• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
Headline
জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর: সমন্বয়কদের রাজনৈতিক মেরুকরণ জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে নাগরিক ভোগান্তি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা জ্বালানি সংকট কাটাতে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির কৌশলগত উদ্যোগ ইউরোপে কিশোরদের ভাড়াটে খুনি বানানোর আউটসোর্সিং বাণিজ্য সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন অ্যাডিশনাল আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন গৃহশিক্ষক নির্বাচন: কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু পরামর্শ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক স্থাপনা স্থাপন করতে চাই: মির্জা ফখরুল ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলেই মিলবে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় ঢাকায় ফের ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ, যুক্ত হতে পারে বেসরকারি খাত বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে নাগরিক ভোগান্তি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা

Reporter Name / ১ Time View
Update : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভুলত্রুটি সংশোধন করতে গিয়ে দেশের লাখ লাখ নাগরিককে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাজের তাগিদে এনআইডির নির্ভুল তথ্য অপরিহার্য হওয়ায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিভিন্ন স্তরের দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন। কেবল মাঠপর্যায়ের উপজেলা বা জেলা নির্বাচন কার্যালয়েই নয়, প্রান্তিক অঞ্চল থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে অনেককেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধান নির্বাচন ভবনে আসতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা সাধারণ সংশোধনী আবেদনের পেছনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতাকে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছেন সেবাগ্রহীতারা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গত ২০২০ সালের প্রারম্ভ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ছয় বছরেরও বেশি সময়ে দেশে এনআইডি তথ্য সংশোধনের আবেদন জমা পড়েছে ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই মেয়াদে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ হাজারের বেশি এবং দৈনিক ভিত্তিতে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি আবেদন কমিশনের কাছে পেশ করা হয়েছে। বিশাল এই চাহিদার জবাবে ইসি মোট জমা পড়া আবেদনের প্রায় ৯৮ শতাংশ বা ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি কেস নিষ্পত্তি করতে সমর্থ হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ লাখ ৬১ হাজার ১৪৬টি আবেদন গ্রাহকের পক্ষে অনুমোদিত হয়েছে এবং বৈষম্য বা প্রমাণাদির অভাবে বাতিল করা হয়েছে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি আবেদন। এখনো প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন বিভিন্ন দফতরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলো প্রধানত আবেদনের ধরন ও জটিলতার ওপর ভিত্তি করে ছয়টি প্রশাসনিক ক্যাটাগরিতে (ক, ক-১, খ, খ-১, গ এবং ঘ) ভাগ করে নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাধারণ বানান কিংবা মৌলিক সংশোধনের জন্য মাঠপর্যায়ের ‘ক’ ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা মোট আবেদনের প্রায় ৬৫ শতাংশ বা ৪১ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৭টি। জেলা কার্যালয়ের আওতাধীন ‘খ’ ক্যাটাগরিতে জমা পড়েছে ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৬টি এবং আঞ্চলিক দপ্তরের ‘গ’ ক্যাটাগরিতে জমা পড়েছে ৬ লাখ ২ ৭১৭টি আবেদন। এছাড়া বয়স বা বড় ধরনের তথ্য পরিবর্তনের জন্য নিবন্ধিত সর্বোচ্চ ‘ঘ’ ক্যাটাগরির প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮৮টি আবেদন সরাসরি এনআইডি মহাপরিচালকের দপ্তরে জমা হয়েছে।

এত বিশাল পরিমাণ আবেদন নিষ্পত্তির হার ইতিবাচক দেখালেও তথ্য হালনাগাদের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের দীর্ঘ তালিকা ও প্রত্যয়ন প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কোনো নাগরিকের নামের সাধারণ বানান পরিবর্তনের জন্য কেবল অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদই নয়, বরং ক্ষেত্রভেদে পিএসসি থেকে শুরু করে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ, পাসপোর্ট, বিয়ের ক্ষেত্রে কাবিননামা, সন্তান বা জীবনসঙ্গীর এনআইডি এবং পরিবারের সকল সদস্যের অনাপত্তিপত্র বা উত্তরাধিকার সনদ জমা দিতে হয়। অতিরিক্ত প্রমাণের তাগিদে চাকরিজীবীদের জন্য সার্ভিস বুক ও পেনশন বইয়ের নোটারি কপি এবং বয়স সংশোধনের জন্য সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রাপ্ত রেডিওলজিক্যাল মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট পর্যন্ত তলব করা হচ্ছে।

ইসির কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকেরা বলছেন যে এনআইডি তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি বা চক্র প্রতারণা ও তথ্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে থাকে। তাই সার্বিক এনআইডি ডেটাবেজের সুরক্ষা বজায় রাখা এবং অশুভ উদ্দেশ্যে তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা রুখতেই এই ধরণের কঠোর নিয়মকানুন ও দীর্ঘ যাচাই-বাছাই মেনে চলা জরুরি হয়ে পড়ে। ভুল প্রমাণের কারণে আবেদন বাতিল হলেও ভুক্তভোগীদের জন্য পরবর্তী সময়ে ইসি সচিব এবং কমিশনের কাছে আপিল ও পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত রাখা হয়েছে। অধিকন্তু, চলমান প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও হয়রানি মুক্ত করা যায় সে বিষয়ে এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালকের নেতৃত্বে কাজ শুরু করেছে একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি।

বর্তমানে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন ভোটারকে ২০০৮ সালে সংগৃহীত আধুনিক ছবিযুক্ত ডেটাবেজের ওপর ভিত্তি করে সেবা দিয়ে আসছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে মাঠপর্যায়ের অফিসে নাগরিক ঘুরানোর চিত্র ইসির দ্রুত সেবা দেওয়ার দাবিকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সাধারণ ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে জটিলতা দূরীকরণ এবং সেবা দেওয়ার আইনি বিধিমালা শিথিল করা না গেলে ইসির দরজায় সাধারণ মানুষের এই অযথা ঘোরাঘুরি ও দীর্ঘসূত্রতা সহজে থামবে না।

তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ২৪


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category