• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন
Headline
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে ৫ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু বিরোধীদল প্রধানমন্ত্রীকে অশোভনভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছে: রিজভী বিএনপি জনগণের সরকার, জনগণের কল্যাণে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জন করতে হবে : শ্রমমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ সমন্বিত উদ্যোগে নৌ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে: নৌপরিবহন মন্ত্রী বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুলের ফের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ৫২ সহকারী কমিশনারকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত

তহবিল সংকটে ভুগছে সবচেয়ে লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠান

শাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক হোসাইন / ০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সফলতার সমার্থক হিসেবে দীর্ঘকাল বিবেচিত হয়ে আসা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আজ এক নজিরবিহীন তহবিল সংকটের মুখে পতিত হয়েছে| একসময় যে প্রতিষ্ঠানের কোষাগারে হাজার হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত মুনাফা জমা ছিল, আজ তারা দৈনন্দিন জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখতে গিয়েই হিমশিম খাচ্ছে| বিপিসির শীর্ষ কর্তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া মূল্যে জ্বালানি কিনে দেশীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করার কারণেই এই ভয়াবহ আর্থিক ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে| তবে দেশের প্রথিতযশা জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা এই দাবিকে আংশিক সত্য বলে মনে করছেন| তাদের মতে, বিপিসির বর্তমান এই করুণ দশার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার চেয়েও বড় কারণ হলো প্রতিষ্ঠানটির অবিবেচনাপ্রসূত বিপুল বিনিয়োগ, বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিগত সরকারের সময়ে আইন করে প্রতিষ্ঠানটির জমানো অর্থ কোষাগারে টেনে নেওয়া|
বিগত এক দশকের আর্থিক খতিয়ান পর্যালোচনা করলে বিপিসির মুনাফার এক চমকপ্রদ চিত্র উঠে আসে| ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছরের মধ্যে টানা ১০টি অর্থবছরেই বিপুল অঙ্কের মুনাফা অর্জন করেছিল এই সরকারি সংস্থাটি| প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই এক দশকে বিপিসির সর্বমোট মুনাফার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৬ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা| দেশের অন্য যেকোনো সরকারি সংস্থার জন্য এটি একটি অভাবনীয় সাফল্য হলেও, এই বিশাল সংরক্ষিত তহবিলকে সঠিক ও উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বিপিসি কর্তৃপক্ষ| জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার মূল দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এমন সব অবকাঠামো খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢেলেছে, যার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা| বিভিন্ন মেগা ও মাঝারি প্রকল্প মিলিয়ে এই সময়ে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ অলাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে বিপিসি তাদের শক্তিশালী আর্থিক মেরুদণ্ডকে নিজেরাই দুর্বল করে ফেলেছে| আর ঠিক এমন এক নাজুক অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি গভীর খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে|
গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেয় সরকার| এই জনস্বার্থবিরোধী ও কঠোর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে বলা হয়, আমদানিকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে দেশের বাজারে তেল সরবরাহ করতে গিয়ে বিপিসি দেউলিয়া হওয়ার পথে| সরকারি হিসাবমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পর গত মার্চ মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে বিপিসির মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়| বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম সে সময় গণমাধ্যমের কাছে তাদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেলের আমদানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অন্তত ১৯ হাজার কোটি টাকার নগদ তহবিল প্রয়োজন, যা প্রতিষ্ঠানটির হাতে নেই| দাম না বাড়িয়ে এই বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে তেলের বাজার সামাল দেওয়া রাষ্ট্রের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছিল না| তিনি আরও জানান, শুধু তেলের দামই নয়, সেই সঙ্গে শিপিং চার্জ বা জাহাজ ভাড়াও আগের তুলনায় প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে| এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ানো না হলে প্রতি মাসে বিপিসিকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত লোকসানের বোঝা টানতে হতো|
তবে বিপিসির এই লোকসানের ব্যাখ্যার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত নন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলমসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা| তারা মনে করেন, ধারাবাহিক ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো প্রকল্পে বিশাল অঙ্কের অর্থ অপচয়ই বিপিসির আজকের এই অর্থশূন্য অবস্থার প্রধান কারণ| বিগত ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে মাত্র ছয়টির মতো প্রকল্পে ১৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকার বিশাল অর্থায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি| অথচ এই সময়কালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কয়েক দফায় তলানিতে নেমেছিল| সেই সুযোগে দেশের বাজারে বেশি দামে তেল বিক্রি করে পাহাড়সম মুনাফা করেছিল বিপিসি এবং সেই মুনাফার টাকাই ঢালা হয়েছে এসব প্রকল্পে| এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থায়ন করা হয়েছে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) সম্প্রসারণ প্রকল্পে, যার পরিমাণ ১৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা| এর বাইরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে শুধুমাত্র দাপ্তরিক কাজের জন্য তিনটি বিলাসবহুল বহুতল ভবন নির্মাণে খরচ করা হয়েছে ৫৯৬ কোটি টাকা, যাকে সরাসরি ‘অর্থের অপচয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা| তিনি মনে করেন, একটি জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে আরও আধুনিক ও কার্যকরী করার বদলে এ ধরনের বিলাসী ভবন নির্মাণে তহবিল তছরুপ করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়|
এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নির্মিত ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ প্রকল্পটিও বিপিসির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে| বড় জাহাজ থেকে দ্রুত তেল খালাসের উদ্দেশ্যে নেওয়া এই প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা| কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারায় এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৩৪১ কোটি টাকায়| চীনা ঋণে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে বিপিসি শুরুতে মাত্র ১১১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা দিলেও, পরবর্তী সময়ে ঋণের কিস্তি হিসেবে নিজেদের তহবিল থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছে| অথচ বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকল্পটি এখনো বাণিজ্যিকভাবে দেশের কোনো কাজে আসছে না|
বিপিসির তহবিল শূন্য হওয়ার পেছনে বিগত সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও বড় ভূমিকা রেখেছে| অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫’-এর তথ্যমতে, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে বিপিসি সরকারি কোষাগারে লভ্যাংশ হিসেবে ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে| এর বাইরে ২০১৯-২০ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের মধ্যে জাতীয় কোষাগারে আরও ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ দিতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি| শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার ২০২০ সালে ‘স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা আইন’ নামে একটি বিতর্কিত আইন পাস করে মূলত বাজেট ঘাটতি মেটাতে বিপিসির জমানো এই বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়ে নেয়|
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর দায়িত্ব গ্রহণ করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত ‘বাংলাদেশ অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কিত শ্বেতপত্র’-তেও বিপিসির এই নজিরবিহীন অর্থদোহনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে| শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, বিগত সরকার বিপিসিকে সাধারণ জনগণের পকেট কাটার একটি প্রাতিষ্ঠানিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে| ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানির দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল, তখনও দেশের বাজারে তেলের দাম না কমিয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে অন্যায্যভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে| এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) পাশ কাটিয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তেলের দাম নির্ধারণের সংস্কৃতি চালু করা হয়, যাতে গণশুনানি ও স্বচ্ছতার পথটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়| আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বিপিসির পরিচালন ব্যয়, সিস্টেম লস এবং জি-টু-জি চুক্তিগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ‘ফরেনসিক অডিট’ পরিচালনার দাবি জানিয়ে আসলেও, তা কখনোই বাস্তবায়ন করা হয়নি|
তহবিল সংকটের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অযৌক্তিক শুল্ক কাঠামোকেও অন্যতম প্রধান খলনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিপিসি| গত ৯ সেপ্টেম্বর জ্বালানি বিভাগে পাঠানো বিপিসি চেয়ারম্যানের এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি এনবিআরের শুল্ক নীতির পরিবর্তন তাদের লোকসানের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে| ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত এনবিআর একটি নির্দিষ্ট ‘ট্যারিফ ভ্যালু’-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতি লিটারে ১৬ টাকা ৭৬ পয়সা শুল্ক আদায় করত| কিন্তু পরবর্তীতে ‘ইনভয়েস ভ্যালু’ বা সরাসরি ক্রয়মূল্যের ওপর শুল্ক আরোপের নিয়ম চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এনবিআরের শুল্ক আদায়ের পরিমাণও জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে| এর ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটারে শুল্ক ১৮ টাকা ৩৬ পয়সায় দাঁড়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাস থেকে তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়| বিপিসি তাদের চিঠিতে ভর্তুকি প্রদান, শুল্ক কমানো অথবা তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলে সরকার শেষ পর্যন্ত জনগণের কাঁধেই দাম বাড়ানোর বোঝাটি চাপিয়ে দেয়| এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মত হলো, মূল্যের ওপর ভিত্তি করে শুল্ক না বসিয়ে আগের মতো নির্দিষ্ট হারে কর আরোপ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের ঘাড়ে পড়ত না|
জ্বালানি আমদানির পরিসংখ্যান দেখলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়| ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬২ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে বিপিসির খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার ১৯৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ৪১০ কোটি ডলার| কিন্তু ঠিক পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে রেকর্ড ১ হাজার ৬৩ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকেছে| এই বিশাল আর্থিক চাপ সামলাতেই সম্প্রতি ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে, যার মাধ্যমে বিপিসির বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে|
আশার কথা হলো, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে কিছুটা নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে| সম্প্রতি এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম টানা ছয় দিন কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ ডলার ৪৩ সেন্টে নেমে এসেছে| একই সঙ্গে মার্কিন বাজার আদর্শ ডব্লিউটিআইয়ের দামও পাঁচ দিনে ১০ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে| তবে ইসরায়েল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যয় এখনো আকাশচুম্বী| ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমলেও, পরিবহন খরচের কারণে দেশের বাজারে সহসাই তেলের দাম কমার কোনো সুখবর সাধারণ মানুষের জন্য নেই বললেই চলে| বিলাসী প্রকল্প আর সরকারি অব্যবস্থাপনার মাশুল তাই শেষ পর্যন্ত দেশের সাধারণ জনগণকেই দিয়ে যেতে হচ্ছে|
তথ্যসূত্র: ঢাকা স্ট্রিম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category