• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
Headline
ইসরায়েলে আরও একটি প্যাট্রিয়ট পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সাত বছরে ছয় নির্বাচন, কেন থিতু হতে পারছে না ইসরায়েল? ৫৫ বছরে সবজির দাম স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক লুটপাট করেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপ-নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই : ইসি সচিব ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন ৭ দিনের রিমান্ডে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা শহরে পদ্মা থেকে ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের নতুন প্রকল্প জয়-পুতুলসহ ৮ জনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ গুরুদাসপুর থানার ওসি প্রত্যাহার

রাশিয়া যুদ্ধে জোর করে নেওয়া হয় বাংলাদেশিদের

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে লোভনীয় ও উচ্চ বেতনের বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের প্রতারণামূলকভাবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও কনভেনশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশসহ মোট উনত্রিশটি দেশের নাগরিকদের কোনো ধরনের সম্মতি ছাড়াই জোরপূর্বক ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরের যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারি অন ইউক্রেন’ শীর্ষক এই তদন্ত প্রতিবেদনটি সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই খসড়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট আটচল্লিশটি দেশের কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পর প্রায় উনত্রিশটি দেশের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে প্রতারণা, জবরদস্তি ও মানব পাচারের নিখুঁত প্রমাণ হাতে পেয়েছে তদন্ত কমিশন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন অঞ্চলে রুশ সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে লড়াই করার জন্য এভাবেই বিশ্বজুড়ে এক বিশাল মানব পাচারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জোরালোভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন দেশে সক্রিয় রিক্রুটিং এজেন্ট বা দালাল চক্রের সুসমন্বিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূলত আঠারো থেকে ষাট বছর বয়সী পুরুষদের এই ভয়ংকর ফাঁদে ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের এই মানুষগুলোকে বিদেশে ভালো আয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে সিকিউরিটি গার্ড, গাড়িচালক, মেকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, নির্মাণশ্রমিক, ওয়েল্ডার কিংবা টেকনিশিয়ানের মতো বিভিন্ন সাধারণ বেসামরিক কাজের মন ভোলানো বিজ্ঞাপন বা প্রস্তাব দেওয়া হতো। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি কিংবা চিকিৎসা খাতের কাজের লোভও দেখানো হয়েছিল, যা অত্যন্ত সুকৌশলে সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাসের জন্ম দিত। এসব মিথ্যা প্রস্তাবে আকর্ষিত হয়ে অনেকেই নিজেদের শেষ সম্বল বিক্রি করে কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দালালদের হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এজেন্টরা অত্যন্ত সুচারুভাবে তাদের পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা সংগ্রহ, বিমান টিকিট বুকিং এবং যাত্রাপথের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করত। ট্রানজিট দেশ হিসেবে বাহরাইন, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে তাদের অত্যন্ত সুকৌশলে রাশিয়ায় পাড়ি জমানোর ব্যবস্থা করা হতো। কিন্তু মস্কোর মাটিতে পা রাখার সঙ্গেই সমস্ত সুন্দর প্রতিশ্রুতির মুখোশ উন্মোচিত হতে শুরু করত এবং ভুক্তভোগীদের চলাচলের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ কেড়ে নেওয়া হতো।

রাশিয়ার বিমানবন্দর কিংবা নির্ধারিত অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানোর পরপরই এই প্রবাসীদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় কিংবা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলের হাতে তুলে দেওয়া হতো। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের সামনে এক বছরের বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরির চুক্তিপত্র বাড়িয়ে দেওয়া হতো, যা সম্পূর্ণভাবে রুশ ভাষায় লেখা থাকত। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশিরা রুশ ভাষা না জানার কারণে সেই চুক্তির মূল বিষয়বস্তু বা শর্তগুলো একরত্তিও বুঝতে পারতেন না। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তাদের মোবাইল ফোন ও পাসপোর্ট আগেই কেড়ে নেওয়া হতো, যাতে তারা চাইলেও পরিবার বা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন কিংবা কোনো ধরনের আইনি সহায়তা চাইতে না পারেন। কেউ যদি ওই অদ্ভুত ও দুর্বোধ্য চুক্তিতে সই করতে সামান্যতম আপত্তি বা অস্বীকৃতি জানাতেন, তবে তাদের ওপর অমানুষিক মানসিক চাপ, চরম হুমকি এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। তদন্ত কমিশনের কাছে একজন ভুক্তভোগী অত্যন্ত মর্মান্তিক বর্ণনা দিয়ে জানিয়েছেন যে, তার চোখের সামনে চারজনকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এবং তাকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে তার পরিণতিও একই হবে। এ ধরনের চরম প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ে নিজের জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়েই তারা ওই সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হতেন। এর বাইরে রাশিয়ায় বিভিন্ন অপরাধে কারাবাস বা পুলিশি হেফাজতে থাকা বিদেশি বন্দীদেরও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এই সামরিক চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করার অসংখ্য নজির পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই ধরনের জবরদস্তিমূলক চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরপরই তাদের অতি সংক্ষিপ্ত ও দায়সারা সামরিক প্রশিক্ষণের মুখোমুখি হতে হতো। মাত্র কুড়ি মিনিট থেকে শুরু করে বড় জোর কয়েক দিন বা সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত এই প্রাথমিক প্রশিক্ষণপর্ব চালু থাকত, যা কোনোক্রমেই একজন সাধারণ কর্মীকে সম্মুখ যুদ্ধের জন্য উপযোগী করে তোলার পক্ষে পর্যাপ্ত ছিল না। এই নজিরবিহীন সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের পরেই তাদের সরাসরি ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সম্মুখ সমরে বা যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রধান কাজ হিসেবে পরিখা খনন করা, সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া, আক্রমণ পরিচালনা করা, এলাকা পাহারা দেওয়া, রসদ বা পানি পৌঁছে দেওয়া এবং কখনো কখনো সহযোদ্ধাদের মরদেহ সংগ্রহের মতো অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজগুলো জোরপূর্বক করানো হতো। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার বা পানির ব্যবস্থা না রেখে তাদের মাসের পর মাস অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হতো এবং সামান্য ত্রুটি দেখলেই তাদের ওপর চালানো হতো শারীরিক মারধর ও মৃত্যুর হুমকি। যুদ্ধক্ষেত্রের শুরুর দিনগুলোতে ড্রোন হামলা কিংবা আর্টিলারি ফায়ারের মুখে পড়ে অনেকেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন, যাদের সঠিক সংখ্যা বা পরিণতি সম্পর্কে দেশের বাড়িতে থাকা পরিবারগুলো দীর্ঘদিন পর্যন্ত কোনো ধারণাই পেত না।

জাতিসংঘের এই সার্বিক বৈশ্বিক প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর নেমে আসা দুর্ভোগের চিত্রটি আরও বেশি স্পষ্ট ও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, গত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র বৈধ উপায়েই বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাত হাজার নয়শ ঊনপঞ্চচল্লিশ জন কর্মীর জন্য রাশিয়ার অনুকূলে চাকরির ছাড়পত্র বা অনুমোদন জারি করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার আড়ালে মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফরটিফাই রাইটস’ এবং ‘ট্রুথ হাউন্ড’-এর যৌথ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছিল যে অন্তত একশো চারজন বাংলাদেশি নাগরিককে জোরপূর্বক রুশ সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত চৌত্রিশ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সূত্রে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারানো বাংলাদেশির সংখ্যা ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি সূত্রে জানা যায়, নির্মাণকাজের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় দশ লক্ষ টাকা করে খরচ নিয়ে যে ত্রিশজন কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্তত কুড়িজনই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ যাত্রার প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় নিহত হন।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধ তদন্ত বিভাগের মানবপাচার সেল এবং অন্যান্য বিশেষ ইউনিট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। ‘ড্রিম হোম ট্রাভেল’ কিংবা এ ধরনের নামসর্বস্ব ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতিমাসে আড়াই লক্ষ টাকা বেতনের লোভনীয় চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে কীভাবে ইউক্রেনের রণাঙ্গনে পাচার করা হচ্ছিল, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকেও বারবার এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে সরকারের এখন প্রধান দায়িত্ব হলো নতুন করে কোনো নাগরিক যেন এই মরণফাঁদে পা না বাড়ায় তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বিগত বছরগুলোতে যারা রাশিয়ায় গেছেন, তাদের মধ্যে ঠিক কতজন বৈধভাবে কর্মরত আছেন, কতজন যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়েছেন এবং কতটি পরিবার তাদের স্বজনদের নিখোঁজ হওয়ার দাবি জানিয়েছে, তার একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন যে বর্তমান সরকার এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কাগজপত্র এবং চাকরির অফার লেটার অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং যেসব অসাধু এজেন্সি এই মানব পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জোরালো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে পরিষ্কার ভাষায় বলা হয়েছে যে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের সামরিক বাহিনীতে বলপূর্বক নিয়োগ করা সরাসরি মানব পাচারের আন্তর্জাতিক অপরাধের সমতুল্য। কমিশন জোরালো সুপারিশ করেছে যে রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে এ উপায়ে আটক বা নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের কোনোভাবেই সাধারণ ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে গণ্য করা যাবে না। তৃতীয় জেনেভা কনভেনশনের আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী যুদ্ধবন্দি হিসেবে তারা পূর্ণ আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন, সে তারা স্বেচ্ছায় হোক কিংবা বাধ্য হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দি বা আত্মসমর্পণ করে থাকুক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারগুলোকে নিজেদের নাগরিকদের উদ্ধারের জন্য ইউক্রেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও তদারকি বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিবেদনের বিপরীতে মস্কোয় অবস্থিত রুশ মিশন বরাবরের মতোই এই তদন্ত কমিশন ও তাদের উত্থাপিত সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, একপাক্ষিক ও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং এই প্রতিবেদনের কোনো আইনি বৈধতা তারা স্বীকার করে না বলে জানিয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশের সাধারণ ও নিরীহ শ্রমিকদের জীবন রক্ষার্থে এবং আন্তর্জাতিক এই মানব পাচার নেটওয়ার্ক চিরতরে ধ্বংস করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category