ভারতে অনুষ্ঠিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সামিট ২০২৬’ (India AI Impact Summit)-এ গৃহীত ঐতিহাসিক ‘নয়া দিল্লি ডিক্লারেশন অন এআই ইমপ্যাক্ট’ (The New Delhi Declaration on AI Impact)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেছে বাংলাদেশ। ৮৯তম স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক ঐকমত্যের অংশ হলো। মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঠিক ব্যবহারের লক্ষ্যে এই ঘোষণা কার্যকর করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে এই সামিট সমাপ্ত হয়। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই ঘোষণাপত্রকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, রাশিয়া, ব্রাজিল ও সৌদি আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রসমূহ।
মূল নীতি: ‘সবার কল্যাণে, সবার সুখে’—এই মন্ত্রকে সামনে রেখে এআই-এর সুফল বিশ্বের সকল স্তরের মানুষের কাছে সমভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উদ্দেশ্য: শিল্পখাতের নেতা ও উদ্ভাবকদের মধ্যে সংলাপ জোরদার এবং এআই-চালিত টেকসই সমাধান বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করা।
নয়া দিল্লির এই সামিটে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রযুক্তিবিদ ও গবেষকদের অভাবনীয় সমাগম ঘটে:
নেতৃত্ব: ৫০০ জনের বেশি এআই বিশেষজ্ঞ এবং ১০০ জনের বেশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও অংশগ্রহণ করেন।
গবেষণা: সামিটে উপস্থিত ছিলেন ১৫০ জন শিক্ষাবিদ ও গবেষক এবং প্রায় ৪০০ জন প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (CTO)।
জনসফলতা: সাধারণ মানুষের মাঝেও এটি ব্যাপক সাড়া ফেলে, যেখানে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সামিটে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এআই-এর প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা। পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ের সদস্য সোনাক্ষী বর্ষ্ণী জানান, এই সামিট তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এআই-চালিত উদ্যোগ প্রদর্শনের সুযোগ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, আইআইটি রোপারের পরিচালক অধ্যাপক রাজীব আহুজা জানান, কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকদের সহায়তা প্রদানে এআই কীভাবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে, সে বিষয়ে এই প্ল্যাটফর্মে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
| স্বাক্ষরকারী দেশের অবস্থান | বাংলাদেশ (৮৯তম দেশ) |
| প্রধান লক্ষ্যসমূহ | অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণ |
| গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক দেশ | যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, জাপান, রাশিয়া, আরব আমিরাত |
| ভবিষ্যৎ প্রভাব | কৃষি ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহার |