১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পূর্ববর্তী সময়গুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রায় প্রতি বছরই ব্যাপক মাত্রায় খাদ্যশস্যের তীব্র ঘাটতি লেগে থাকত। ঐতিহাসিকভাবেই এই বঙ্গ অঞ্চলের আপামর জনসাধারণের একটি সাধারণ ও মর্মান্তিক বৈশিষ্ট্য ছিল নিম্নমাত্রার খাদ্য গ্রহণ। খাদ্যশস্যের এই ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর্যুপরি আঘাত, চরম দারিদ্র্য এবং আয়ের ব্যাপক বৈষম্য বাংলাদেশের মানুষের নিত্যসঙ্গী ছিল। এই উপাদানগুলো ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের সমাজকাঠামোতে ক্ষুধা ও অনাহারকে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অত্যন্ত নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে এসেছে। স্বাধীনতার আগে যেমন পরিস্থিতি ছিল, বর্তমান আধুনিক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও ক্ষুধা একটি অত্যন্ত জ্বলন্ত ও উদ্বেগজনক সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা সরকারগুলো এই ক্ষুধার প্রকৃত মাত্রা ও ভয়াবহতাকে সমাজের চোখের আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বাধীন সংস্থার তথ্য ও উপাত্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূঢ় বাস্তবতার চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০২১ সালের প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ মানুষ বিভিন্ন মাত্রায় খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছেন।
সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রধানত তিনটি সময়ে খাদ্যপণ্যের, বিশেষ করে চাল ও গমের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের দামে অস্বাভাবিক ও তীব্র উল্লম্ফন ঘটেছিল। এই সময়গুলো হলো ১৯৭৩-৭৪, ২০০৭-০৮ এবং অতি সম্প্রতি ২০২২-২৩ সাল, যার পেছনে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি বড় বৈশ্বিক প্রভাব ছিল। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনাগুলো বিশ্বজুড়ে আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে এনেছিল। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশেও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায়। এখানে উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি যে, বাংলাদেশ মূলত একটি খাদ্য আমদানিকারক দেশ। আর ঠিক এই কারণেই বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের সবচেয়ে বড় ও নির্মম ধাক্কাটি বরাবরই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর এসে পড়ে। তবে এটিও গভীরভাবে অনুধাবন করা দরকার যে, বাংলাদেশের বুকে ক্ষুধা এবং খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার এই সংকট মোটেও কোনো নতুন ঘটনা নয়, অথবা এটি কেবল বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার সাথে এককভাবে সম্পর্কিত নয়। সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় হলো, দেশে যখন কোনো ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বা মহামারি হানা দেয়, কেবল তখনই ক্ষুধা ও অনাহারের বিষয়টি রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়, অন্যথায় বছরের পর বছর ধরে চলা নীরব ক্ষুধা আড়ালেই থেকে যায়।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘হোয়াই নেশনস ফেইল টু ফিড দ্য পুওর: দ্য পলিটিকস অব ফুড সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ’ (লন্ডন, ২০২৩) শীর্ষক গ্রন্থে এই খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার পেছনের রাজনৈতিক কারণগুলো অত্যন্ত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের মুখে অন্ন তুলে দিতে ব্যর্থ হয়, তখন রাষ্ট্রযন্ত্র ঠিক কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটিই এই গবেষণাধর্মী বইয়ের মূল উপজীব্য। এখানে রাষ্ট্রের সক্ষমতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের পরিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু উপেক্ষিত দিকগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বিশ্লেষণ করার জন্য এখানে ‘নয়া-পৃষ্ঠপোষকতামূলক’ বা নিও-প্যাট্রিমোনিয়াল ধারণার প্রয়োগ করা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় পাঁচটি প্রধান বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে, যেগুলো হলো—অনৈতিক সুবিধা আদায় বা রেন্ট-সিকিং, সরকারি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি, আংশিক সংস্কার সিনড্রোম, রাষ্ট্রের দুর্বল সক্ষমতা এবং সুশাসনের চরম অভাব। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়নের প্রতিটি স্তরে কী কী ধরনের কাঠামোগত ও রাজনৈতিক বাধা রয়েছে, তা স্পষ্ট করাই এই গবেষণার প্রধান লক্ষ্য।
একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। তা সত্ত্বেও, জাতীয় পর্যায়ে খাদ্যনীতি প্রণয়ন, তার সংস্কার এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকাই সবচেয়ে প্রধান ও কেন্দ্রীয়। কারণ, সরকার এমন সব নীতি গ্রহণ করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ক্ষুধাকে চিরতরে দূর করতে সক্ষম। কিন্তু বিশ্বায়নের এই যুগে বর্তমান বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ক্রমশই বিদেশি বা বহিরাগত প্রভাবশালীদের নীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি, দেশের ভেতরের সরকারগুলোও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে আগাম ও সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণে চরম অবহেলা প্রদর্শন করে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যে প্রাকৃতিক সম্পদে চরম দরিদ্র একটি দেশ, সে কারণে এখানকার লাখ লাখ মানুষ ক্ষুধার্ত থাকে না; বরং এই ক্ষুধার মূল কারণ হলো রাষ্ট্রের চরিত্র ও রাজনৈতিক কাঠামো। বাংলাদেশের নয়া-পৃষ্ঠপোষকতামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রশাসনিক দক্ষতা, কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং একটি সুসংহত আদর্শের চরম অভাব রয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার এই ধারাবাহিক ক্ষয়ের ফলে নাগরিকদের মৌলিক সেবা প্রদানের ক্ষমতাও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই নয়া-পৃষ্ঠপোষকতামূলক সরকারগুলো মূলত তোষণনীতি ও পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির ওপর ভর করে টিকে থাকে, যেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আদান-প্রদানই হলো শাসনব্যবস্থার মূল হাতিয়ার।
খাদ্যনিরাপত্তার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো খাদ্যের সহজলভ্যতা বা অ্যাভেইলেবিলিটি নিশ্চিত করা। কিন্তু এই ক্ষেত্রে নয়া-পৃষ্ঠপোষকতামূলক রাষ্ট্র কীভাবে পদে পদে ব্যর্থ হচ্ছে, তা বাজেট বরাদ্দ ও নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ার দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অভ্যন্তরীণ কৃষিখাতকে শক্তিশালী করে উৎপাদন বাড়ানোর বদলে রাষ্ট্র ক্রমশ কৃষিতে তার ভূমিকা ও বিনিয়োগ সংকুচিত করছে। কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ আনুপাতিক হারে কমার পাশাপাশি, রাষ্ট্র কৃষির উন্নয়নে এমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না, যা দেশের মানুষের জন্য খাদ্যের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে পারে। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের কৃষিখাতের পরিবর্তনের ধারাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সুশাসনের অভাব এবং দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার কারণেই কৃষিখাতের প্রসার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার কৃষিনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের যেসব উদ্যোগ নেয়, তা মূলত তোষণনীতির কারণে মাঝপথেই মুখ থুবড়ে পড়ে। রেন্ট-সিকিং বা অবৈধ সুবিধা আদায়, দুর্নীতি এবং দুর্বল সক্ষমতা এই উদ্যোগগুলোকে আরও বেশি অকার্যকর করে তোলে। কৃষকদের সার ও অন্যান্য ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, যার ফলে প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকরা কোনো প্রকৃত সহায়তা পান না এবং তাদের সম্পূর্ণ নিজেদের ভাগ্য ও বাজারের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয়।
যেহেতু বাংলাদেশে প্রতিনিয়তই খাদ্যঘাটতি লেগে থাকে, তাই খাদ্যের সহজলভ্যতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈদেশিক খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভর করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু এই খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে মূলত চারটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। প্রথমত, আন্তর্জাতিক চালের বাজারের চরম অনিশ্চয়তা, যা যেকোনো সময় আমদানিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীর ও দীর্ঘসূত্রতায় পরিপূর্ণ। দেশে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী অবকাঠামো নেই, অথচ বন্যা বা খরালোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগই খাদ্য উৎপাদনের সবচেয়ে বড় শত্রু। তৃতীয়ত, তোষণনীতি এবং সুশাসনের অভাবে দেশের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের ওপর সরকারের কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি নেই। এর ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সহজেই সিন্ডিকেট তৈরি করে খাদ্যশস্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত করে। চতুর্থত, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও, দুর্নীতি, রেন্ট-সিকিং এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে এই প্রতিষ্ঠানটি আমদানিকৃত পণ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনায় চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।
খাদ্যের সহজলভ্যতার পাশাপাশি খাদ্যে মানুষের প্রবেশাধিকার বা অ্যাক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র মানুষের খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র পরিচালিত পাবলিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (পিএফডিএস) ঐতিহাসিকভাবেই একটি বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু এই পিএফডিএস ব্যবস্থাও মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মূল লক্ষ্য মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, বরং রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, সরকার এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণী এবং বিদেশি দাতাগোষ্ঠীদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করে। এর ফলে সামজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর (এসএসএন) কর্মসূচিগুলোতে ব্যাপক হারে লক্ষ্যচ্যুত হওয়া বা ‘টার্গেট এরর’ এবং ‘লিকেজ’ বা ফুটো দেখা যায়। সাধারণ দৃষ্টিতে এগুলোকে সুশাসনের অভাব বলে মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে এগুলো হলো রাজনৈতিক সমর্থকদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বণ্টন করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার একটি সুকৌশলী হাতিয়ার।
অন্যদিকে, বাজারে হুট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাষ্ট্রের বাজার তদারকি ব্যবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল। সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপগুলো মূলত লোকদেখানো এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার হাতিয়ার মাত্র। রাজনৈতিক চাপে পড়ে নয়া-পৃষ্ঠপোষকতামূলক সরকারগুলো বাজারে কেবল নামমাত্র তদারকি অভিযান চালায়, কিন্তু বাজার কাঠামোর গভীরে লুকিয়ে থাকা মূল সমস্যাগুলো সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেয় না। অতীতে বিভিন্ন সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে জোরজবরদস্তি এবং পিএফডিএস-এর মাধ্যমে বাজারে পণ্য ছেড়ে দাম কমানোর কৌশল গ্রহণ করেছে, যা ২০০৭-০৮ সালের খাদ্য সংকটের সময় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ লেনদেনের মতো অপরাধগুলো বাজার কাঠামোকে প্রতিনিয়ত ধ্বংস করে দিচ্ছে, আর রাষ্ট্র তোষণনীতির কারণে এই অবৈধ কাজগুলোকে নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে। খুলনা শহরের ৫ নম্বর টার্মিনালে সরকারি টিসিবির ট্রাকের সামনে ভর্তুকি মূল্যের চাল ও আটা কেনার জন্য এক হতাশ ও বিষণ্ণ মায়ের তার ঘুমন্ত সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার যে চিত্র গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা আসলে এই কাঠামোগত ব্যর্থতারই এক নির্মম ও বাস্তব প্রতিচ্ছবি। নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার জোটানোর এই প্রতিদিনের সংগ্রাম প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় নীতিগুলো সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে কতটা অসহায়।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের মানুষের ক্ষুধা ও খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মূল কারণটি সম্পদের অভাব নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর গভীরে প্রোথিত একটি কাঠামোগত ও রাজনৈতিক ব্যাধি। যতক্ষণ পর্যন্ত না নয়া-পৃষ্ঠপোষকতামূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার খোলস ভেঙে রাষ্ট্রকে প্রকৃত অর্থেই জনকল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক করা সম্ভব হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করা কেবলই একটি অধরা স্বপ্ন হয়েই থেকে যাবে।
তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার