• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
Headline
নয়াদিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ফ্রান্স বনাম স্পেন : ৩৭ হাজার কোটি টাকার সেমিফাইনাল শিশুদের স্কুল নির্বাচনঃ ১০টি পরামর্শ ইরানে এক ঘণ্টায় ৮ শহরে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী সেনা পরিবারে বড় হয়েছি, তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে পরিবেশের যত্ন নিতে, যেখানে–সেখানে ময়লা–আবর্জনা না ফেলতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় স্টারলিংকের নতুন ট্রানজিট হাব বাংলাদেশ ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

দশ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কা

Reporter Name / ৫ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ছয় দিন ধরে চলা এই দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ জনপদ। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের ভেতরে এবং সীমান্তে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও ১০টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটতে পারে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গতকাল বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে দেশে আরও অন্তত পাঁচ দিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তর চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে হলেও এখনো চরম দুর্ভোগে আছেন লাখ লাখ মানুষ। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম জেলাতেই ছয় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। বন্যা ও পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত এই জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশে। সাতকানিয়ার ১১৭টি ওয়ার্ড এবং বাঁশখালীর ৬০ হাজার মানুষ এখনো জলমগ্ন। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া চকরিয়া ও পেকুয়ায় পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে, যার মধ্যে বরইতলীতে মায়ের সামনেই স্রোতে ভেসে গেছেন এক তরুণ এবং নিখোঁজ থাকা ১২ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, দীর্ঘ পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর রেলপথ থেকে পানি নেমে যাওয়ায় পুনরায় ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের পানি কিছুটা কমলেও সিলেট ও সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় সুরমা ও কুশিয়ারাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন প্রতিটি উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে।

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার বানভাসি মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠিয়েছেন, যার প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় দুই হাজার টাকা। স্থানীয় সংসদ সদস্য নৌকাযোগে দুর্গতদের মাঝে এই উপহার পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়া ফটিকছড়িতে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category