• বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
Headline
হামের উপসর্গে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে: আইনমন্ত্রী তিনি একদম ঠিক আছেন: ইউনূস সেন্টার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো ৯ জনের মৃত্যু ইরানি নেতাদের হত্যা করার ক্ষেত্রে আমরা হয়তো অনেকদূর চলে গেছি: ট্রাম্প জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা: আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তদন্ত করছে সৌদি আরব প্লাস্টিক দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই : পরিবেশমন্ত্রী জাতীয় তথ্যচিত্রে মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি ৯০ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তে গুরুত্বারোপ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে : অর্থমন্ত্রী

তদবিরে পদায়ন, পেশাদারিত্বে ধস: পুলিশ সংস্কারে নতুন বিতর্ক

Reporter Name / ৭৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুলিশ প্রশাসনে কাঠামোগত যে আমূল সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল, তা এখনও অনেকাংশেই অধরা রয়ে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে পুনর্গঠনের কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতায় তা থমকে যায়। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাস অতিবাহিত হলেও বাহিনীটিকে ঢেলে সাজানোর জন্য বড় ধরনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতার চেয়ে ‘বঞ্চিত’ হওয়ার রাজনৈতিক পরিচয় প্রাধান্য পাওয়ায় কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিয়ে ভেতরে-বাইরে তীব্র বিতর্ক ও গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এমনকি মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেদের আইনগত ও অর্পিত প্রশাসনিক ক্ষমতাও স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারছেন না, যার ফলে শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর ভেঙে পড়া প্রশাসনিক মানসিকতা ও সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির সুবিধাবাদী গোষ্ঠী পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়েছে। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নানা কারণে নিষ্ক্রিয় বা কোণঠাসা থাকা একাধিক কর্মকর্তা নিজেদের ‘বঞ্চিত’ হিসেবে দাবি করে ইতোমধ্যে পদোন্নতি এবং সুবিধাজনক পদায়ন হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু কোন যুক্তিতে বা কোন প্রেক্ষাপটে তারা বঞ্চিত ছিলেন এবং বর্তমানে তাদের কাজের মান কেমন, তার কোনো নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে না। একবার বঞ্চিতের অজুহাতে সুবিধা নেওয়ার পর পরবর্তী ধাপের পদোন্নতিতেও একই কার্ড ব্যবহার করছেন অনেকে, অথচ কাজের ক্ষেত্রে তাদের দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পারফরম্যান্স নেই। ফলে নিরবচ্ছিন্ন তদবির ও অনৈতিক লভিংয়ের কারণে সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করা প্রকৃত যোগ্য কর্মকর্তারা মূল্যায়নের দৌড়ে পেছনে পড়ে যাচ্ছেন।
পুলিশের এই সার্বিক অবক্ষয় ও অচলাবস্থা নিরসনে সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক উর্ধতন কর্মকর্তারাও। সাবেক আইজিপি ও প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্রবিষয়ক সাবেক বিশেষ সহকারী খোদা বকস চৌধুরী এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, যোগ্যদের বাদ দিয়ে ইচ্ছেমতো থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদায়ন করা হচ্ছে। এমনকি ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) অনুযায়ী একজন ওসির যে স্বাধীন বিচারিক ও জামিন দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা রয়েছে, পারিপার্শ্বিক চাপ ও অস্থিতিশীলতার কারণে তারা তা প্রয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। পর্যাপ্ত আইনি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে স্বাধীন কাজ করার মানসিকতা নষ্ট হয়ে গেছে, যা বাহিনীর সার্বিক ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষুণ্ন করছে।
বিদ্যমান অচলাবস্থা কাটাতে পুলিশ সদর দপ্তর এবং সরকারের নীতি-নির্ধারকদের উদ্যোগে শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের এক প্রশাসনিক বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এতে কনস্টেবল ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ব্যতীত অন্য কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ না দেওয়া এবং বিসিএস ক্যাডারের এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সরাসরি থানার ওসির দায়িত্বে পদায়নের মতো বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নীতি-নির্ধারকদের মতে, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে আসা এএসপিরা উচ্চতর পদে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন বলে শুরুতেই অনৈতিক বা দুর্নীতির পথে পা বাড়াবেন না। অন্যদিকে, বর্তমানে পরিদর্শক বা এসআই থেকে পদোন্নতি পেয়ে যারা ওসি হন, তাদের জন্য এটিই ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ধাপ হওয়ায় তাদের অনেকের মধ্যেই পদ ব্যবহার করে অনৈতিক অর্থ উপার্জনের প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া সাধারণ কনস্টেবলদের চাকরিরত অবস্থায় ৩ বছরের গ্র্যাজুয়েশন কোর্স ও প্রশিক্ষণ শেষে এসআই হিসেবে উন্নীত করার একটি দূরদর্শী পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও পেশাদারত্ব বজায় রাখতে সদর দপ্তর থেকে শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (ডিবি ও এসবি) থেকে বিতর্কিত কর্মকর্তা এবং উসকানিমূলক চক্রের পুনর্বাসন বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন পুলিশ প্রধান ও সংশ্লিষ্টরা। নিরপেক্ষ রাজনৈতিক মূল্যায়নের পরিবর্তে শতভাগ পেশাগত যোগ্যতা, সততা এবং মাঠপর্যায়ের পারফরম্যান্সকে পদোন্নতির এক মাত্র মানদণ্ড করার দাবি উঠে এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিক তদবির ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে যদি স্বচ্ছ পদায়ন নিশ্চিত করা না যায়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভেঙে পড়া চেইন অব কমান্ড এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সংকট ডেকে আনবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category