বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অপরিহার্য সদস্য এবং মাঠের অন্যতম সেরা তারকা ঋতুপর্ণা চাকমার জন্য এবার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কৃতি নারী ফুটবলারের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নত বাসগৃহ নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে বর্তমান সরকার। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে চলমান বাজেট অধিবেশনের এক বিরতির ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে এই অনুদানের চেক আনুষ্ঠানিকভাবে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের ক্রীড়া ও প্রশাসনিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা একজন নারী ক্রীড়াবিদের প্রতি রাষ্ট্রপ্রধানের এই আন্তরিকতা ও সমর্থনকে উপস্থিত সকলেই সাধুবাদ জানান এবং এটিকে দেশের সমগ্র ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাথে ঋতুপর্ণা চাকমার পরিবারের এই আত্মিক ও মানবিক সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। অতীত সংকটেও দলটি এই তারকার পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছিল। মাত্র এক বছর আগে, ২০২৫ সালে যখন ঋতুপর্ণার মা দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন, তখন উন্নত চিকিৎসার বিশাল ব্যয়ভার বহন করা এই সাধারণ পরিবারের জন্য একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সেই কঠিন সময়ে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটির এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঋতুপর্ণার বাড়িতে ছুটে যান। তারা ঋতুপর্ণার মায়ের শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ঋতুপর্ণা চাকমা। সবুজ গালিচায় তার ক্ষিপ্রতা, গতি এবং বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা দেশের অগণিত ফুটবলপ্রেমীকে বারবার মুগ্ধ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের যে ঈর্ষণীয় ও ধারাবাহিক সাফল্য, তার পেছনে ঋতুপর্ণার অবদান অনস্বীকার্য। ২০২২ এবং ২০২৪ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান ভরসা এবং আক্রমণের মূল রূপকার। এছাড়া গত ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার যে গৌরবময় অধ্যায় রচিত হয়, সেখানেও তার নান্দনিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
রাঙামাটির এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এক সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে উঠে আসা ঋতুপর্ণা চাকমা আজ কেবল একজন কৃতি খেলোয়াড়ই নন, বরং দেশের অগণিত স্বপ্নবাজ তরুণী ও নারী ক্রীড়াবিদদের কাছে এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণার নাম। দারিদ্র্য ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করে তিনি আজ লাল-সবুজের পতাকাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানিত করছেন। তার এই দীর্ঘ ও কণ্টককীর্ণ পথচলায় জাতীয় পর্যায় থেকে এমন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং সরকারপ্রধানের কাছ থেকে সরাসরি এমন আর্থিক ও মানসিক সমর্থন দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা। প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার তার পরিবারের নিরাপদ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাঠের খেলায় তাকে ভবিষ্যতে আরও বেশি মনোযোগী, নির্ভার ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।