• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন
Headline
যারা শাশুড়ি হতে যাচ্ছেন তাঁদের জন্য ১০টি পরামর্শ চিকিৎসার পর ফের কারাগারে দীপু মনি সংসদে ট্যাক্সের টাকায় যেন চরিত্র হনন না হয় বিরোধী দলের নির্বাচনি এলাকায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রাহকদের জন্যে স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ কর সংস্কারের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর বন্ধ হচ্ছে আবাসিক গ্যাস সংযোগ

আগামী মাস থেকে নবম বেতন স্কেল কার্যকর

Reporter Name / ৩ Time View
Update : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকার নতুন নবম বেতন স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামোর অধীনে মূল বেতন বা বেসিক স্যালারির সম্পূর্ণ বৃদ্ধির বিষয়টি কার্যকর করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি চাকুরেদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই বেতন স্কেল প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ১১ বছর ধরে একই কাঠামোতে থাকা সরকারি কর্মীদের জন্য এক বড় স্বস্তি বয়ে আনবে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বর্তমান সরকার সচিবালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ইতোমধ্যে সিভিল প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদাভাবে করা তিনটি কমিশন রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করে একটি সমন্বিত বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও রোডম্যাপ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন সাপেক্ষে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বেতন স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগে সরকার কয়েকটি বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছিল। শুরুতে দুই বা তিন বছরে পর্যায়ক্রমে বেতন বৃদ্ধির একটি ধারণা ছিল। কিন্তু অর্থ বিভাগের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতির (iBAS++) জটিলতা এড়াতে বর্তমান সরকার মূল বেতন একবারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে যে, প্রথম ধাপে জুলাই মাস থেকে মূল বেতন বা বেসিক স্যালারি বাড়ানো হবে এবং পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ আগামী অর্থবছরে বর্ধিত ভাতাসমূহ কার্যকর করা হবে। এতে করে হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো কারিগরি জটিলতা তৈরি হবে না এবং সরকারি তহবিলের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনে ১০০ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে সরকার নতুন একটি সূত্র নির্ধারণ করেছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরির প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বা তার চেয়ে কিছুটা কম হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, এগারো থেকে বিশতম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় ১৩০ শতাংশের কাছাকাছি বাড়তে পারে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রার মানে ভারসাম্য আনা।

বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এবং ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকেন। নতুন বেতন স্কেলে বেতন বৃদ্ধির পর এই বিষয়গুলো নতুন স্কেলের সাথে সমন্বয় করা হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে যে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, তা মোকাবিলায় এই বেতন বৃদ্ধি সরকারি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। নতুন স্কেলে মূল বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবনায় নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য মোট ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে বেতন কাঠামোর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত না থাকলেও, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ধরণ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘নেট পাবলিক সার্ভিস’ খাতে প্রায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই বিশাল অংকের অর্থের একটি বড় অংশ নবম বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ব্যয় নির্বাহে ব্যবহৃত হবে। মূলত প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনার, যারা এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাথে মিলে এই সুবিধার আওতায় আসছেন, তাদের বেতন সমন্বয় করা হবে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলও একইভাবে দুই ধাপে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সে সময় প্রথমে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল এবং তার এক বছর পর বর্ধিত ভাতা কার্যকর করা হয়েছিল। এবারও সরকার সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, গত ১১ বছরের জমে থাকা স্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন বেতন স্কেল তাদের জীবনযাত্রার মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত করবে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের কার্যকারিতা ও নৈতিকতা ঠিক রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত অপরিহার্য।

তবে বেতন বৃদ্ধির এই বিষয়টি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা যেমন সতর্ক করেছেন, তেমনি সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা পাওয়ার অধিকার নিয়েও তারা ইতিবাচক মত দিয়েছেন। সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো এই বিশাল অংকের বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং একই সাথে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যেন নতুন বেতন স্কেলের কারণে আরও বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে নজর রাখা। সরকার যদি সঠিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবেই এই বেতন বৃদ্ধির সুফল প্রান্তিক পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীরা পরিপূর্ণভাবে ভোগ করতে পারবেন।

বর্তমানে সরকার বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ১৪ লাখ কর্মী ও ৯ লাখ পেনশনারের বেতন ও পেনশন বাবদ। নবম বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর এই ব্যয় বাবদ বরাদ্দ আরও বাড়বে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের সরকারি সেবার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা। সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তুষ্টি তাদের কর্মদক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবশেষে বলা যায়, আগামী জুলাই মাস সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি নতুন আশার দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর যখনই প্রজ্ঞাপন জারি হবে, তখন থেকে কর্মজীবী মানুষ তাদের জীবনযাত্রায় এক বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগটি দেশের সরকারি চাকরিজীবী পরিবারগুলোর জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন কেবল দেখার বিষয়, মাঠ পর্যায়ে এই বেতন স্কেলের সুফল কত দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছায়। সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী যদি বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হয়, তবে তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এক নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চার করবে। এই বেতন স্কেল কেবল সংখ্যাগত পরিবর্তনই নয়, বরং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হবে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category