জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ও কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিল্লার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বারবার হাতুড়ি পিটিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
একপর্যায়ে তিনি অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানায়, কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ নিয়ে জাতিসংঘের বার্ষিক বিতর্কে এ ঘটনা ঘটে।
অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কিউবার সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তার বক্তব্যের শুরুতেই কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সভাকক্ষ থেকে চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে খলিলুর রহমান হাতুড়ি পিটিয়ে তাদের থামার আহ্বান জানালেও প্রথমে তাতে কাজ হয়নি।
এ সময় ওয়াল্টজ ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, তিনি আশা করছেন, অধিবেশনের সভাপতি কিউবার প্রতিনিধিদলের আচরণ লক্ষ করছেন।
এরপর তিনি বলেন, হাভানায় কেউ এ ধরনের প্রশ্ন করলে তার কী পরিণতি হতে পারে, তা কল্পনা করতে হবে। ওয়াল্টজ আরও বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র, এটি জাতিসংঘ-আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে বা আমার সহকর্মীদের চুপ করাতে পারবেন না।
একপর্যায়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাকক্ষের সামনের দিকে এগিয়ে গেলে ওয়াল্টজ তাকে পডিয়াম থেকে দূরে সরে যেতে বলেন। এ পরিস্থিতিতে খলিলুর রহমান অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।
পরে জাতিসংঘের অধিবেশন পরিচালনার বিধি স্মরণ করিয়ে দিয়ে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন তিনি। তবে এ ক্ষেত্রে বক্তব্যের বিষয়বস্তু নয়, অধিবেশনের কার্যপ্রণালি নিয়ে আপত্তি জানানোর শর্ত দেওয়া হয়। সুযোগ পেয়ে রদ্রিগেজ পারিল্লা ওয়াল্টজের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং তার অভিযোগগুলোকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’বলে আখ্যা দেন।
এরপর বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ছাড়াই বক্তব্য শেষ করেন ওয়াল্টজ। বুধবারের ভোটাভুটিতে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধসংক্রান্ত প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিতে সদস্যদেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াল্টজের সমালোচনা করেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াল্টজের ঔদ্ধত্য তাকে ভুলিয়ে দিয়েছে যে তিনি জাতিসংঘে রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে বা কোনো সামরিক ইউনিটে নন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনীর সাবেক সদস্য ওয়াল্টজ গত বছরও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। সে সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালে ভুলবশত একটি সিগন্যাল গ্রুপ চ্যাটে এক সাংবাদিককে যুক্ত করে ফেলেন তিনি। ওই চ্যাটে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা ইয়েমেনে হুতিদের ওপর হামলার বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা করছিলেন।