• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
Headline
সংঘাতের পথেই হাঁটছেন ট্রাম্প সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর না হওয়ায় বড় কৌশলগত সম্ভাবনা হারিয়েছে বাংলাদেশ: হামিদুর সমবায়ই পারে গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখতে: রিজভী জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্তক্ততা বজায় রাখার অঙ্গীকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করতে হয় কাজের মাধ্যমে: আইনমন্ত্রী বিবিএসকে নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার : অর্থমন্ত্রী সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির পরিকল্পনা আছে মাত্র সাড়ে ১৫ শতাংশের: দেশের ৮৪ শতাংশ এলাকা মাস্টারপ্ল্যানের বাইরে ১০ দেশে বাংলাদেশীদের প্রায় ৬ লাখ আশ্রয় আবেদন: শীর্ষে ফ্রান্স ও ইতালি, তবে প্রত্যাখ্যানের হার রেকর্ড

পরিকল্পনা আছে মাত্র সাড়ে ১৫ শতাংশের: দেশের ৮৪ শতাংশ এলাকা মাস্টারপ্ল্যানের বাইরে

Reporter Name / ১ Time View
Update : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

সীমিত আয়তনের ভূখণ্ডে বিপুল জনসংখ্যার ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে নগরায়ণের গতি অবিশ্বাস্য রূপ ধারণ করেছে। বিভাগীয় ও জেলা সদরের মতো বড় বড় শহর ছাড়িয়ে বর্তমানে গ্রামীণ জনপদ ও প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোও দ্রুতগতির নগরায়ণের বলয়ে প্রবেশ করছে। ভৌগোলিক রূপান্তরের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সমগ্র দেশটিই একটি একক বিশাল ‘নগররাষ্ট্রে’ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদরা। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, স্বাধীনতার দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছর পেরিয়ে গেলেও জাতীয় পর্যায়ে কোনো সুসমন্বিত, টেকসই ও সামগ্রিক স্থানিক মহাপরিকল্পনা বা মাস্টার প্ল্যান গড়ে ওঠেনি। দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় সাড়ে চুরাশি শতাংশ এলাকাই আজ পর্যন্ত কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আসেনি। আর যে সামান্য সাড়ে পনেরো শতাংশ এলাকার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে তার সিংহভাগই এখনো কেবল কাগুজে দলিলে বন্দি হয়ে রয়েছে।

অপরিকল্পিত এই ভৌগোলিক বিস্তারের কারণে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই তৈরি হচ্ছে চরম বিশৃঙ্খলা, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোগত জঞ্জাল। কৃষি জমি ও প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করে গড়ে উঠছে একের পর এক অপরিকল্পিত বসতি ও শিল্পকারখানা। ফলে সারা দেশজুড়ে অপ্রশস্ত সড়ক নেটওয়ার্ক, সুপেয় পানির সংকট, তীব্র জলাবদ্ধতা এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো নাগরিক সমস্যাগুলো এক ভয়ংকর দুর্যোগের রূপ নিচ্ছে। এমন এক সংকটময় ও সতর্কবার্তা সম্বলিত বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস। এবারের দিবসের কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘সুপরিকল্পনায় গড়ে ওঠে সুন্দর জনপদ। একসঙ্গে বাস্তবায়ন করি, একসঙ্গে সমৃদ্ধ হই, একসঙ্গে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করি’। এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সরকার অতীতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে নতুন করে ‘জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা’ প্রণয়নের তোড়জোড় শুরু করেছে।

দেশের মোট ভৌগোলিক আয়তন এক লাখ সাতচল্লিশ হাজার ছয় শ দশ বর্গকিলোমিটার। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যানের বিশদ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে এই সুবিশাল ভূখণ্ডের মধ্যে মাত্র তেইশ হাজার উনত্রিশ বর্গকিলোমিটার এলাকা কোনো না কোনো মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট আয়তনের মাত্র ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এর সরাসরি অর্থ দাঁড়ায় যে দেশের অবশিষ্ট ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ এলাকাই এখনো যেকোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বাইরে রয়ে গেছে। পরিকল্পনার আওতায় থাকা এই সামান্য অংশের মধ্যে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বা ইউডিডির এখতিয়ারাধীন এলাকা রয়েছে প্রায় তেরো হাজার ছয় শ চৌষট্টি বর্গকিলোমিটার। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউকসহ দেশের প্রধান পাঁচটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে রয়েছে ছয় হাজার তিন শ একষট্টি বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে থাকা দেশের ২১৬টি পৌরসভার আওতায় রয়েছে প্রায় তিন হাজার চার বর্গকিলোমিটার এলাকা।

তবে কাগজে-কলমে যে সামান্য এলাকার জন্য মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে সেগুলোর বাস্তবায়ন চিত্র আরও বেশি হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিচালনায় দেশের ২৫০টি পৌরসভার জন্য পৃথক পৌর মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সরকারের পাঁচটি পৃথক উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এই পরিকল্পনাগুলোর পেছনে ব্যয় করা হয়েছিল প্রায় একত্রিশ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা, সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্বশীলদের চরম অবহেলার কারণে সরকারি গেজেট প্রকাশের পূর্বেই মহাপরিকল্পনাগুলোর নির্ধারিত মেয়াদের সিংহভাগ অতিক্রান্ত হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, গাজীপুরের শ্রীপুর, কালিয়াকৈর এবং টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার জন্য ২০১১ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও দীর্ঘ দেড় দশকেও এগুলোর কোনো কার্যকর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়নি। ফলে বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের পরও এই পৌরসভাগুলো অপরিকল্পিত কংক্রিটের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স বা বিআইপির সভাপতি ড মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম দেশের এই পরিকল্পনা সংকটের কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে দীর্ঘকাল ধরে কোনো সামগ্রিক জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন সংস্থা বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিতভাবে আলাদা আলাদা মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে। ফলস্বরূপ এই পরিকল্পনাগুলোর একটি বড় অংশই বাস্তবায়নের মুখ না দেখে আলমারির নথিতে বন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষগুলো বাণিজ্যিক স্বার্থে ও রাজস্ব বাড়াতে নির্বিচারে বহুতল ভবন নির্মাণের ছাড়পত্র দিলেও মহাপরিকল্পনায় প্রস্তাবিত প্রশস্ত সড়ক নেটওয়ার্ক, পয়োনিষ্কাশন খাল, উন্মুক্ত পার্ক, খেলার মাঠ ও মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলো বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

এদিকে বড় মেট্রোপলিটন শহরগুলোর পাশাপাশি দেশের ছোট ছোট মফস্বল শহর ও গ্রামীণ কেন্দ্রগুলোতেও অপরিকল্পিত জনসংখ্যার তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১ সালে যেখানে দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করত, ২০২২ সালের জনশুমারিতে তা এক লাফে বেড়ে ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ছোট ছোট শহরগুলোর চারপাশের কৃষিজমি দখল করে গড়ে উঠছে অনুমোদনহীন ও অপরিকল্পিত উপশহর। পৌরসভার প্রশাসনিক সীমানার বাইরে এই ধরনের দ্রুতগতির বসতি গড়ে ওঠায় পৌর এলাকার বাইরেও গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক ও পয়োনিষ্কাশনের মতো নাগরিক সুবিধার তীব্র চাহিদা ও সংকট তৈরি হচ্ছে, যা মেটানোর মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নেই।

প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও পরিবেশের ওপর এই অপরিকল্পিত নগরায়ণের চরম বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এসএনভির এক তথ্যবহুল গবেষণায় দেখা গেছে যে সিলেট অঞ্চলের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ হাওর ও প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো অবৈধভাবে ভরাট করার ফলে শহরের স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো শহরে মারাত্মক জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং সিলেট নগরীতে প্রতি বছর অস্বাভাবিক বন্যার স্থায়ী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শুধু সিলেট নয়, দেশের রাজধানী ঢাকার মতো মেগাসিটিতেও মৌলিক পয়োনিষ্কাশন সেবার চিত্র রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের এক বিশদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার মোট বাসিন্দাদের মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষের পাইপভিত্তিক পয়োনিষ্কাশন লাইনের সংযোগ রয়েছে। আর সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, পুরো রাজধানীতে কার্যকর পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক সুবিধা পায় মাত্র ২ শতাংশ মানুষ।

দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের কেন্দ্রগুলো নিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার দলিলগুলোতেও নানা পরিসংখ্যানের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। জাতীয় সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬ থেকে ২০২০ মেয়াদে) সারা দেশে প্রায় ৫৭০টি ছোট-বড় নগরের অস্তিত্ব ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২০০৫ সালের গ্রামীণ সড়ক মহাপরিকল্পনায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুই হাজার এক শটি গ্রোথ সেন্টার বা গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের তালিকা চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত স্থানিক নির্দেশিকা না থাকার কারণে এই বিপুল সংখ্যক বাণিজ্য কেন্দ্র ও উন্নয়ন হাবগুলো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে বিকশিত হতে পারছে না, যার ফলে গ্রামীণ অঞ্চলগুলোও হারাচ্ছে তাদের সুষম পরিবেশ ও টেকসই বৈশিষ্ট্য।

এমন ভয়াবহ জাতীয় বিপর্যয় ও অপরিকল্পিত বিস্তার রোধ করতে সরকার অবশেষে সারা দেশের জন্য একটি সামগ্রিক ‘জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা’ প্রণয়নের চূড়ান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই মহাপরিকল্পনার মূল দর্শন হলো দেশের কোথায় আবাসন গড়ে উঠবে, কোন এলাকাগুলোতে ভারী ও হালকা শিল্পাঞ্চল স্থাপন করা যাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে কোন কোন এলাকার উর্বর কৃষি জমি, বনভূমি ও প্রাকৃতিক জলাশয় কঠোরভাবে সংরক্ষণ করা হবে—তার সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক আইনগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ‘জাতীয় নগর নীতিমালা-২০২৫’ অনুমোদন করে। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের আইনি শূন্যতা দূর করতে চলতি ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয় যুগান্তকারী ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন-২০২৬’।

নতুন এই আইনের অধীনে সারা দেশের জন্য জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের স্থানিক মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের একক আইনগত দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বা ইউডিডিকে। পরিকল্পনা তদারকি ও বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে বিগত জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা পরিষদ’ এবং সংশ্লিষ্ট সচিবদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক ড মো মাহমুদ আলী এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে অতীতে প্রণীত মহাপরিকল্পনাগুলো লঙ্ঘিত হলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি সুযোগ ছিল না। কিন্তু নতুন স্থানিক পরিকল্পনা আইনে সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে যে অনুমোদিত মহাপরিকল্পনা বা স্থানিক নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো ওবায়দুর রহমান পুরো সমস্যাটিকে আরও বিস্তৃত প্রেক্ষাপট থেকে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে সরকার কেবল বড় শহরগুলোকে বাসযোগ্য করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামো ও জীবনমানকেও এই সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আধুনিক নাগরিক সুবিধা এবং যুবসমাজের জন্য লাভজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হলে কাজের খোঁজে মানুষের অন্ধের মতো ঢাকামুখী বা বড় শহরমুখী হওয়ার তীব্র প্রবণতা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে।

পরিশেষে এটি অনস্বীকার্য যে স্বাধীনতার পাঁচ দশক পর হলেও একটি জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের এই রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ইতিবাচক। তবে অতীতে যেমন শত শত মহাপরিকল্পনা তৈরি করে কেবল নথিপত্রে ফেলে রাখা হয়েছিল, নতুন আইনের ক্ষেত্রে যেন সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত সমন্বিত তদারকি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল দেশের সাড়ে চুরাশি শতাংশ অপরিকল্পিত ভূখণ্ডকে বাঁচানো সম্ভব। কৃষি, জলাশয় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য স্বদেশ গড়ে তোলা এখন আর কোনো সাধারণ প্রশাসনিক পছন্দ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টিকে থাকার একমাত্র অপরিহার্য শর্ত।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category