• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রশাসনে রদবদল: (৪ অক্টোবর-২২ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত ) ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে মানুষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়ার কাছে খাদ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব সরকারের প্রস্তুতি আছে বলেই আইজিপি ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন: আখতার ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ পাঁচজনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ সাগর-রুনি হত্যা মামলায় জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে ৩১ অক্টোবর

দেড় হাজার কোটি টাকায় হাতবদল হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এমএফএস

Reporter Name / ৮৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা, আইনি অনুমোদন ও নানামুখী আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে বিতর্কে থাকা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ এবার সম্পূর্ণ নতুন মালিকানায় যাচ্ছে। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি মেগা চুক্তির মাধ্যমে এই ডিজিটাল আর্থিক প্ল্যাটফর্মটি অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নগদের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া এবং নানা প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার পর প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতে এই বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিশাল এই লেনদেনের নেপথ্যে রয়েছে বড় অংকের আর্থিক দায় পরিশোধের শর্ত। জানা গেছে, বর্তমানে নগদের ঘাড়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার পুঞ্জীভূত দায় বা ঋণ রয়েছে, যা পুরোপুরি পরিশোধের দায়িত্ব নেবে আবুল খায়ের গ্রুপ। এই দায় শোধ করার পর অবশিষ্ট প্রায় ৯০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নগদের বর্তমান দায়দেনা এবং মালিকানা পরিবর্তনের এই জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এই চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সিআইডির দায়ের করা মামলাগুলোর আইনি নিষ্পত্তি প্রয়োজন হবে। এর আগে একটি সৌদি আরবভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায় নগদ কিনতে চাইলেও সরকার তাতে সায় দেয়নি।

হঠাৎ এই মালিকানা বদলের প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে পাওয়া এক ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগদে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ব্যাংকিং চ্যানেলে কোনো প্রকৃত টাকা বা ক্যাশ ব্যাকআপ রিজার্ভ না রেখেই সম্পূর্ণ ‘হাওয়া থেকে’ প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ‘ফেইক’ বা অবৈধ ই-মানি তৈরি করে বাজারে ছেড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো ডিজিটাল ওয়ালেটে গ্রাহকের জমাকৃত অর্থের সমপরিমাণ টাকা নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা থাকতে হয়, যা নগদ করেনি। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ১ হাজার৭১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ক্যান্ডেল স্টোনের মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকা পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করছে সিআইডি ও দুদক। অতীতে ইভ্যালি বা অরেঞ্জের মতো বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অজুহাতে লাখো সাধারণ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট আকস্মিক বন্ধ করে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার ক্ষতি করার ক্ষোভও রয়েছে গ্রাহকদের মনে।

শুরু থেকেই ‘নগদ’কে ডাক বিভাগের সরকারি সেবা হিসেবে প্রচার করা হলেও, নথিপত্রে এর কোনো প্রকৃত অংশীদারিত্ব সরকারের ছিল না। ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিগত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এই সমান্তরাল ডেটাবেস ও ম্যানিপুলেটেড রিপোর্টিং পোর্টাল তৈরি করে নিয়ামক সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছিল। বর্তমানে নগদ কোনো রকমে বড় বিজ্ঞাপনী খরচ ও কর্মী ছাঁটাই করে ‘ব্রেক ইভেন’ বা লাভ-ক্ষতিহীন অবস্থায় টিকে আছে, যার মাসিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

নগদ হাতবদল হলেও সাড়ে ৫ কোটি সাধারণ গ্রাহকের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা কি আদৌ নিরাপদ? অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, আবুল খায়ের গ্রুপের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত এবং শক্তিশালী করপোরেট ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পন্ন শিল্পগোষ্ঠী যুক্ত হওয়া গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে। কারণ এতে করে নগদের ওপর জনগণের হারিয়ে যাওয়া আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং বড় ধরনের মূলধনী সহায়তার মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। বর্তমানে প্রতিদিন ৭০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন এবং দৈনিক ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স আসার বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category