ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় ৫০ ঘণ্টা ইরানি বাহিনীর চোখ এড়িয়ে ছিলেন এক মার্কিন সেনা। ভাঙা পিঠ, হাত ও কাঁধ নিয়ে ৭ হাজার ফুট উঁচু একটি পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়ে পরে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে উদ্ধার হন তিনি। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর অস্ত্রব্যবস্থা কর্মকর্তা ওই সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। শুধু ডুড ৪৪ ব্রাভো নামে পরিচিত এ সেনা গত এপ্রিলে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশে আটকা পড়েছিলেন। ইরানি বাহিনীর ছোড়া কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রে তার এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়।
বিমানটিতে আঘাতের পর তার প্যারাসুট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। ফলে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ থেকে ১০০ মাইল বেগে নিচে পড়ে যান তিনি। এতে তার পিঠ, হাত ও কাঁধ ভেঙে যায়। গোড়ালিতে চোট লাগে এবং মাথা ও মুখেও গুরুতর আঁচড় লাগে।
এরপরও ইরানি সেনা ও তাকে খুঁজতে থাকা লোকজনের চোখ এড়িয়ে পাহাড়ের দিকে এগিয়ে যান ব্রাভো। তার কাছে ছিল একটি পিস্তল, যোগাযোগের একটি যন্ত্র ও একটি ট্র্যাকিং বীকন। ৭ হাজার ফুট উঁচু একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নিয়ে সেখান থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তিনি।
ব্রাভো বলেন, তিনি প্রথম যে বার্তাটি পেন্টাগনে পাঠিয়েছিলেন, সেটি ছিল, ‘আমি আহত, আমি এগিয়ে যাচ্ছি, ঈশ্বর ভালো।’ তার সহযোদ্ধা আলফা প্রায় তিন মাইল দূরে পড়ে যান এবং সামান্য আহত হন। পরে মার্কিন বাহিনী তাকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করে। তবে ব্রাভোকে খুঁজে পেতে আরও প্রায় দুই দিন সময় লাগে।
ইরানি বাহিনী তাকে ধরতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তার মাথার জন্য ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল বলে জানান ব্রাভো। পরে সিআইএর প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সোমবার প্রকাশিত গোপনীয়তা তুলে নেয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষ উদ্ধারকারী দলের দুই সদস্য দৌড়ে গিয়ে ব্রাভোকে উদ্ধার করছেন। তাকে পরে একটি গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্ধার অভিযানে ৯০ জনের বেশি বিশেষ বাহিনীর সদস্য, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং দুটি বড় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী বিমান অংশ নেয়। পরে ব্রাভোকে বহনকারী দলের দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে অস্থায়ী মরুভূমির বিমানঘাঁটি থেকে সেগুলো উড়তে পারেনি। পরে অতিরিক্ত বিমান পাঠিয়ে ধাপে ধাপে পুরো দলকে ইরান থেকে বের করে আনা হয়। ভূপাতিত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি পরে মার্কিন বাহিনী ধ্বংস করে দেয়, যাতে সেটি ইরানের হাতে না পড়ে।
ব্রাভো বলেন, তার উদ্ধারের ঘটনা শুধু তার নিজের নয়; এটি দলগত কাজ, প্রশিক্ষণ, বিশ্বাস, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের গল্প। কাউকে পেছনে ফেলে না আসার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র কী করতে পারে, এই অভিযান তার উদাহরণ হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।