পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কেন্দ্র করে যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার মধ্যেই সম্পূর্ণ নতুন এক ক্ষমতার লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে দেশটিতে। বিগত কয়েক দশক ধরে চলে আসা পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর একেবারে ভিত্তিমূলে আঘাত হানার একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ বর্তমানে নেপথ্যে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির বর্তমান প্রধান চারটি প্রদেশকে ভেঙে আরও বেশ কয়েকটি ছোট ছোট প্রদেশে বিভক্ত করা। পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, অত্যন্ত সুকৌশলী এই পরিকল্পনার নেপথ্যের প্রধান রূপকার হলেন দেশটির বর্তমান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাটি যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ ও ভৌগোলিক কাঠামো চিরতরে বদলে যাবে। বিশেষ করে পাঞ্জাব ও সিন্ধুর মতো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী প্রদেশগুলোতে বংশানুক্রমিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আসা রাজনৈতিক পরিবারগুলোর ক্ষমতা ও প্রভাব উল্লেখযোগ্য হারে সংকুচিত হয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের রাজপথের আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে পাকিস্তানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এক শ্বাসরুদ্ধকর ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন এবং তাকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন জানাতে ও তার মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল তার দল। কিন্তু বর্তমান সরকার এই বিক্ষোভ যেকোনো মূল্যে নস্যাৎ করে দিতে অত্যন্ত কঠোর ও অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছে। পিটিআইয়ের সমর্থকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে ইসলামাবাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশমুখগুলোতে দুই হাজারের বেশি বিশাল আকৃতির শিপিং কনটেইনার বসিয়ে রাস্তা সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এত বাধা বিপত্তি ও সরকারি রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও গত ৪ অক্টোবর পিটিআইয়ের অগণিত সমর্থক তাদের পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ মিছিল শুরু করতে সক্ষম হন। খাইবার পাখতুনখাওয়ার লাক্কি মারওয়াত এলাকা থেকে দলটির প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী একযোগে ইসলামাবাদের উদ্দেশে তাদের যাত্রা শুরু করেন। তাদের মূল লক্ষ্য ও কৌশল ছিল যাত্রাপথে আরও বেশি সংখ্যক সাধারণ সমর্থককে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে একটি বিশাল জনস্রোত তৈরি করা। তবে সরকারি বাহিনীর কঠোর বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত তারা নিরাপদে ইসলামাবাদ পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তখনো চরম অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা বিরাজ করছিল।
ইমরান খানকে ঘিরে রাজপথে চলা এই দৃশ্যমান রাজনৈতিক উত্তেজনার আড়ালেই পাকিস্তানের ক্ষমতার মূল কাঠামোকে নতুন করে সাজানোর এক অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বিতর্কিত উদ্যোগ ভেতরে ভেতরে ডালপালা মেলছে। এই উদ্যোগের প্রধান পরিকল্পনাটিই হলো পাকিস্তানের বর্তমান চারটি বিশাল প্রদেশকে ভেঙে আরও কয়েকটি ছোট ছোট এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা। এই পরিকল্পনার পক্ষে যারা সাফাই গাইছেন, তাদের প্রধান যুক্তি হলো বর্তমান প্রদেশগুলো আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে এতটাই বিশাল যে, এগুলোকে একক কেন্দ্র থেকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের স্থানীয় প্রশাসন চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে রাজনৈতিক বিরোধীদের মনে এক গভীর আশঙ্কা দানা বেঁধেছে যে, এই প্রদেশ ভাঙার আসল উদ্দেশ্য মোটেও কোনো জনকল্যাণমূলক প্রশাসনিক সংস্কার নয়। বরং তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল প্রদেশগুলোতে নিজেদের নিরঙ্কুশ রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক পরিবারের ক্ষমতা ও দাপট চিরতরে খর্ব করার জন্যই এই সুকৌশলী ছক কষা হয়েছে।
পাকিস্তানের রাজনীতি, অর্থনীতি ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় পাঞ্জাব প্রদেশকে। দেশটির সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার এই একক প্রদেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বসবাস। আর এই বিশাল পাঞ্জাব প্রদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্রভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আছে প্রভাবশালী শরীফ পরিবার। পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এই ক্ষমতাধর পরিবারেরই একজন অন্যতম শীর্ষ সদস্য। তার বড় ভাই ও প্রবীণ রাজনীতিক নওয়াজ শরীফও অতীতের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি বর্তমানেও এই পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারটি দখল করে আছেন নওয়াজ শরীফের কন্যা মরিয়ম নওয়াজ। ফলে পুরো পাঞ্জাব মূলত শরীফ পরিবারেরই এক দুর্ভেদ্য রাজনৈতিক দুর্গে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে সিন্ধু প্রদেশের রাজনীতিতে ঠিক একইভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের একচেটিয়া প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে প্রভাবশালী ভুট্টো পরিবার। তাদের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপির মাধ্যমে এই পরিবারটি সিন্ধুর রাজনীতিতে নিজেদের শেকড় অত্যন্ত গভীরভাবে প্রোথিত করেছে। বর্তমানে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে আসীন থাকা আসিফ আলি জারদারি এই ভুট্টো পরিবারের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তার সুযোগ্য সন্তান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকেও আগামী দিনে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
প্রদেশ ভাঙার এই বিতর্কিত পরিকল্পনার নেপথ্যের কুশীলব ও সমর্থকরা বারবার দাবি করে আসছেন যে, এত বড় আয়তনের প্রদেশগুলোতে সুষ্ঠু প্রশাসন পরিচালনা করা দিন দিন অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং অত্যন্ত দুর্বল স্থানীয় সরকারব্যবস্থার কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষ পদে পদে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ তারা বলছেন যে, বিশাল পাঞ্জাবের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার অনেক সাধারণ মানুষকে সামান্য জমি-সংক্রান্ত বিরোধ বা আইনি সমস্যা মেটানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে প্রশাসনিক কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়, যা চরম অমানবিক। কিন্তু এর কড়া সমালোচকরা বলছেন যে, শুধুমাত্র ছোট প্রদেশ তৈরি করে দিলেই এসব কাঠামোগত ও দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার কোনো জাদুকরি সমাধান হয়ে যাবে না। তাদের গভীর আশঙ্কা হলো, নতুন করে ছোট ছোট প্রদেশ তৈরি হলে সেখানে নতুন নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র, মন্ত্রিপরিষদ ও আমলাতান্ত্রিক পদের সৃষ্টি হবে। এর ফলে চরম অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত সরকারের ব্যয়ভার বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং রাজনৈতিকভাবে সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য নতুন নতুন লাভজনক পদ তৈরির এক অভিনব সুযোগ তৈরি হবে মাত্র।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রদেশ পুনর্গঠনের এই অভিনব পরিকল্পনা নিয়ে সবচেয়ে বড় ও জোরালো প্রশ্নটি উঠছে খোদ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর নেপথ্য ভূমিকা ও তাদের ক্রমবর্ধনশীল প্রভাব নিয়ে। গত দুই বছরে পাকিস্তানের সংবিধানে অত্যন্ত সুকৌশলে দুই দফায় বড় ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধনী আনা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। এছাড়া বিচার বিভাগে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে নতুন করে ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট বা এফসিসি নামের একটি বিশেষ আদালত গঠন করা হয়েছে। সমালোচক ও বিরোধী আইনজীবীদের তরফ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই নতুন ও ক্ষমতাধর আদালতে মূলত সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং সামরিক বাহিনীর অনুগত ব্যক্তিদেরই একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে। বর্তমান পাকিস্তানে সামরিক কাঠামোর বাইরে গিয়েও বেসামরিক রাজনীতিতে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে দেশের ভেতরে ও বাইরে অনেকেই এখন সম্পূর্ণভাবে সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল একজন দুর্বল নেতা হিসেবেই বিবেচনা করে থাকেন।
দেশের এই টালমাটাল রাজনৈতিক ও ক্ষমতার টানাপোড়েনের পাশাপাশি পাকিস্তানের বর্তমান ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটও এই সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও বহুগুণে জটিল ও ঘোলাটে করে তুলেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বৈদেশিক ঋণের বিশাল কিস্তি পরিশোধ এবং সরকারের দৈনন্দিন ও অপরিহার্য প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর পর কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন বা অন্যান্য জনকল্যাণমুখী খাতে ব্যয় করার জন্য খুব বেশি অর্থ অবশিষ্ট থাকছে না। এর ওপর সাধারণ জনগণের ওপর নতুন করে করের বোঝা চাপানো এবং বারবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে চরম জনঅসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ এখন প্রকাশ্যে মনে করতে শুরু করেছে যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তান সম্প্রতি কিছু কূটনৈতিক বা কৌশলগত সাফল্য পেলেও, দেশের ভেতরের দুর্বল বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের অদক্ষতা দিয়ে সেই সাফল্যগুলোকে কোনোভাবেই ধরে রাখতে পারছে না।
তবে সেনাপ্রধানের এই প্রদেশ ভাঙার স্বপ্ন বা পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ দেওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। পাকিস্তানের বর্তমান সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, দেশের যেকোনো একটি প্রদেশকে ভাগ করতে হলে বা সীমানা পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদে বা অ্যাসেম্বলিতে ন্যূনতম দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হতে হবে। আর ঠিক এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোটেও কোনো সহজ কাজ নয়। পাঞ্জাবের বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি হয়তো নিজেদের স্বার্থে বা সেনাবাহিনীর চাপে শেষ পর্যন্ত এতে সম্মত হলেও হতে পারে। কিন্তু সিন্ধু প্রদেশের ক্ষেত্রে পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপির জন্য এই বিষয়টি রাজনৈতিক জীবন-মরণের প্রশ্নের মতো অত্যন্ত বেশি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই বিশাল সিন্ধু প্রদেশই দলটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক ক্ষমতার অন্যতম মূল ভিত্তি। এরই মধ্যে সিন্ধু প্রদেশের বিধানসভা বা অ্যাসেম্বলি প্রদেশ ভাগের এই কথিত পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাবও পাস করে রেখেছে।
সেনাপ্রধান ও সামরিক বাহিনীর পর্দার আড়ালের প্রভাব রাজনীতিতে যতই বাড়ুক না কেন, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় ও দুর্লঙ্ঘ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে এখনো দাঁড়িয়ে আছেন কারাবন্দি নেতা ইমরান খান। দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে বন্দি জীবন কাটালেও ইমরান খান এখনো পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছে এবং রাজনীতির মাঠে চরমভাবে জনপ্রিয় একজন নেতা। পিটিআইয়ের অগণিত ও নিবেদিতপ্রাণ সমর্থকরা তাকে যেকোনো মূল্যে মুক্ত করার দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও নিয়মিতভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। ফলে এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে প্রদেশ পুনর্গঠন বা দেশের ভৌগোলিক ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তনের মতো এত বড় ও স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত নিতে গেলে দেশজুড়ে নতুন করে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই বিতর্কিত পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে প্রদেশ পুনর্গঠনের এই নতুন ও আকস্মিক বিতর্ক পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী এবং নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের মধ্যকার চিরস্থায়ী দ্বন্দ্ব ও অবিশ্বাসের সম্পর্ক নিয়ে আবারও নতুন করে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে দেশটির রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে এক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট