• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
Headline
নয়াদিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ফ্রান্স বনাম স্পেন : ৩৭ হাজার কোটি টাকার সেমিফাইনাল শিশুদের স্কুল নির্বাচনঃ ১০টি পরামর্শ ইরানে এক ঘণ্টায় ৮ শহরে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী সেনা পরিবারে বড় হয়েছি, তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে পরিবেশের যত্ন নিতে, যেখানে–সেখানে ময়লা–আবর্জনা না ফেলতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় স্টারলিংকের নতুন ট্রানজিট হাব বাংলাদেশ ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

কষ্টার্জিত জয়ে সেমিফাইনালে, আর্জেন্টিনার সামনে থ্রি লায়ন্স চ্যালেঞ্জ

Reporter Name / ৫ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপ ধরে রাখার কঠিন মিশনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স দিন দিন যতই ম্লান মনে হোক না কেন, লড়াকু মানসিকতার জোরে তারা কিন্তু এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছে। শনিবার কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ের নাটকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। গ্যালারির বুনো উন্মাদনা দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নয়, বরং বুয়েনস আইরেসের নিজেদের ঘরেই হচ্ছে। তবে মাঠের সেই বুনো উদ্‌যাপন আর শেষ মুহূর্তের চোখধাঁধানো গোলের আড়ালে লুকিয়ে ছিল দলটির এক চরম হতাশাজনক ও সৃজনশীলতাহীন ফুটবল। অবশ্য সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার মহারণ নিশ্চিত হওয়ার পর এসব ঘাটতি নিয়ে আপাতত ভাবছেন না আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা।

ম্যাচটি মূলত রূপ নিয়েছিল দুই দলের দুই প্রধান স্ট্রাইকারের ভাগ্য নির্ধারণের মঞ্চ হিসেবে। যেখানে হুলিয়ান আলভারেজ অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে এক অবিশ্বাস্য গোল করে আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তোলেন, সেখানে ব্রেল এমবোলোর একটি মারাত্মক ভুল সুইজারল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথমবার সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দেয়। ম্যাচটি যখন ১-১ সমতায় ছিল, তখন মাঠের নিয়ন্ত্রণে সুইসরাই ভালো খেলছিল। কিন্তু ম্যাচের ৭২ মিনিটে ভিএআর-এর নাটকীয়তার পর ডাইভিংয়ের অপরাধে এমবোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে সুইসরা পুরোপুরি রক্ষণাত্মক হতে বাধ্য হয়। ১০ জনের দল নিয়ে তারা আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত আটকে রাখার সব রকম বন্দোবস্ত করেই ফেলেছিল, ঠিক তখনই আলভারেজের বিধ্বংসী গোল ম্যাচের ভাগ্য সম্পূর্ণরূপে বদলে দেয়। এরপর ১২১ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের গোলটি আর্জেন্টিনার এই কষ্টার্জিত জয়কে কাগজে-কলমে আরও বড় ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলে।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও তাদের খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতার প্রমাণ দিলেও, দলের বেশ কিছু বড় ত্রুটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার পথটা তুলনামূলক সহজ মনে হলেও কেপ ভার্দে, মিসর এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিটি ম্যাচকেই তারা কঠিন বাধা-বিপত্তিতে ভরা পথ বানিয়ে ছেড়েছে। টুর্নামেন্টে এ নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াল দলটির, যেখানে তারা ইতিমধ্যে ৫টি গোল হজম করেছে এবং প্রতিটি ধাপেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি অন্তত এখানে নিজের কৌশলের কৃতিত্ব নিতে পারেন; কারণ তৃতীয় গোলটিতে তাঁর দুই বদলি খেলোয়াড়ের সরাসরি অবদান ছিল। থিয়াগো আলমাদার শট সুইস ডিফেন্সে আটকে যাওয়ার পর ফিরতি বলে গোলটি করেন লাউতারো। আলমাদা বদলি হিসেবে নেমে দারুণ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, এর আগে ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

তা সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা উইংগুলোতে গতি ও আক্রমণের ধারের অভাবে ভুগছিল। বিশেষ করে অধিনায়ক লিওনেল মেসি যখন নিষ্প্রভ থাকেন, তখন পুরো আর্জেন্টিনাকে বড্ড সাধারণ দেখায়। বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করার যে রেকর্ড মেসির ছিল, তা-ও এই ম্যাচে এসে থেমে গেল। মাঠের খেলায় দীর্ঘ সময় আর্জেন্টিনাকে কেবল ওয়ান-ম্যান আর্মি মনে হচ্ছিল, আর সেই ‘একমাত্র মানুষ’ মেসির দিনটিও চেনা ছন্দে ছিল না। ম্যাচের সিংহভাগ সময় তাঁকে মাঠে হেঁটে বেড়াতে দেখা গেছে, তখন পুরো দলকে দিশাহীন মনে হচ্ছিল। শেষ দিকে তিনি কিছুটা গা-ঝাড়া দিয়ে উঠলেও একবার গ্রেগর কোবেলকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন এবং নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে তাঁর একটি শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

চলতি টুর্নামেন্টে দুটি পেনাল্টি মিস করা মেসি এই ম্যাচে কর্নার থেকে গোল করানোতে সফল হন। ম্যাচের ১১ মিনিটে তাঁর নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে সুইস ডিফেন্দার জিবরিল সো’র ওপর দিয়ে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান আলেকিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এই সহজ গোলটিই সম্ভবত সুইজারল্যান্ডকে আর্জেন্টিনার শক্তি সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা দিয়েছিল। এরপর সুইসরা এতটাই নিরেট রক্ষণভাগ গড়ে তোলে যে, প্রথমার্ধের পর আর্জেন্টিনার লক্ষ্যে থাকা পরবর্তী শটটি আসে ম্যাচের ৯৯ মিনিটে, লিসান্দ্রো মার্তিনেজের একটি অ্যাক্রোবেটিক ভলির সৌজন্যে।

এর মাঝে সুইজারল্যান্ড ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই যাত্রাকে তারা সহজে থামাবে না। আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ড্যান এনডোয়ের হেড এবং গ্রানিট জাকার দূরপাল্লার শট ঠেকাতে হয়। এরপর এনদোয়ে আর্জেন্টিনার রাইট-ব্যাক নাহুয়েল মোলিনাকে পরাস্ত করে রিকার্ডো রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান পাস খেলে মার্তিনেজের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে সুইসদের সমতায় ফেরান। তবে সমতায় ফেরার পরই নাটকীয়ভাবে ১০ জনের দলে পরিণত হয় মুরাত ইয়াকিনের দল। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ হওয়ার আগেই ব্রিল এমবোলো ডাইভ দিলে রেফারি প্রথমে পারেদেসকে কার্ড দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুলের সংশোধনের জন্য এক নতুন ধরনের ভিএআর রিভিউতে দেখা যায়, পারেদেসের কোনো দোষ ছিল না, বরং এমবোলো ডাইভিং করেছিলেন। ফলে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে এমবোলোকে লাল কার্ড দেখান।

সুইজারল্যান্ডের এই প্রশংসনীয় বিশ্বকাপ যাত্রার অবসান ঘটিয়ে ম্যাচ জিতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘সামনে আমাদের যে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে, তার আগে এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি পার করা আমাদের জন্য খুবই দরকার ছিল। এর ফলে আমরা পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক একটি সপ্তাহ পাব।’ অন্যদিকে দলের জয়ে আনন্দিত হলেও দলের খেলা নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা লুকিয়ে রাখেননি কোচ লিওনেল স্কালোনি। শিষ্যদের উন্নতির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক কিছু উন্নত করার জায়গা আছে, তবে জেতার চেয়ে ভালো অনুভূতি আর কিছুতে নেই। সব মিলিয়ে এই দলটা আজ যা অর্জন করেছে তা ঐতিহাসিক। হয়তো আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম, কিন্তু আরও একবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়াটা সত্যিই এক ঐতিহাসিক ঘটনা।’ থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে সেমিফাইনালের মহারণে নামার আগে এই ভুলগুলো শুধরে নেওয়াই এখন আর্জেন্টিনার প্রধান চ্যালেঞ্জ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category