• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
Headline
সরকারের বড় সাফল্য স্বাস্থ্য খাতের ওপর নির্ভর করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী উচ্চশিক্ষার আড়ালে নীরব মেধাপাচার: বিদেশ গিয়ে আর ফেরেন না শিক্ষকরা জ্বালানির দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী তৃণমূলের আধিপত্য বিস্তারে মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াত হাসপাতাল ঘুরতে ঘুরতে চলেই গেল ছোট্ট তনুশ্রী বেরিয়ে এলো অপ্রতিম হত্যার আসল কারণ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: এমপি নজরুল ৪ ও প্রথম স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে ইট’স অ্যান অর্ডার ‘নিজেকে শেষ করার’ আগে চিরকুটে কষ্টের কথা লিখে গেছেন মরিয়ম

৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name / ০ Time View
Update : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক কূটনীতির সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারের প্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম ও ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ। রোববারের পত্রিকার পাঠকদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এই সংবাদটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফরের বিবরণ নয়, বরং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার এক অনন্য কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের পক্ষে তার দিকনির্দেশনামূলক ও কাঙ্ক্ষিত ভাষণটি প্রদান করবেন। বৈশ্বিক শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সমতার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান এই ভাষণের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে আরও একবার সুষ্পষ্ট হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার ভোর থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকাল ৬টা ৫ মিনিটে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। দেশত্যাগের প্রাক্কালে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং শীর্ষ আমলারা। বিদায়ী এই আয়োজনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাকে শুভকামনা জানান। এটি কেবল একটি গতানুগতিক বিদায় পর্ব ছিল না, বরং দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রতি রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বস্তরের আস্থার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ ছিল।
দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর বিমান ভ্রমণের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পর প্রায় আট ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের দীর্ঘ আকাশপথ পাড়ি দিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইটটি তুরস্কের স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি বা ট্রানজিট শেষে ফ্লাইটটি তুরস্কের সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে চূড়ান্ত গন্তব্য নিউইয়র্কের উদ্দেশে আকাশে ডানা মেলবে। আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এই ফ্লাইটটি নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে বিখ্যাত জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সময়ের বিশাল পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশ সময় আজ রোববার ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পদার্পণ করবেন। জেএফকে বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ ও আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত থাকবেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ম্যানহাটনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিখ্যাত ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে এবং পুরো সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যতালিকা অত্যন্ত কর্মমুখর এবং বৈশ্বিক কূটনীতির নানা সমীকরণে ভরপুর থাকবে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সফরের বিস্তারিত যে রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশ এবার বিশ্বমঞ্চে একটি অত্যন্ত সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনে, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কর্তৃক বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে আয়োজিত এক বিশেষ ও মর্যাদাপূর্ণ স্বাগত প্রাতরাশসভায় অংশগ্রহণ করবেন। এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক অথচ উচ্চপর্যায়ের জমায়েত বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কূটনৈতিক বোঝাপড়া মজবুত করার ক্ষেত্রে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করে। এরপর তিনি সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল ও জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন। একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির আয়োজিত এক রাজকীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সঙ্গে তিনি অংশ নেবেন, যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে একটি ইতিবাচক অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সফরের পরবর্তী দিনগুলোতেও প্রধানমন্ত্রীকে বৈশ্বিক সংকট এবং মানবিক ইস্যুগুলো নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করতে দেখা যাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতব্য ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সাথে একটি প্রাতরাশসভায় তিনি মতবিনিময় করবেন। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে এই সংস্থাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। একই দিনে তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেনের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা’ শীর্ষক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় বক্তব্য রাখবেন। বর্তমান বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বৈষম্য দূর করতে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনাগুলো তিনি সেখানে তুলে ধরবেন। পাশাপাশি, জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সংগত উত্তরণ’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও তার বলিষ্ঠ উপস্থিতি থাকবে, যেখানে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পক্ষে জোরালো আওয়াজ তুলবেন।
বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসা সবচেয়ে বড় মানবিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট—রোহিঙ্গা ইস্যুটিও এই সফরে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে, সসম্মানে ও নিরাপদে তাদের নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে (সাইড ইভেন্ট) অংশ নেবেন। বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ যে বিশাল মানবিক বোঝা বহন করে চলেছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর বৈশ্বিক চাপ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির জোরালো আহ্বান জানাবেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় দেশগুলোর যে ভয়াবহ অস্তিত্বের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করবেন। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, ঝুঁকি নিরূপণ, অভিযোজন প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করবেন।
সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় অর্জনগুলোও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবারের অধিবেশনে। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা (মিডওয়াইফারি) সংক্রান্ত আরেকটি বড় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের গৃহীত যুগান্তকারী পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন। পেশাগতভাবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীদের সেবার মানোন্নয়ন এবং বিস্তারের মাধ্যমে কীভাবে মাতৃমৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশের সফল মডেলটি তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন।
বহুপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হতে যাচ্ছে। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বেশ কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতাদের একান্ত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রীদের সাথে তিনি আলোচনায় বসবেন। এই বৈঠকগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা অনুসন্ধান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বহুমাত্রিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং সর্বোপরি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন আদায়ের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক জালের বিস্তৃতি আরও প্রসারিত হবে বলে আশা করা যায়।
রাষ্ট্রীয় নেতাদের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সাথেও প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠকের সূচি নির্ধারিত রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নীতি নির্ধারণী আলোচনা করবেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বর্তমান স্থবিরতা কাটানোর উপায় খুঁজবেন। ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এবারের সফরের অন্যতম বড় চমক হলো সরকারের ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’ বা ইকোনমিক ডিপ্লোমেসির ওপর সর্বোচ্চ জোর প্রদান। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘মেটা’ (ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান), বিশ্ব অর্থনীতির স্নায়ুকেন্দ্র ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারী এবং বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন। বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাধাহীন বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার বার্তা তিনি এসব বৈশ্বিক করপোরেট নেতাদের কাছে পৌঁছে দেবেন, যা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এক বিশাল ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই কয়েক দিনের সফরটি বাংলাদেশের জন্য একটি কূটনৈতিক মহাযজ্ঞে পরিণত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের (ফ্লাইট ইকে-২০২) একটি ফ্লাইটে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে তার ফিরতি যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ হলেও, এর প্রস্তুতি ও কার্যপরিধি প্রমাণ করে যে তিনি কতটা সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে সেখানে গেছেন। এই ঐতিহাসিক সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের অটুট রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যতের একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্পষ্ট রূপরেখা অত্যন্ত জোরালোভাবে ফুটে উঠবে, যা নিঃসন্দেহে দেশের ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাতায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category