যে, প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার কখনো কারও কাছে ভিক্ষা করে পাওয়া যায় না, এটি নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য দিয়ে সগৌরবে আদায় করে নিতে হয়। পঞ্চাশ বছরের এই দীর্ঘ বিলম্বের পর হলেও বাংলাদেশ অবশেষে সেই চিরন্তন সত্যটি নিখুঁতভাবে অনুধাবন করতে পেরেছে। দেরিতে হলেও ভাসানীর সেই লালিত স্বপ্ন আজ কংক্রিটের শক্তিশালী ব্যারেজ হয়ে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে, যা এ দেশের আগামী প্রজন্মের জন্য এক বিশাল ও অনস্বীকার্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে।

তথ্যসূত্র: দ্যা প্রেস ২৪


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category