• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন
Headline
২৪ হয়েছিল বলেই ২৬ সালে নির্বাচন হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই: ডিএমপি ক্যাপসুল সংকটে বাংলাদেশে ১৪ মাস ধরে বন্ধ ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন এআই কোম্পানি বেচে রাতারাতি বিলিয়নিয়ার ভারত ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত দুই তরুণ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের নিরাপত্তা সংকট জিটিএ ৬-এর প্রি-অর্ডারের তারিখ ও অফিশিয়াল কভার আর্ট প্রকাশ করল রকস্টার গেমস মুতা বিয়ে কি জায়েজ? বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করছে পাকিস্তান: উদ্বিগ্ন ভারত এক আঘাতে দুই শান্তিচুক্তি ভেঙে দিতে চান নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ: যে চাপে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প

ক্যাপসুল সংকটে বাংলাদেশে ১৪ মাস ধরে বন্ধ ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন

স্বাস্থ্য প্রতিবেদক / ১ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

দেশে তীব্র ক্যাপসুল সংকটের কারণে দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে শিশুদের জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সরকারের পূর্বনির্ধারিত নিয়মানুযায়ী বছরে দুইবার এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে এই কার্যক্রম আর আলোর মুখ দেখেনি। গত বছরের সেপ্টেম্বর এবং চলতি বছরের মার্চ মাসের দুটি ক্যাম্পেইন স্রেফ ক্যাপসুল না থাকার কারণে বাতিল করতে হয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রতার ফলে দেশের কোটি কোটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, পুষ্টির সামঞ্জস্য এবং দৃষ্টি সক্ষমতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কেন এই সংকট ও ইউনিসেফ থেকে কেনার সিদ্ধান্ত

এর আগে সরকারের নিজস্ব ‘অপারেশনাল প্ল্যান (OP)’-এর আওতায় উন্মুক্ত দরপত্র বা টেন্ডারের মাধ্যমে এই ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কেনা হতো। তবে ২০২৪ সালের জুনে স্বাস্থ্য খাতের সেই ওপি শেষ হওয়ার পর নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে দ্বিমত তৈরি হয় এবং পূর্বের দরপত্র বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের (UNICEF) মাধ্যমে ‘প্রি-ফাইন্যান্সিং’ পদ্ধতিতে ক্যাপসুল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।

এই নতুন সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান, ইউনিসেফের সাথে সরকারের একটি বিশেষ চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যদি এক রাউন্ড বা মেয়াদের ক্যাপসুল তাদের কাছ থেকে কিনে নেয়, তবে পরবর্তী রাউন্ডের প্রয়োজনীয় ক্যাপসুল ইউনিসেফ বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (Free of Cost) সরবরাহ করবে। মূলত এই আর্থিক সুবিধার কথা বিবেচনা করেই ওপির টেন্ডার বাতিল করে ইউনিসেফ থেকে ক্যাপসুল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে আমলাতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কারণে এই ক্যাপসুল হাতে পেতে দীর্ঘ বিলম্ব ঘটছে।

জুনের শেষে ক্যাম্পেইন শুরুর সম্ভাব্য প্রস্তুতি

গত মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত জানিয়েছিলেন যে, ১০ জুনের মধ্যে ইউনিসেফের কাছ থেকে ১ কোটির বেশি ক্যাপসুল পাওয়া যাবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ে সেই ক্যাপসুল দেশে এসে পৌঁছায়নি। ১০ জুনের সময়সীমা অস্বীকার করে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, “ক্যাম্পেইন বন্ধ রয়েছে তা বলা যাবে না, মূলত জোর চেষ্টা-তদবির চলছে এবং ক্যাপসুল পেতে কিছুটা দেরি হচ্ছে।”

তিনি নতুন তথ্য দিয়ে জানান, আগামী ১৫ জুনের মধ্যে বিদেশ থেকে বিমানে করে এই ক্যাপসুল দেশে এসে পৌঁছানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ক্যাপসুল প্রাপ্তি সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুনের মধ্যে দেশব্যাপী এই ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু করার জন্য মোটামুটি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এবার দুই কোটি ৬০ লাখ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সমপরিমাণ ক্যাপসুলই ইউনিসেফের কাছে চাওয়া হয়েছে।

শিশুদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকির শঙ্কা

এই ক্যাম্পেইন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের বড় আশঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে সাধারণত প্রতি বছর গড়ে দুই কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস (৫ বছর) বয়সী শিশুদের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।

আইসিডিডিআর,বি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের প্রতি দুজনের মধ্যে একজন অলরেডি ভিটামিন-এ-এর ঘাটতিতে ভুগছে। এই পরিস্থিতিতে ১৪ মাস ধরে ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ড. মুশতাক হোসেন সতর্ক করে বলেন, “ভিটামিন-এ নিয়মিত দেওয়ার কারণে এ দেশে রাতকানা রোগটি প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছিল। এটি শিশুদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এখন দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ থাকলে রাতকানা রোগটি আবার ফিরে আসার পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি এবং হামের মতো মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে এই ভিটামিনের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিশুদের হাম থেকে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তৈরি হতো এবং মৃত্যুর হারও বেশি ছিল।

ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের মূল উপকারিতা

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সঠিক শারীরিক বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বহুমুখী ভূমিকা পালন করে:

  • দৃষ্টিশক্তি উন্নয়ন: শিশুদের চোখ ভালো রাখে এবং রাতকানা রোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করে।

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি থেকে শিশুকে রক্ষা করে।

  • সংক্রমণ হ্রাস: শিশুদের ডায়রিয়া, হাম এবং মারাত্মক নিউমোনিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।

  • শারীরিক বৃদ্ধি ও ত্বক রক্ষা: শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে, সঠিক ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে সুরক্ষিত রাখে।

ড. মুশতাক হোসেন আরও যোগ করেন, ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের সাথে শিশুদের কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোও অত্যন্ত জরুরি। কারণ শিশুদের পেটে কৃমি থাকলে তা শরীরের সব পুষ্টি উপাদান শুষে নেয়, যা পরোক্ষভাবে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির দিকে ঠেলে দেয়। তাই আসন্ন জুনের শেষ সপ্তাহের ক্যাম্পেইনে ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের পাশাপাশি কৃমিনাশক কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category